গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও), ১৯৭২-এর ৯১ই ধারা সংশোধন করে প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের সরাসরি ক্ষমতা বিলুপ্ত করার প্রস্তাবের সমালোচনা করে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) বলেছে এটি নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) আরও দুর্বল করবে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বলেন, দেশের মানুষের মধ্যে যখন নির্বাচন নিয়ে অনাগ্রহ ও আস্থার সংকট বাড়ছে, তখন নিজেকে আরও দুর্বল করার হীন আত্মঘাতী উদ্যোগ কার স্বার্থে? নির্বাচন কমিশনের এ জাতীয় অভূতপূর্ব স্বেচ্ছাসমর্পণমূলক আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত গ্রহণ থেকে বিরত থেকে তার ওপর অর্পিত সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে নিজেদের এভাবে অযোগ্য মনে করলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সব কমিশনার স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ালে জাতি উপকৃত হবে।

বিবৃতিতে বলা হয়, প্রার্থিতা বাতিলের সরাসরি একক ক্ষমতা থেকে সরে আসা নির্বাচন কমিশনের একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর ৯১ই ধারার ১ ও ২ উপধারা অনুযায়ী নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তা তদন্ত করে দেখা এবং তদন্তে তা প্রমাণিত হলে সংশ্নিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করার সরাসরি ক্ষমতা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের হাতে। সেটি কী যুক্তিতে সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে তার যে ব্যাখ্যাই কমিশন দিক না কেন, এটি যে ভালো কোনো উদ্দেশ্যে করা হচ্ছে না বরং কমিশনকে সম্পূর্ণভাবে অকার্যকর করে দেওয়ার হীন চেষ্টা ছাড়া আর কিছুই না। নিজেরা এই ধারা প্রয়োগের সৎসাহস রাখেন না, বিধায় মাথাব্যথার কারণে মাথা কেটে ফেলার অপপ্রয়াস এই উদ্যোগ কি-না এই প্রশ্ন ওঠাও স্বাভাবিক।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর মতো একটি ঐতিহাসিক দলিল, যা বাংলাদেশের স্বাধীনতার অনন্য স্মারক, কোনো যৌক্তিক কারণ ছাড়া তার পরিবর্তন কেন দরকার পড়ছে, তা আমাদের কাছে বোধগম্য নয়। তিনি বলেন, বিদ্যমান আইনে তিনটি শর্তের যেকোনো একটি পূরণ সাপেক্ষে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের বিধান থেকে সরে এসে স্বতন্ত্র আইনের খসড়ায় দুটি শর্ত পূরণের বাধ্যবাধকতাসহ বেশ কিছু পরোক্ষ শর্তপূরণের যে প্রস্তাব রাখা হয়েছে তার যৌক্তিকতা প্রশ্নবিদ্ধ এবং পক্ষপাতদুষ্ট।