সমস্যা পিছু ছাড়ছে না ইআরএলের প্রকল্পে

প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২০     আপডেট: ২৭ জুলাই ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

তৌফিকুল ইসলাম বাবর, চট্টগ্রাম

অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিশোধনে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের (ইআরএল) দ্বিতীয় ইউনিট প্রকল্প বাস্তবায়নে সমস্যা যেন পিছু ছাড়ছে না। ঠিকাদার নিয়োগে জটিলতাসহ নানা কারণে এর কাজ এখনও শুরু হয়নি। ইতোমধ্যে প্রকল্পে নিয়োগ করা ভারতীয় পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় চুক্তির মেয়াদ নতুন করে বাড়াতে হয়েছে। ইআরএল ইউনিট-২ প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬ হাজার কোটি টাকা। তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু করতে না পারায় এই ব্যয়ও আরও বাড়তে পারে।
পরিশোধিত জ্বালানি তেলের আমদানি কমাতে এবং দেশেই তেল পরিশোধন সক্ষমতা বাড়াতে ইআরএল ইউনিট-২ স্থাপন করছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। আর বিপিসির একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ইআরএল। বর্তমানে ইআরএলের পরিশোধন ক্ষমতা ১৫ লাখ টন। আর ইআরএল ইউনিট-২-এর পরিশোধন ক্ষমতা হবে প্রথম ইউনিটের দ্বিগুণ বা ৩০ লাখ টন। দুটি ইউনিট মিলে পরিশোধন ক্ষমতা হবে ৪৫ লাখ টন। দেশে মোট জ্বালানি তেলের চাহিদা ৫০ থেকে ৬০ লাখ টন। ইআরএলের দ্বিতীয় ইউনিট হলে দেশে মোট তেলের চাহিদার তিন-চতুর্থাংশই পূরণ করা সম্ভব হবে। ইআরএলের প্রথম ইউনিট থেকে ১৭ ধরনের পেট্রোলিয়াম সামগ্রী উৎপাদন হয়। সবচেয়ে বেশি পরিশোধন হয় ডিজেল। বিমানের জ্বালানি জেট ফুয়েলও এই কেন্দ্রে উৎপাদন হয়। দ্বিতীয় ইউনিট প্রকল্পে থাকছে ১০টি প্রসেসিং ইউনিট। এখান থেকে ফিনিশড প্রোডাক্ট হিসেবে এলপিজি, গ্যাসোলিন ইউরো-৫, জেট এ-১, ডিজেল ইউরো-৫, গ্রুপ-৩ বেজ অয়েল, ফুয়েল অয়েল, বিটুমিন ও সালফার পাওয়া যাবে।
ইআরএলের দ্বিতীয় ইউনিট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয় সেই ২০১০ সালে। কিন্তু ঠিকাদার নিয়োগসহ নানা জটিলতায় বছরের পর ধরে প্রকল্পটি স্থবির হয়ে থাকে। তবে পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মেয়াদ বাড়ানোর পর এখন প্রকল্পের ঠিকাদার নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা হবে। এতে প্রকল্পের কাজে গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। কাজ শুরুর তিন বছরের মধ্যে উৎপাদন শুরু করা যাবে বলে জানিয়েছেন প্রকল্প সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তারা।
২০১৬ সালের ১৯ এপ্রিল ইআরএল ইউনিট-২-এর প্রজেক্ট কনসাল্ট প্রতিষ্ঠান ভারতের ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্ডিয়া লিমিটেডের সঙ্গে বিপিসির তিন বছর মেয়াদি চুক্তি স্বাক্ষর হয়। যার চুক্তিমূল্য ছিল ১১০ কোটি ৭৪ লাখ টাকা। গত বছরের ১৮ এপ্রিল এই চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়েছে। ফলে মন্ত্রিপরিষদের ক্রয়সংক্রান্ত কমিটির এক সভায় পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে চুক্তিমূল্য দাঁড়িয়েছে ১৮৩ কোটি ৬১ লাখ টাকা।
ইআরএলের প্রথম তেল শোধনাগার ইউনিটটি নির্মাণ করেছিল ফরাসি প্রতিষ্ঠান টেকনিপ। ১৯৬৩ সালে উদ্যোগ নেওয়া হলেও ১৯৬৮ পরিশোধনাগারটি উৎপাদনে যায়। দ্বিতীয় ইউনিটটির নকশাও তৈরি করেছে টেকনিপ। এ কাজে ব্যয় হচ্ছে ৩২২ কোটি টাকা। প্রকল্পটির প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট কনসাল্ট (পিএমসি) হিসেবে কাজ করছে ভারতের ইঞ্জিনিয়ার্স ইন্ডিয়া লিমিটেড। তাদের তত্ত্বাবধানে নির্মাণ করা হবে প্রকল্পের ভৌত কাজ ও বসানো হবে যন্ত্রপাতি। টেকনিপ ২০ বছরের গ্যারান্টি দিয়ে ইআরএলের প্রথম ইউনিটটি স্থাপন করলেও সেটি ইতোমধ্যে ৫০ বছর পার করেছে। স্বাধীনতার আগে প্রতিষ্ঠিত ইআরএলের ইআরএল ইউনিট-২ প্রকল্পই হচ্ছে এর সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রথম উদ্যোগ।
এ প্রসঙ্গে ইআরএল ইউনিট-২-এর প্রকল্প পরিচালক ও ইআরএলের মহাব্যবস্থাপক আনোয়ার সাদাত সমকালকে বলেন, 'প্রকল্পটির কাজ থেমে আছে- এমনটি নয়। ইনস্টলেশন অব ইআরএল ইউনিট-২ একটি বড় প্রকল্প হওয়ায় এটি বাস্তবায়নে সময় লেগে যাচ্ছে। ভারতীয় পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মেয়াদ বাড়ানোর চুক্তির পর এখন প্রকল্পের নকশা চূড়ান্ত করার কাজ চলছে। এরপর ঠিকাদার নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হবে। তারপর প্রকল্পের মাঠ পর্যায়ের কাজ শুরু হবে।'