কক্সবাজারে সাবেক সেনা কর্মকর্তা নিহত: উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন

প্রকাশ: ০৩ আগস্ট ২০২০     আপডেট: ০৩ আগস্ট ২০২০   

বিশেষ প্রতিনিধি

সিনহা রাশেদ খান

সিনহা রাশেদ খান

কক্সবাজারের টেকনাফের মেরিন ড্রাইভ রোডে চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সাবেক মেজর সিনহা রাশেদ খান নিহত হওয়ার ঘটনায় আরও উচ্চ পর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে সরকার। 

এই কমিটির আহবায়ক করা হয়েছে যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তাকে। তিনি হলেন, চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, কক্সবাজারের ১০ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি ও এরিয়া কমান্ডার মনোনিত একজন প্রতিনিধি; যিনি সশস্ত্রবাহিনী বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রতিনিধি হিসেবে থাকবেন, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজির মনোনিত একজন প্রতিনিধি এবং কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহা. শাজাহান আলি।

এই কমিটি গঠনের বিষয়ে ১ আগস্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব শাহে এলিদ মাইনুল আমিন স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শামলাপুর এলাকায় মেরিনড্রাইভের চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে গত ৩১ জুলাই আনুমানিক রাত ৯টায় অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা রাশেদ খানের মৃত্যুজনিত ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের লক্ষ্যে কর্মপরিধিসহ একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হলো।

প্রজ্ঞাপনে কর্মপরিধির বিষয়ে বলা হয়েছে, এই কমিটি উল্লেখিত ঘটনার বিষয়ে সরেজমিন তদন্তপূর্বক ঘটনার কারণ, উৎস এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে সার্বিক বিষয় বিশ্লেষণপূর্বক সুস্পষ্ট মতামতসহ ৭ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবে।

উল্লেখ্য, এরআগে কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহা. শাজাহান আলিকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল।

শুক্রবার রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর এলাকায় চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা রাশেদ খান।

ঘটনার পর কক্সবাজার পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, রাশেদ তার পরিচয় দিয়ে ‘তল্লাশিতে বাধা দেন’। পরে ‘পিস্তল বের করলে’ চেকপোস্টে দায়িত্বরত পুলিশ তাকে গুলি করে। তবে পুলিশের এমন ভাষ্য নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন ওঠে। ঘটনার প্রত্যক্ষর্শী নিহত সাবেক সেনা কর্মকর্তার এক সঙ্গীর বক্তব্যের সঙ্গে পুলিশের ভাষ্যের কিছুটা অমিল রয়েছে বলে একটি সূত্র জানায়। এমন প্রেক্ষাপটে পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হলো।