ডিজিসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ

ফাইলের খোঁজে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে দুদক

প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২০     আপডেট: ২০ জুলাই ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

সমকাল প্রতিবেদক

দুর্নীতির ফাইলের খোঁজে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চার সদস্যের একটি অনুসন্ধানী দল। গতকাল রোববার দুপুর পৌনে ২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত টানা এই অভিযানে দুদক কর্মকর্তারা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ বিভিন্ন কর্মকর্তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

এ সময় অনুসন্ধানী দল আরও তদন্তের স্বার্থে ফাইলপত্র চাইলেও মহাপরিচালক দুদক কর্মকর্তাদের বলেছেন, আগামীকাল (আজ সোমবার) দুদকের কাছে প্রয়োজনীয় ফাইলপত্র পৌঁছে দেওয়া হবে। দুর্নীতির অভিযোগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কক্ষে দুদকের এটিই প্রথম অভিযান। এর আগে এমন ঘটনা কখনও ঘটেনি বলে স্বাস্থ্য বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা সমকালকে জানিয়েছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে দুদকের অভিযানের এ ঘটনাকে 'নজিরবিহীন' আখ্যা দিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। এই অভিযানে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অন্দরে যে ক্ষতের সৃষ্টি হয়েছে, তা এখানকার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বছরের পর বছর বয়ে বেড়াতে হবে বলে মনে করছেন অনেকে। এই ক্ষত সারাতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নেতৃত্বে আমূল পরিবর্তনের পক্ষে মত দিয়েছেন কেউ কেউ।

তাদের অভিমত, দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্য বিভাগের অন্দরে দুর্নীতির যে সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, তা ভাঙতে হলে পুরো খাতটি ঢেলে সাজাতে হবে। দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের সরিয়ে যোগ্য ও সৎ কর্মকর্তাদের সমন্বয় ঘটাতে হবে। যাতে করোনা পরিস্থিতি উত্তরণের পাশাপাশি জনবান্ধব স্বাস্থ্য খাত গড়ে তোলা যায়। এ জন্য সরকারকে জরুরি উদ্যোগ নিতে হবে। না হলে করোনা পরিস্থিতি নিয়ে আগামীতে চরম মূল্য দিতে হবে।

দুর্নীতির ফাইলের খোঁজে দুদক : করোনাকালীন পরিস্থিতিতে ক্রয়-সংক্রান্ত ছাড়াও জেকেজি ও রিজেন্ট হাসপাতালকেন্দ্রিক দুর্নীতির ফাইলের খোঁজে গতকাল রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে অভিযান চালায় দুদকের একটি দল। দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে দুদকের উপপরিচালক আবু বক্কর সিদ্দিকের নেতৃত্বে চার সদস্যের অনুসন্ধানী দলটি রাজধানীর মহাখালীর স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নতুন ভবনে যান।

অনুসন্ধানী টিম প্রথমে যান অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদের কক্ষে। স্বাস্থ্য ভবনে দুদকের এ দলের আকস্মিক প্রবেশের ঘটনায় চাপা আতঙ্ক ও নানা সংশয় ছড়িয়ে পড়ে। বেসরকারি কয়েকটি টেলিভিশন চ্যানেল ঘটনাটি সরাসরি সম্প্রচারও করে।

বিকেল ৩টা ২৫ মিনিটে দুদকের ওই দলটি অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত একটি সূত্র জানায়, দুদকের দলটি মহাপরিচালকের কাছে করোনা প্রতিরোধ সংক্রান্ত কেনাকাটা, নিয়োগ ও নমুনা পরীক্ষায় জালিজাতির সঙ্গে যুক্ত জেকেজি ও রিজেন্ট হাসপাতালের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য-উপাত্ত চান। এসব ফাইলপত্র চেয়ে সময়সীমা বেঁধে দিয়ে লিখিত চিঠি দিলেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কেন তা পাঠায়নি, তারও কৈফিয়ৎ চান দুদক কর্মকর্তা।

এর জবাবে মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, 'সব ফাইলপত্র প্রস্তুত করার কাজ চলছে। আগামীকালের মধ্যে তা দুদকে পৌঁছে দেওয়া হবে।' রিজেন্ট হাসপাতালের নমুনা পরীক্ষার প্রতারণার কথা জানিয়ে গত ৭ জুন নিপসমের পরিচালক চিঠি দিলেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর তা আমলে না নিয়ে ৯ জুন পাল্টা চিঠি দিয়ে নমুনা পরীক্ষা অব্যাহত রাখার নির্দেশনা দেয়। দুদক কর্মকর্তার এ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে মহাপরিচালক জানান, কোন প্রেক্ষাপটে ওই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তার সবকিছু ফাইলে সংরক্ষিত আছে। আগামীকাল (আজ সোমবার) সবকিছু পৌঁছে দেওয়া হবে। করোনা-সংক্রান্ত সিএমএসডিকেন্দ্রিক কেনাকাটা ও বিশ্বব্যাংক প্রকল্পের কেনাকাটাসহ যাবতীয় তথ্য-উপাত্ত চেয়েছে দুদকের অনুসন্ধানী দলটি। জেকেজি-রিজেন্ট হাসপাতালের অনুমোদনের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও এ সময় বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

