ঘরের চালে ২৫ দিন

প্রকাশ: ২৪ জুলাই ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

মমিনুল ইসলাম মঞ্জু, কুড়িগ্রাম

বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে ঘর। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে টিনের চালের ওপরেই থাকছেন বানভাসি জসিম উদ্দিন। কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কালারচর গ্রাম থেকে বুধবার বিকেলে তোলা ছবি 	- মমিনুল ইসলাম মঞ্জু

বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে ঘর। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে টিনের চালের ওপরেই থাকছেন বানভাসি জসিম উদ্দিন। কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কালারচর গ্রাম থেকে বুধবার বিকেলে তোলা ছবি - মমিনুল ইসলাম মঞ্জু

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার বল্লভেরখাস ইউনিয়নের সংকোশ নদী পাড়ের গ্রাম কালারচর। এ গ্রামে তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে নিজ বাড়ির টিনের ছাপড়া ঘরের চালে বসবাস করছিলেন বানভাসি জসিম উদ্দিন এবং তার পরিবার। এভাবে ২৫ দিন থাকার পর ভাগ্য প্রসন্ন হয়েছে। তাদের এই দুঃসহ বসবাসের বিষয়টি নজরে এসেছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনায় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের তত্ত্বাবধানে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে এই পরিবারকে সেখান থেকে সরিয়ে এনে পার্শ্ববর্তী মোল্লাপাড়া গ্রামের আনছার আলীর বাড়িতে রাখা হয়েছে। সেইসঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে চালসহ খাদ্যসামগ্রী সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
পেশায় দিনমজুর জসিম উদ্দিন স্থানীয় সাংবাদিকদের জানান, প্রথম দফায় বন্যা শুরু হওয়ার পর বাড়িতে পানি উঠলেও ওই অবস্থায় চার দিনের মতো বাড়িতেই ছিলেন। এরপর পানি বেড়ে বুকসমান হয়ে যায়। তখন বাধ্য হয়ে স্ত্রী শাহিনারা বেগম এবং চার সন্তান নিয়ে আশ্রয় নেন বাড়ির টিনের ছাপড়া ঘরের চালে। চালের ওপর পলিথিন টানিয়ে তার নিচে বৃষ্টি এবং প্রচণ্ড রোদের মধ্যে ২৫ দিন কাটিয়েছেন। তোলা চুলায় একবেলা রান্না করে তা-ই দিনরাত খেয়েছেন। নলকূপ ও ল্যাট্রিন পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় কলাগাছের ভেলা বানিয়ে বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ করে এনেছেন। প্রাকৃতিক কাজও সেরেছেন। বাড়িতে এখনও কোমরসমান পানি থাকায় নিচে নেমে ঘরে ঢুকতে পারেননি।
জসিম উদ্দিন আরও জানান, দিনমজুরির কাজ বন্ধ থাকায় বেকার হয়ে বসে আছেন। এজন্য কোনো কিছু কেনার ক্ষমতা এখন নেই বললে চলে। ফলে কয়েক দিন ধরে খাদ্য সংকটে মানবেতর জীবনযাপন করছিলেন। এ অবস্থায় সরকারি কোনো ত্রাণ সহায়তাও পাননি বলে অভিযোগ তার। তিনি আরও জানান, কাজ করার জন্য অনেক দিন আগে লালমনিরহাট জেলায় গিয়েছিলেন। সেখানে পরিবার-পরিজনসহ বসবাস করতেন। এজন্য সেখানে ভোটার তালিকাভুক্ত হয়েছেন। এজন্য ভোটার আইডি কার্ড সেখানকার ঠিকানার হওয়ায় এখানে ত্রাণের তালিকায় তাদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
বল্লভেরখাস ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আকমল হোসেন জানান, ত্রাণ সহায়তা দেওয়ার তালিকা ভোটার তালিকা এবং ভোটার আইডি কার্ড দেখে তৈরি করা হয়ে থাকে। এজন্য পরিবারটি নাম বাদ পড়ে থাকতে পারে। তার পরও যেহেতু তারা বর্তমানে এই ইউনিয়নে বসবাস করছেন, তাদের অবস্থার কথা জানালে বিশেষ ব্যবস্থায় সহায়তা দেওয়া যেত। এ অবস্থায় পরিবারটির বিষয়ে খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃহস্পতিবার তাদের নিরাপদ আশ্রয়ে আনা হয়েছে। ব্যক্তিগত তহবিল থেকে এক বস্তা চাল কিনে দিয়েছেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নূর আহমেদ মাছুম জানান, পরিবারটিকে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে আসার পাশাপাশি খাদ্যসামগ্রী সহায়তা দেওয়া হয়েছে। মানবিক কারণে তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান অব্যাহত থাকবে।