ঈদযাত্রায় প্রাণ গেছে ৩১৭ জনের: যাত্রী কল্যাণ সমিতি

প্রকাশ: ০৯ আগস্ট ২০২০     আপডেট: ০৯ আগস্ট ২০২০   

সমকাল প্রতিবেদক

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

এবার ঈদুল আজহার আগে ও পরে ১৩ দিনে সড়ক-মহাসড়কে ২০১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৪২ জন নিহত হয়েছন। আর এতে ৩৩১ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া আরও ৩৭টি রেল ও নৌ দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে আরও ৭৫ জনের। সবমিলিয়ে এবারে ঈদযাত্রায় ৩১৭ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৩৭০ জন।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি নামে একটি সংগঠনের প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। রোববার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী প্রতিবেদন তুলে ধরেন।

এতে বলা হয়, ২৬ জুলাই থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত ১৩ দিনের দুর্ঘটনার তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। করোনাভাইরাসের কারণে এবছর গণপরিহন সীমিত আকারে চালু থাকায় ঈদযাত্রায় ব্যক্তিগত পরিবহন ও ছোট যানবাহনের চলাচল বৃদ্ধি পায়। এতে দুর্ঘটনা ও প্রানহানি বেড়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘এবারের ঈদযাত্রায় সবচেয়ে বেশি ২৬টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে গত ৪ আগস্ট। এতে নিহত হন ৩২ জন। গত ৩১ জুলাই আহত হন ৫৫ জন। এবারের ঈদযাত্রায় সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে মোটরসাইকেলে। ৮৮ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১০৬ জন নিহত এবং ৬৫ আহত হয়েছেন। অন্যদিকে গাড়ি চাপা দেওয়ার ঘটনা ৫২.২৩ শতাংশ ঘটেছে। আগামী ঈদে এ দু’টি ঘটনা এড়ানো সম্ভব হলে সড়ক দুর্ঘটনার প্রায় ৯৬.০১ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। ঈদযাত্রায় সড়কে দুর্ঘটনায় ১০২ জন চালক, ৬৩ জন পথচারী নিহত হয়েছেন।’

দুর্ঘটনার ধরণ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মোট সংঘটিত দুর্ঘটনার ৩২ দশমিক ৩৩ শতাংশ জাতীয় মহাসড়কে, ৪৯ দশমিক ২৫ শতাংশ আঞ্চলিক মহাসড়কে এবং ১৩ দশমিক ৪৩ শতাংশ ফিডার রোডে সংঘটিত হয়েছে। সংঘটিত মোট দুর্ঘটনার ৩ দশমিক ৯৮ শতাংশ ঢাকায় হয়েছে।

ঈদযাত্রায় ছোটখাট চারটি রেল দুর্ঘটনায় একজনের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু বন্যার এই সময়ে নৌ পথে ছিল মৃত্যুর মিছিল। ৩৩ টি ছোট-বড় বিচ্ছিন্ন নৌ দুর্ঘটনায় ৭৪ জনের প্রাণ গেছে।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব বলেন, এবারের ঈদে মাত্র ১৫ থেকে ২০ শতাংশ যাত্রীর যাতায়াত করেছেন। সেই তুলনায় দুর্ঘটনা অস্বাভাবিক বৃদ্ধি পেয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক কাজী সাইফুন নেওয়াজ, ড্রাইভার্স ট্রেনিং সেন্টারের চেয়ারম্যান নুর নবী শিমু, যাত্রী কল্যাণ সমিতির সহ-সভাপতি তাওহীদুল হক লিটন প্রমুখ।