রোহিঙ্গা গণহত্যা নিয়ে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার আদালতে (আইসিজে) আগামী অক্টোবরে প্রথম প্রতিবেদন পেশ করবে গাম্বিয়া। আফ্রিকার মুসলিমপ্রধান দেশ গাম্বিয়ার এক আবেদনে গত জানুয়ারিতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছিলেন এ আদালত। তাতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে চারটি নির্দেশ ছিল। গাম্বিয়া এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।

গাম্বিয়ার প্রধান আইন কর্মকর্তা চার্নো মারেনাহ রোহিঙ্গাবিষয়ক এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে এ কথা বলেছেন। অ্যাকশন এইড বাংলাদেশ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর জেনোসাইড স্টাডিস ও ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর পিস অ্যান্ড জাস্টিস রোহিঙ্গা সংকটের তৃতীয় বর্ষপূর্তিতে দু'দিনব্যাপী এ সম্মেলনের আয়োজন করে। বুধবার রাতে এটি শেষ হয়।

সম্মেলনে চার্নোমানোহ বলেন, আইসিজেতে প্রথম প্রতিবেদন (স্মারকলিপি) জমা দিতে তারা আন্তর্জাতিক আইনজ্ঞদের সঙ্গে কঠোর পরিশ্রম করছেন। সম্মেলনে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন এবং তাদের ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে এগিয়ে আসার জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

গত জানুয়ারিতে এক অন্তর্বর্তী আদেশে হেগের আইসিজে রাখাইনে অবস্থানরত রোহিঙ্গারাদের সুরক্ষা দেওয়ার জন্য মিয়ানমারকে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণের আদেশ দেন। আদালত বলেছেন, মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর লাগাম টেনে ধরতে হবে। রোহিঙ্গা গণহত্যা-সংক্রান্ত যেসব অভিযোগ এসেছে, সেসব তথ্যপ্রমাণ সংরক্ষণ করতে হবে। রোহিঙ্গাদের সুরক্ষা দেওয়ার জন্য মিয়ানমার কী ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছে সে- সংক্রান্ত প্রতিবেদন চার মাসের মধ্যে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের কাছে জমা দিতে হবে। এসব প্রতিবেদন গাম্বিয়ার কাছে তুলে ধরা হবে।

রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হত্যা, ধর্ষণ ও অগ্নিসংযোগকে গণহত্যা আখ্যা দিয়ে গত বছরের নভেম্বরে আইসিজেতে মামলা করে গাম্বিয়া। এতে বাংলাদেশও সমর্থন দেয়।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে এই ভার্চুয়াল সম্মেলনে বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ, গবেষক, মানবাধিকারকর্মী এবং ১২টি দেশের প্রবাসী রোহিঙ্গা নেতারা অংশগ্রহণ করেন। তারা রোহিঙ্গাদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং মিয়ানমারের দায়ী ব্যক্তিদের বিচারে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ও আইসিজের উদ্যোগের প্রশংসা করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তৃতায় পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বলেন, রোহিঙ্গা সংকট দীর্ঘায়িত হলে সংঘাতের শঙ্কা দেখা দিতে পারে। তিনি রোহিঙ্গাদের শান্তিপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ামারের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যু এখন বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের দ্বিপক্ষীয় বিষয় নয়, এটা এখন আন্তর্জাতিক ইস্যু।

অনুষ্ঠানে ব্র্যাকের সেন্টার ফর পিস অ্যান্ড জাস্টিসের নির্বাহী পরিচালক মনজুর হাসান, অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির, ওয়াশিংটনভিত্তিক সেন্টার ফর গ্লোবাল পলিসির পরিচালক আজিম ইব্রাহিম, ব্র্যাকের সিনিয়র পরিচালক কেএএম মোরশেদ, মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ নিকি ডায়মন্ড প্রমুখ বক্তব্য দেন।