বিকেল সাড়ে ৩টায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কক্ষ থেকে বেরিয়ে দুদক উপপরিচালক আবু বক্কর সিদ্দিক সাংবাদিকদের জানান, তিন দিন আগে রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে করোনা চিকিৎসা-সংক্রান্ত চুক্তিপত্রসহ বিভিন্ন আনুষঙ্গিক তথ্য-উপাত্ত স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে চাওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া করোনা সংক্রান্ত কেনাকাটাসহ অন্যান্য দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়েও কাগজপত্র চাওয়া হয়েছিল। সেসব কাগজপত্র নিতেই তারা অধিদপ্তরের এসেছিলেন। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী কাগজপত্র সংগ্রহ না হওয়ায় তারা দিতে পারছেন না। তবে স্বাস্থ্য মহাপরিচালক তাদের জানিয়েছেন, আগামীকাল (আজ সোমবার) তারা দুদকে কাগজপত্র পৌঁছে দেবেন।

মহাপরিচালক সহযোগিতার মনোভাব প্রকাশ করেছেন কিনা- সাংবাদিকদের এ প্রশ্নের জবাবে দুদকের উপপরিচালক বলেন, সোমবার (আজ) তথ্য দিতে চেয়েছেন। কথা অনুযায়ী তথ্য দিলে বোঝা যাবে সহযোগিতা করছেন। আর না দিলে বোঝা যাবে সহযোগিতা করছেন না। সে ক্ষেত্রে দুদক আইনে অন্য ব্যবস্থার কথা বলা আছে। প্রসঙ্গত, দুর্নীতির কোনো অভিযোগ অনুসন্ধানের স্বার্থে দুদক কর্তৃক কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছে তথ্য চাইলে এবং নির্ধারিত সময়ে সেসব তথ্য দেওয়া না হলে অসহযোগিতার অভিযোগে সংশ্নিষ্টদের বিরুদ্ধে দুদক আইন-২০০৪ এর ১৯(৩) ধারায় মামলা করা হয়ে থাকে। এই মামলায় তিন বছরের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে।

দুদকের অভিযানের পর সাংবাদিকরা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের বক্তব্য জানার জন্য অধিদপ্তরের ভেতরে প্রবেশ করতে চাইলে কর্তব্যরত নিরাপত্তা কর্মী বাধা দেন।

প্রশ্নবিদ্ধ দুর্নীতিবিরোধী প্রচার : রাজধানীর মহাখালীর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ভবনের প্রবেশদ্বারে সাঁটানো একটি ডিজিটালি প্রিন্টেড পোস্টারে বড় হরফে লেখা আছে, 'আমি ও আমার প্রতিষ্ঠান পুরোপুরি দুর্নীতিমুক্ত'। পোস্টারের এ বক্তব্যের নিচে রয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদের নাম এবং স্বাক্ষর। ২০১৭ সালে মহাপরিচালক হিসেবে যোগ দেওয়ার পরপরই ডা. আবুল কালাম আজাদ অধিদপ্তরের পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে এই পোস্টার সাঁটানোর নির্দেশনা দিয়েছিলেন। সে অনুযায়ী সবগুলো প্রতিষ্ঠানের সামনেই ওই পোস্টার সাঁটানো হয়।

এ ধরনের পোস্টারের যৌক্তিকতা নিয়ে এ প্রতিবেদকের প্রশ্নের জবাবে একসময় মহাপরিচালক বলেছিলেন, 'স্বাস্থ্য খাতকে দুর্নীতিমুক্ত রাখার লক্ষ্যে এটি একটি সতর্কবার্তা। এই পোস্টারের মধ্য দিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগকে দুর্নীতিমুক্ত করার ও রাখার বার্তা দেওয়া হচ্ছে।' কিন্তু এই বার্তা দিয়েও শেষ পর্যন্ত শেষ রক্ষা হলো না। মহাপরিচালক নিজে ও তার প্রতিষ্ঠান- দুটিই এবার দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত।

এ বিষয়ে জানতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদকে ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক সমকালকে বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারেও এর উল্লেখ ছিল। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকার গঠনের পর যেখানেই দুর্নীতি হয়েছে, সেখানেই অভিযান চালিয়ে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দুর্নীতির বিরুদ্ধেও কার্যক্রম শুরু হয়েছে। কোনো প্রতিষ্ঠান কিংবা সংস্থা তো আর দুর্নীতি করতে পারে না। এসব প্রতিষ্ঠান বা সংস্থা পরিচালনার দায়িত্বে যারা থাকেন, তাদের মধ্যে হয়তো দু'একজন ব্যক্তি সম্পৃক্ত হতে পারেন। সেজন্য পুরো প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়ী করা যাবে না। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কিংবা অধিদপ্তরেও যেসব কর্মকর্তা দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত, তদন্ত করে কেবল তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এটিই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা।'

