বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে

প্রকাশ: ০১ আগস্ট ২০২০   

সমকাল প্রতিবেদক

আগামী ২৪ ঘণ্টায় মুন্সীগঞ্জসহ দেশের অনেক জেলায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। শুক্রবার সকালে মুন্সীগঞ্জের কুমারীভোগ এলাকা থেকে তোলা ছবি - ফোকাস বাংলা

আগামী ২৪ ঘণ্টায় মুন্সীগঞ্জসহ দেশের অনেক জেলায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। শুক্রবার সকালে মুন্সীগঞ্জের কুমারীভোগ এলাকা থেকে তোলা ছবি - ফোকাস বাংলা

দেশের প্রধান প্রধান নদনদীর পানি কমতে শুরু করেছে। এতে ঢাকাসহ দেশের বেশিরভাগ বন্যাদুর্গত জেলায় পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। তবে ভারতের জলপাইগুড়িতে অবিরাম বৃষ্টির প্রভাবে উত্তরাঞ্চলে ধরলা এবং ব্রহ্মপুত্রের পানি একদিনের ব্যবধানে আরও বেড়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এ তথ্য জানিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, বর্তমান ধারা অনুযায়ী আগামী দু’দিনের মধ্যে বন্যার পানি দ্রুত নামতে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় গাইবান্ধা, বগুড়া, জামালপুর, নাটোর, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, চাঁদপুর, রাজবাড়ী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, শরীয়তপুর এবং ঢাকা জেলায় বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। কুড়িগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জ জেলা এবং ঢাকা সিটি করপোরেশনের নিচু এলাকাসমূহে পরিস্থিতি একই রকম থাকতে পারে।

এদিকে, চলতি সপ্তাহের মধ্যে বেশিরভাগ জেলা থেকে বন্যার পানি পুরোপুরি সরে যেতে পারে বলে আগেই জানিয়েছিলেন বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান ভুঁইয়া। বন্যার পানি নিচের দিকে নেমে যাওয়ার সময় নদীভাঙন ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে দুর্গত এলাকায় অনেক ক্ষয়ক্ষতির খবর মিলেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের পর্যবেক্ষণে নদনদীগুলোর ১০১টি পয়েন্টের মধ্যে ৩০টিতে বৃদ্ধি পেয়েছে, কমেছে ৬৯টি পয়েন্টে। ২৭টি পয়েন্টে নদনদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে। বিভিন্ন জেলায় বন্যা পরিস্থিতি উন্নতির দিকে হলেও সংলগ্ন নদনদীর পানি এখনও বিপদসীমার ওপর দিয়ে বইছে। বিশেষ করে কালীগঙ্গায় ৯৭ সেন্টিমিটার, ধলেশ্বরীতে ৮৯ সেন্টিমিটার, আত্রাইয়ে ৮৬ সেন্টিমিটার, পদ্মায় ৮৩ সেন্টিমিটার এবং যমুনার পানি বিপদসীমার ৫৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে যাচ্ছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ৩০ জুলাইয়ের প্রতিবেদন মতে, চলমান বন্যা পরিস্থিতিতে ৩১টি জেলা উপদ্রুত হয়েছে। দেড়শ'র বেশি উপজেলায় বন্যাকবলিত সাড়ে নয়শ' ইউনিয়নে পানিবন্দি পরিবারের সংখ্যা ১০ লাখ ৫৮ হাজার ৪৪৭টি। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন প্রায় ৫১ লাখ মানুষ। এ পর্যন্ত ৪১ জনের মৃত্যুর তথ্য রয়েছে। দেড় হাজারের বেশি আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই নিয়েছেন ৬৫ হাজার ৩৯০ জন মানুষ। ৭৮ হাজারের বেশি গবাদিপশুরও জায়গা হয়েছে সেখানে। সারাদেশে বন্যাদুর্গত এলাকায় কাজ করছে ৩৮৭টি মেডিকেল টিম।