গত দু'বছরেও আলোর মুখ দেখেনি নড়াইলের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চিত্রশিল্পী এসএম সুলতান সংগ্রহশালা সংলগ্ন সুলতান ঘাট। ঘাটটি নির্মাণের শুরুতেই থমকে গেছে। এ ছাড়া সুলতান সংগ্রহশালার পূর্ব পাশে একটি বেদির ওপর দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা ইঞ্জিনচালিত দ্বিতল ভ্রমণ তরী 'ভ্রাম্যমাণ শিশু স্বর্গ' কয়েক বছর ধরে অযত্ন-অবহেলায় পড়ে রয়েছে।
এদিকে চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের ৯৬তম জন্মবার্ষিকী আজ। ১৯২৪ সালের ১০ আগস্ট নড়াইলের মাছিমদিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। মারা যান ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর। করোনা সংকটের কারণে এ বছর শিল্পীর জন্মদিনে সীমিতভাবে কয়েকটি আয়োজনের মধ্যে থাকছে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে শিল্পীর মাজারে পুষ্পমাল্য অর্পণ, কোরআনখানি ও মিলাদ মাহফিল।
সংশ্নিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দ্বিতল নৌকাটি চিত্রা নদীর পাড়ে যথাযথভাবে সংরক্ষণ, পর্যটকদের বসার ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন এলাকা থেকে নৌপথে আসা নৌকাও ভেড়ানোর ব্যবস্থাসহ পর্যটক আকর্ষণীয় করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এজন্য পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০১৮ সালের জুনে কয়েকটি পিলার ঢালাইয়ের মধ্য দিয়ে 'সুলতান ঘাট' নির্মাণকাজ শুরু করা হলেও নকশা পরিবর্তন ও আর্থিক সমস্যায় দুই মাস পরেই কাজ বন্ধ হয়ে যায়।
নড়াইল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ নাহিদ পারভেজ বলেন, জেলা প্রশাসকের পরামর্শক্রমে নতুন নকশায় এক কোটি টাকা ব্যয়ে সুলতান ঘাট নির্মাণের জন্য ২০১৯ সালের মাঝামাঝি একটি প্রজেক্ট নড়াইল-২ আসনের এমপি মাশরাফি বিন মুর্তজার সুপারিশে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে এটি আর এগোয়নি। আমরা চেষ্টা করছি ওই প্রজেক্ট পাস করানোর জন্য।
সরেজমিন সুলতান ঘাট এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, পিলারের চারপাশে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ঝোপঝাড়ে ভরে গেছে। রডগুলোতে মরিচা ধরেছে। পিলারের রডগুলো এলোমেলোভাবে থাকায় দর্শনার্থীসহ স্থানীয়দের জন্য বিপদের কারণ হয়েছে।
এদিকে সুলতানের নৌকা 'ভ্রাম্যমাণ শিশু স্বর্গ'-এর বিভিন্ন অংশের কাঠে ঘুণে ধরছে ও পচে যাচ্ছে। ভার সহ্য করতে না পেরে নৌকার তলা বসে যাচ্ছে। কাঠের খুঁটি নষ্ট ও ভেঙে যাওয়ায় নৌকার উত্তর পাশের দোতালার কক্ষটি একতলার ছাদের সঙ্গে মিশে যাচ্ছে। উত্তর পাশের নৌকার গলুইয়ের কাঠে ঘুণ ও পচন ধরেছে।
এসএম সুলতান তার জীবদ্দশায় চিত্রা নদীতে শিশুদের নিয়ে ঘুরে বেড়ানো এবং ছবি আঁকার জন্য ১৯৯২ সালে সে সময় ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে নিজের অর্থে এ নৌকাটি তৈরি করেন। শিশুদের মেধা-মনন বিকাশে জীবনের শেষ সময়ে তিনি নৌকায় শিশুদের নিয়ে মাত্র কয়েকবার চিত্রা নদী ভ্রমণে বের হয়েছিলেন। এ সময় তিনি চিত্রার স্বচ্ছ নীল জলে ভাসতে ভাসতে শিশুদের ছবি আঁকা শিখিয়েছেন।
জেলা প্রশাসক আনজুমান আরা বলেন, বড় পরিসরে সুলতান সংগ্রহশালার ঘাট নির্মাণসহ ভ্রাম্যমাণ শিশু স্বর্গটি মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ কারণে অর্থের পরিমাণও বেড়ে গেছে। ঘাটটিকে দৃষ্টিনন্দন ও বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে প্রায় ২ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। এজন্য সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও গণপূর্ত বিভাগে যোগাযোগ করা হয়েছে।

বিষয় : 'সুলতান ঘাট'

মন্তব্য করুন