উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

মাদারগঞ্জে বাঁধ ভেঙে ১০ গ্রাম প্লাবিত

প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২০     আপডেট: ২৫ জুলাই ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

সমকাল ডেস্ক

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

নদনদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উত্তরের জেলা গাইবান্ধা ও নওগাঁ এবং মধ্যাঞ্চলের জেলা মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর, জামালপুর ও নেত্রকোনায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। সিরাজগঞ্জে পাউবোর শিমলা স্পারের বাকি অংশ যমুনার পেটে চলে গেছে। এদিকে বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে বাগেরহাট ও জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি গ্রাম। পশ্চিমে ভারত থেকে আসা পানিতে ডুবে গেছে মেহেরপুরের অন্তত ২২টি গ্রাম। এ ছাড়া হবিগঞ্জের দুটি উপজেলা বন্যা ও ভাঙনের কবলে পড়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-
ফরিদপুর অফিস
: গত দশ দিন যাবত বন্যার পানিতে ফরিদপুরের সদর, চরভদ্রাসন ও সদরপুর উপজেলার বিশ হাজার পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। সড়ক উপচে ও বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে এসব উপজেলার আরও বিস্তীর্ণ এলাকা। এ ছাড়া আড়িয়াল খাঁ ও কুমার নদের পানি বেড়ে বিভিন্ন খালনালা দিয়ে পানি প্রবেশ করেছে পার্শ্ববর্তী ভাঙ্গা ও নগরকান্দা উপজেলায়ও। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী জেলার পাঁচটি উপজেলার ৩০ ইউনিয়নের দেড় শতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এদিকে, শুক্রবার দুপুরে ফরিদপুর ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের আয়োজনে সদর উপজেলার আলীয়াবাদ ইউনিয়নের কাদেরিবাজার এলাকায় বেড়িবাঁধে আশ্রয় নেওয়া এক হাজার মানুষের মধ্যে বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

গাইবান্ধা : গাইবান্ধায় শুক্রবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্রের পানি তিস্তামুখ ঘাট পয়েন্টে, ঘাঘট নদীর পানি গাইবান্ধা শহর পয়েন্টে এবং করতোয়ার পানি গোবিন্দগঞ্জের কাটাখালী পয়েন্টে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। বন্যার পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় লোকজন পুনরায় উঁচু স্থান, বাঁধ ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিতে শুরু করেছে।

মাদারগঞ্জ (জামালপুর) : মাদারগঞ্জ উপজেলার বালিজুড়ি ইউনিয়নের নাদাগাড়ী গ্রামের বন্যানিয়ন্ত্রণ বাঁধের পানির চাপে ভেঙে গেছে। গতকাল শুক্রবার সকালের দিকে বাঁধটি ভেঙে উপজেলার ১০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় বিশ হাজার মানুষ। হঠাৎ করে বাঁধটি ভেঙে যাওয়ায় খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছে শত শত মানুষ। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই ৫০টি কাঁচাপাকা বাড়ি পানির তোড়ে ভেসে যায়।

সিরাজগঞ্জ : সিরাজগঞ্জে পাউবোর শিমলা স্পারের বাকি অংশ যমুনার পেটে চলে গেছে। কোনোভাবেই টিকলো না পাউবোর স্পারের শেষ চিহ্ন। দেড় মাস আগে স্পারটির প্রথমে স্যাঙ্ক বা মাটির অংশ চলে যায়। এরপর পাকা অবকাঠামো পানির ওপর দাঁড়িয়ে ছিল। জিও ব্যাগে বালি ভরে সেটি ঠেকাতে নিষ্ম্ফল চেষ্টা ছিল পাউবোর। শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত যমুনা গর্ভে বিলীন হলো পাকা অবকাঠামোসহ দেড়শ' মিটার স্পারটি।

নদীতে স্পারটি ভেসে যাওয়ায় বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত স্পারের পশ্চিমে ডজনখানেক ঘরবাড়ি চলে যায় যমুনার পেটে। ঘরবাড়ি ও বসতভিটা হারিয়ে অসহায় মানুষ বাঁধের ওপর খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছে।

নওগাঁ : নওগাঁয় দ্বিতীয় দফায় বন্যায় আত্রাই, রানীনগর, মান্দা ও সাপাহার উপজেলার বেশ কিছু গ্রাম নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে ফসলের মাঠ। এদিকে বন্যাকবলিত এলাকাগুলোয় আবার নতুন করে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় চরম বিপাকে পড়েছে বানভাসিরা।

মেহেরপুর : লাগাতার ১৫-২০ দিনের ভারি বর্ষণে ও ভারতের তেহট্ট থানা এলাকা থেকে নেমে আসা ঢলে ডুবে গেছে মেহেরপুরের তিন উপজেলার ২২ গ্রামের নিম্নাঞ্চল। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ। অন্তত ৮০ কোটি টাকার মৌসুমি ফসল ক্ষতির মুখে।

হবিগঞ্জ : টানা বৃষ্টি ও উজানের ঢল বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে হবিগঞ্জের ভাটি আজমিরীগঞ্জ ও বানিয়াচঙ্গের হাওরে। এতে ওই দুই উপজেলায় হাজারো পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া আজমিরীগঞ্জ-শিবপাশা সড়কটি বন্যার পানিতে ভাঙনের কবলে পড়েছে।

মানিকগঞ্জ : পদ্মা ও যমুনার পানি মা?নিকগ?ঞ্জের আরিচা প?য়ে?ন্টে শুক্রবার থে?কে আবা?রও বাড়?তে শুরু করেছে। এতে শাখা নদীর পা?নি অব্যাহতভাবে বৃদ্ধির ফলে জেলার বন্যা পরিস্থিতি মারাত্মক অবনতি হয়েছে। জেলার শিবালয়, দৌলতপুর, হরিরামপুর, ঘিওর, সাটু?রিয়া ও সদর উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি ক্রমশ অবনতির দিকে যাচ্ছে। এরই মধ্যে জেলা শহ?রের আশপাশের অধিকাংশ এলাকাও প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে লক্ষাধিক মানুষ।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যাকবলিত এলাকায় চালসহ শুকনো খাবার বিতরণ করা হলেও তা পর্যাপ্ত নয় বলে জানিয়েছে বানভাসি মানুষ।

নেত্রকোনা : জেলার বিভিন্ন নদনদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন উপজেলায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে দুর্বিষহ জীবনযাপন করছে। তলিয়ে গেছে ফিশারি ও পুকুর। জেলার কয়েকটি নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বাগেরহাট : বাগেরহাটে বাঁধ ভেঙে কেশবপুর গ্রামের শতাধিক চিংড়ি ঘের, ঘরবাড়িসহ লোকালয় প্লাবিত হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে ভৈরব নদের জোয়ারের পানির চাপে সদর উপজেলার কেশবপুর গ্রামের মুনিগঞ্জ সেতু সংলগ্ন বাঁধ ভেঙে যায়। এতে বসতঘর ও রান্নাঘরে পানি উঠে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে কেশবপুরের শতাধিক পরিবার।