গ্রেপ্তার এড়াতে এমডির করোনা নাটক

সাহাবউদ্দিন মেডিকেলের দুই সহযোগীসহ ৫ দিনের রিমান্ডে ফয়সাল

প্রকাশ: ২২ জুলাই ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

সমকাল প্রতিবেদক

মঙ্গলবার সাহাবউদ্দিন মেডিকেলের এমডি ফয়সাল আল ইসলামকে আদালতে হাজির করা হয় 	- সমকাল

মঙ্গলবার সাহাবউদ্দিন মেডিকেলের এমডি ফয়সাল আল ইসলামকে আদালতে হাজির করা হয় - সমকাল

সাহাবউদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফয়সাল আল ইসলাম র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তারের সময় নিজে করোনা রোগী বলে দাবি করেন। অথচ গ্রেপ্তারের পর পরীক্ষা করে রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। গ্রেপ্তার এড়াতে তিনি করোনা নাটক সাজিয়েছিলেন। এদিকে ফয়সাল আল ইসলাম ও তার দুই সহযোগীকে গতকাল মঙ্গলবার পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
গত রোববার গুলশানে সাহাবউদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অভিযান চালায় র‌্যাব। ভুয়া করোনা পরীক্ষাসহ নানা অনিয়ম ও প্রতারণার প্রমাণ পান র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে করোনা পরীক্ষার অনুমতি স্থগিত করার পরও করোনা পরীক্ষা অব্যাহত রেখেছিল হাসপাতালটি। অভিযানের সময় হাসপাতালটির সহকারী পরিচালক ডা. আবুল হাসনাত ও ইনভেন্টরি অফিসার শাহরিজ কবিরকে র‌্যাব আটক করে। সোমবার অনিয়ম ও প্রতারণার অভিযোগে হাসপাতালটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফয়সাল আল ইসলাম, ডা. আবুল হাসনাত ও শাহরিয়ার কবিরের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় মামলা করে র‌্যাব। এ মামলায় সোমবার ফয়সাল আল ইসলামকে র‌্যাব গুলশানের একটি হোটেল থেকে গ্রেপ্তার করে। ফয়সাল হাসপাতালের মালিক মোহাম্মদ সাহাবউদ্দিনের ছেলে। সাহাবউদ্দিনের নামে হাসপাতালের নামকরণ। তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-অর্থবিষয়ক সম্পাদক ও ঢাকা মহানগর উত্তরের সহসভাপতি ছিলেন। ২০০৮ সালে জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-১২ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। গত বছর তিনি বিএনপি ছাড়েন।
র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আশিক বিল্লাহ সমকালকে বলেন, গ্রেপ্তারের সময় ফয়সাল নিজেকে করোনা রোগী বলে দাবি করেন। গ্রেপ্তার এড়ানোর চেষ্টায় তিনি এ কথা বলেন। তাকে গ্রেপ্তারের পর করোনা স্যাম্পল পাঠানো হয় একটি হাসপাতালে। গতকাল রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। গতকাল ফয়সালকে গুলশান থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়। তিনি বলেন, র‌্যাপিড টেস্টের কিট হাসপাতালটি অবৈধভাবে আমদানি করেছিল। এসব কিট কীভাবে এবং কোথা থেকে আমদানি করা হয়েছে, এসব বিষয়ে অনুসন্ধান করা হচ্ছে।
ফয়সাল আল ইসলামসহ তিনজনকে গতকাল আদালতে হাজির করে পুলিশ। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার এসআই মশিউর রহমান তিনজনকে সাত দিন করে রিমান্ড আবেদন করেন। রিমান্ড শুনানি শেষে আদালত ফয়সালসহ তিনজনের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ঢাকা মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট আশেক ইমাম রিমান্ডের এই আদেশ দেন। অপর দুই আসামি হলেন- হাসপাতালটির সহকারী পরিচালক ডা. আবুল হাসনাত ও ইনভেন্টরি অফিসার শাহরিজ কবির।
সোমবার গুলশান থানায় দায়ের করা মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, সাহাবউদ্দিন মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল চোরাই পথে র?্যাপিড টেস্টের কিট এনে সরকারের অনুমোদন ছাড়াই করোনা রোগীর অ্যান্টিবডি টেস্ট করছিল। অনেক ক্ষেত্রে পরীক্ষা না করেই করোনা ও অ্যান্টিবডির ভুয়া সনদ দিয়ে আসছিল। ফয়সালের নির্দেশে আসামি চিকিৎসক আবুল হাসনাত অন্যদের সহযোগিতায় হাসপাতালে এসব অনিয়ম ও রোগীর কাছ থেকে প্রতারণা করেছে। এভাবে আসামিরা বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। হাসপাতালটির তিনতলায় হাইটপ ওয়ানস্টেপ র?্যাপিড টেস্ট লেখাযুক্ত বক্স পাওয়া যায়। তাতে ৯টি র?্যাপিড টেস্ট কিট ছিল। চারজনের অ্যান্টিবডি টেস্টের রিপোর্টও পাওয়া গেছে, যাতে ডা. আবুল হাসনাতের স্বাক্ষর রয়েছে।
র‌্যাব জানিয়েছে, হাসপাতালের নথিপত্রে নানা ধরনের অনিয়ম পাওয়া গেছে। আইসিইউতে করোনা পজিটিভ তিন রোগীর মধ্যে একজন নেগেটিভ রোগীকে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আর রাশিয়ার এক নাগরিকের করোনা নেগেটিভ হলেও তাকে কেবিনে রেখে করোনার চিকিৎসা দিয়েছে হাসপাতালটি। ভূতুড়ে বিল করেও মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। ডা. আবুল হাসনাত সব ভূতুড়ে বিলের কাগজে স্বাক্ষর করতেন। র‌্যাবের অনুসন্ধানে এই হাসপাতাল থেকে অন্তত এক হাজার ভুয়া করোনা রিপোর্টের তথ্য বেরিয়ে এসেছে।




বিষয় : করোনা নাটক