দুর্নীতির দায় নিয়ে পরস্পরকে দোষারোপ : আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে জেকেজি ও রিজেন্ট হাসপাতালের প্রতারকরা গ্রেপ্তার হওয়ার পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তারা পরস্পরকে দোষারোপ করে বক্তব্য-বিবৃতি দিচ্ছেন। গত ১১ জুলাই স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, 'স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে। চুক্তির আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ তাকে চিনতেন না, পরিচয় থাকা তো দূরের কথা।'

জেকেজির বিষয়ে এ বিজ্ঞপ্তিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর দাবি করে, 'প্রতিষ্ঠানটির প্রধান সমন্বয়ক আরিফুল চৌধুরী ওভাল গ্রুপ লিমিটেড নামে একটি ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট গ্রুপের স্বত্বাধিকারী। ওভাল গ্রুপ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে স্বাস্থ্যসেবা সপ্তাহ ২০১৮-এর ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের দায়িত্ব পালন করে। ওভাল গ্রুপের সঙ্গে আগে থেকেই কাজের অভিজ্ঞতা থাকার কারণে তাদের অনুমতি দেওয়া যায় বলে মনে করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বা মন্ত্রণালয়। কিন্তু পরবর্তীতে প্রতারণার অভিযোগ পাওয়া গেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জেকেজি গ্রুপের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে।'

পরদিন মন্ত্রণালয় থেকে ডিজির কাছে 'মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ' বলতে কি বোঝানো হয়েছে তার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ে ডিজি ব্যাখ্যা দিলেও মন্ত্রণালয় তা এখনও প্রকাশ করেনি। এ বিষয়ে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আবদুল মান্নান সমকালকে জানান, ডিজির ব্যাখ্যা তারা গভীরভাবে পর্যালোচনা করছেন। পর্যালোচনা শেষ হলেই আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাবেন।

এর আগে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক সমকালকে বলেছিলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের (ডিজি) অনুরোধে তিনি রিজেন্ট হাসপাতালের সঙ্গে চুক্তির অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন। এর বাইরে তিনি ওই প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে কিছু জানেন না। জেকেজিকে যুক্ত করার বিষয়েও তিনি কোনো সুপারিশ করেননি। এমনকি জেকেজির কাউকে তিনি চিনতেনও না। গ্রেপ্তারের পর টেলিভিশনে ও সংবাদপত্রে তাদের ছবি দেখেছেন। সুতরাং, এ বিষয়েও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ভালো বলতে পারবে।

বড় সংস্কার প্রয়োজন, মত বিশেষজ্ঞদের : স্বাস্থ্য বিভাগে জেঁকে বসা দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলতে বড় ধরনের সংস্কার প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, 'করোনা পরিস্থিতি না এলে হয়তো স্বাস্থ্য খাতের এমন নগ্ন চেহারা অদেখাই থেকে যেত। দুর্নীতির বাসা এত গভীরে প্রবেশ করেছে যে, সবকিছুতেই কমিশন আর দুর্নীতি! কমিশনের লোভে নির্ধারিত মূল্যের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি দামে মানহীন চিকিৎসা সামগ্রী ক্রয়, কি-না ঘটেছে? এসব দেখভালের দায়িত্ব যারা পালন করেন, তারা তো দায় এড়াতে পারেন না। কারণ দুর্নীতিবাজদের সরিয়ে সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া তো ব্যবস্থাপকদের কাজ। কিন্তু তারা সেটি করেননি। এর দায় তাদেরই নিতে হবে।'

একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. রশিদ-ই মাহবুব বলেন, 'পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বলা যায়, এক-দুইজন কর্মকর্তাকে বদলি কিংবা শাস্তি দিলেই দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনা বন্ধ হবে না। দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলতে হলে স্বাস্থ্য খাতকে ঢেলে সাজাতে হবে। সর্বোচ্চ থেকে সর্বনিম্ন পর্যায় পর্যন্ত দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি যোগ্য ও সৎ ব্যক্তিদের নেতৃত্বে আনতে হবে। এর মধ্য দিয়েই অনিয়ম-দুর্নীতিতে নিমজ্জিত ভঙ্গুর স্বাস্থ্য খাত ঘুরে দাঁড়াতে পারে।'

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, 'স্বাস্থ্য বিভাগের এই দুর্নীতির সিন্ডিকেট তো একদিনে গড়ে ওঠেনি। জবাবদিহিতা না থাকায় বছরের পর বছর ধরে শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। কারও বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। আবার আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হলেও বিভিন্ন ফাঁক দিয়ে তারা বেরিয়ে যায়। এভাবে দুর্নীতি লালন-পালন করা হচ্ছে। আশা করি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জিরো টলারেন্স নীতি অনুযায়ী সরকার দুর্নীতিবাজদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করবে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য খাতকে ঢেলে সাজিয়ে জনবান্ধব খাতে উন্নীত করবে।