রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় নিহত আবুল খায়েরের ছোট ভাই সুবর্ণচর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী বাবলু দাবি করেছেন, এক জনের পক্ষে হত্যাকাণ্ড ঘটানো সম্ভব নয়। গ্রেপ্তার মিলনের সঙ্গে অবশ্যই সহযোগী হিসেবে কেউ ছিল। তাদের আড়াল করার চেষ্টা করছে পুলিশ।
শুক্রবার বিকেলে একজনের ফোন পেয়ে বসুন্ধরা এলাকার বাসা থেকে বের হন আবুল খায়ের। পরদিন সকালে নির্মাণাধীন একটি ভবন থেকে পুলিশ তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় তার মেয়ে খাদিজা আক্তার স্বর্ণা বাদী হয়ে ভাটারা থানায় হত্যা মামলা করেন। এ ঘটনায় রোববার সকালে আবুল খায়েরের স্ত্রীর বড় ভাই মিলনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। হত্যায় জড়িত মিলনকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে জানাতে রোববার দুপুরে পুলিশের গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী তার কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। তিনি জানান, মিলনকে শনিবার গ্রেপ্তারের পর তিনি পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সব স্বীকার করেন। পরে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও দেন।
পুলিশ জানায়, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় নতুন যে ভবন নির্মাণের কাজ চলছিল, সেখানে খায়ের ছিলেন মূল ঠিকাদার এবং মিলন প্রধান শ্রমিক। তাদের মধ্যে ব্যবসায়িক লেনদেন ছিল। এ নিয়ে বিরোধের জের ধরে রাগান্বিত হয়ে মিলন প্রথমে রড ও পরে কাঠ দিয়ে খায়েরের মাথায় একের পর এক আঘাত করেন। এতে তার মৃত্যু হয়।
উপ-কমিশনার বলেন, পারিপার্শ্বিক অবস্থা ও বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়া গেছে মিলন একাই হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। হত্যার পর তার চাঁদপুর চলে যাওয়া, আবার ঢাকায় ফিরে আসা এবং পুলিশের সঙ্গে লুকোচুরির কারণে তাকে সন্দেহ করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তিনি সব স্বীকার করেন। খুব দ্রুত এ মামলার চার্জশিট দেওয়া হবে।
নিহতের ছোট ভাই সুবর্ণচর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী বাবলু বলেন, তদন্তে আমরা সন্তুষ্ট নই। আমরা চাই মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) স্থানান্তর করে পুনঃতদন্ত করা হোক। কারণ পুলিশের ভূমিকা নিয়ে অনেক প্রশ্ন আছে। ঘটনার পর মামলা নিতে সারাদিন গড়িমসি করেছে পুলিশ। আমি বাদী হতে চাইলেও তারা রাজি হয়নি। আমার ভাতিজিকে বাদী করা হয়েছে। এতে আসামিপক্ষ সহজেই হুমকি-ধমকি দিয়ে তার ক্ষতি করার ভয় দেখিয়ে মামলা প্রত্যাহারের চাপ দিতে পারে। এ ছাড়া মিলনকে গ্রেপ্তারের পর পরই তড়িগড়ি করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
তিনি আরও বলেন, ‘মিলনকে আমার ভাই কাজের সুযোগ করে দিয়েছিলেন। সে ব্যবসায়িক অংশীদার ছিল না। সে আগেও একবার ভাইকে খুন করতে চেয়েছিল। বৃহস্পতিবার রাতে খুনের পর সে আমার ভাইয়ের বাসায় যায় এবং পরদিন সকাল পর্যন্ত সেখানেই ছিল। সম্ভবত ভাবি (রুপালী আক্তার) আগেই এ ব্যাপারে জানতেন।’