‘মত প্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব করে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা অর্জিত হবে না’

প্রকাশ: ১৪ আগস্ট ২০২০   

সমকাল প্রতিবেদক

ড. ইফতেখারুজ্জামান- ফাইল ছবি

ড. ইফতেখারুজ্জামান- ফাইল ছবি

টিআইবি’র নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেছেন, বাক স্বাধীনতা কিংবা মত প্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা অর্জিত হবে, এ কথা স্বপ্নেও ভাবতে পারি না। বঙ্গবন্ধু তার ব্যক্তিগত জীবনে, তার রাজনৈতিক জীবনে কখনও সেটি কল্পনাও করতে পারেননি।

তিনি তরুণ সমাজকে দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তে উপযোগী পরিবেশ সরকার এবং রাষ্ট্রকেই সৃষ্টি করতে বলেও অভিমত ব্যক্ত করেছেন। শুক্রবার সংবাদ মাধ্যমে পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় তিনি এ অভিমত দেন।

ভিডিও বার্তায় ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার সোনার বাংলার স্বপ্নে যে বিষয়গুলো বিশেষভাবে লালন করেছিলেন তার মধ্যে অন্যতম ছিল দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে তার দৃঢ় অবস্থান। একটি দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশের স্বপ্ন তিনি দেখেছিলেন। তার সোনার বাংলা আর দুর্নীতিমুক্ত বাংলা একসূত্রে গাঁথা। দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রতারণা, জালিয়াতি কালেবাজারি, অর্থ পাচার-এ ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে জাতির পিতা সব সময় সোচ্চার ছিলেন। তিনি সুযোগ পেলেই দেশবাসীকে এ বিষয়গুলো নিয়ে উদ্বুদ্ধ করতেন।’

টিআইবি নির্বাহী পরিচালক বলেন, দুর্নীতিবাজদের উৎখাত করতে হবে-জোরালো ভাষায় এ ঘোষণা দিয়েছেন বঙ্গবন্ধু। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭৫ সালের স্বাধীনতা দিবসের ভাষণেও বঙ্গবন্ধু ঘোষণা করেছিলেন, ‘একাত্তরে আহ্বান জানিয়েছিলাম- পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে ঘরে ঘরে দূর্গ গড়ে তোল, ১৯৭৫ সালে এসে আহ্বান জানাই- প্রত্যেক ঘরে ঘরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে দূর্গ গড়ে তুলতে হবে।’ তিনি বলেছিলেন, আইন করবে এবং দুর্নীতির অপরাধের জন্য কাউকে ছাড় দেবেন না।

দূর্নীতির বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর সামাজিক আন্দোলনের আহ্বান তুলে ধরে টিআইবি নির্বাহী পরিচালক বলেন, বঙ্গবন্ধু এও বলেছিলেন, তিনি একা পারবেন না, দেশের প্রতিটি মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে দুর্নীতিবাজদের উৎখাত করার জন্য। এগিয়ে আসতে হবে দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলনের জন্য।’ জাতির পিতা জোরালো ভাষায় পরিস্কারভাবে বলেছিলেন- ‘সামাজিক আন্দোলন কে করবে বাংলাদেশে? করতে পারে বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবী, শ্রমজীবী-দেশের প্রতিটি মানুষ।’ আর বিশেষভাবে উল্লেখ করেছিলেন দেশের তরুণ সমাজ, ছাত্র সমাজের কথা। তরুণ সমাজ, ছাত্র সমাজের প্রতি আস্থায় বলীয়ান এই নেতা আহ্বান জানিয়েছিলেন, দূর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলনে তরুণ সমাজকে নেতৃত্ব গ্রহণের জন্য। আজকে মুজিববর্ষ উদযাপনের অংশ হিসেবে যদি সত্যিকার অর্থেই জাতির পিতার প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে চাই, তাহলে এদেশের প্রতিটি মানুষের দূর্নীতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘তরুণ সমাজকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ার উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টির দায়িত্ব সরকারের, রাষ্ট্রের। রাষ্ট্রকাঠামোতে, সরকার কাঠামোতে, প্রশাসনে, আইনপ্রয়োগকারী সংস্থায়, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে, বিচার ব্যবস্থায় প্রতিটি পর্যায়ে দুর্নীতিবিরোধী চেতনা, দুর্নীতিবিরোধী চেতনা মূলধারায় অর্ন্তভূক্ত করতে হবে। তার সহায়ক হিসেবেই দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলবে তরুণ সমাজ। এ জন্য দুর্নীতির বিরুদ্ধে কেউ কথা বললে, মত প্রকাশ করলে তার বিরুদ্ধে মামলা-হামলা করা যাবে না। কাউকে শত্রু ভাবা যাবে না। যারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলে তারা প্রকৃতপক্ষে সরকারের সহায়ক শক্তি।’

টিআইবি নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘বাক স্বাধীনতা কিংবা মত প্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব করে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা অর্জিত হবে, এ কথা স্বপ্নেও ভাবতে পারি না। বঙ্গবন্ধু তার ব্যক্তিগত জীবনে, তার রাজনৈতিক জীবনে কখনও সেটি কল্পনাও করতে পারেননি। অতএব যদি রাষ্ট্র তরুণদের দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলনে ঝাাঁপিয়ে পড়তে উপযোগী পরিবেশ সরকার, রাষ্ট্র সৃষ্টি কতে পারে, তাহলে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি যথার্থই সম্মান প্রদর্শন করকে পারব।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজ যখন তরুণ সমাজকে দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলনে আহ্বান জানাই, তখন কিছুটা দ্বিধা-দ্বন্দ, এক ধরনের অপরাধবোধ নিয়ে আহ্বান জানাই। তার কারণ আমরা, আমাদের প্রজন্ম এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারিনি যেখানে দুর্নীতির কোন স্থান নেই। আমাদের ব্যর্থতার দায়ভার আজকের তরুণ সমাজের হাতে তুলে দিচ্ছি এবং আস্থা রাখি তারা সফল হবে। কারণ বৃটিশবিরোধী আন্দোলন, ভাষান্দোলন, উনসত্তরের গণ অভ্যুত্থান, একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিমুযদ্ধ পরবর্তী সময়ে স্বৈরাচার বিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলন, সবক্ষেত্রেই দেশের তরুণ সমাজ নেতৃত্ব দিয়েছে। অতএব দুর্নীতিবিরোধী সামাজিক আন্দোলনেও তারা সফল হবে, এটাই দৃঢ় বিশ্বাস।’