করোনা নিয়ে কেলেঙ্কারিতে সরকার দায়ী: ডা. জাফরুল্লাহ

প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২০   

সমকাল প্রতিবেদক

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী- ফাইল ছবি

ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী- ফাইল ছবি

করোনা পজিটিভ হয়েও নেগেটিভ সার্টিফিকেট নিয়ে প্রবাসীদের বিদেশগমন, বিভিন্ন হাসপাতালে করোনা পরীক্ষার নামে ভুয়া রিপোর্ট প্রদানের মতো কেলেঙ্কারির জন্য সরকারকে দায়ী করেছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি আরও বলেন, কভিড-১৯ পরীক্ষায় অ্যান্টিবডি পরীক্ষার অনুমোদন দিলে বিশ্বে বাংলাদেশের অনেক নাম হতো।

শনিবার ধানমন্ডির গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালের করোনা রোগীদের জন্য আরটি-পিসিআর পরীক্ষা কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম। আরও বক্তব্য দেন গণস্বাস্থ্য কিটের উদ্ভাবক দলের প্রধান বিজ্ঞানী ড. বিজন কুমার শীল। উপস্থিত ছিলেন গণস্বাস্থ্যের ট্রাস্টি সন্ধ্যা রায়, ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) অধ্যাপক মামুন মোস্তাফী, অধ্যাপক ডা. নাজিব মোহাম্মদ এবং গণস্বাস্থ্যের প্রেস উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু।

ডা. জাফরুল্লাহ বলেন, ‌‘দুই মাস আগে চীন যখন ভ্যাকসিন ট্রায়াল করতে চাইল, তখনই তা করতে দিলে দেশের মানুষ উপকৃত হতো। তার চেয়েও লাভ হতো আমাদের জ্ঞান বৃদ্ধি পেত। দেশের লোক শিখে নিতে পারত।’

গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে পরীক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘টেস্টের পাশাপাশি গবেষণায় মনোযোগী গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র। ৫০ লাখ টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে এই গবেষণার জন্য। এখানে পরীক্ষায় সর্বোচ্চ গুণগত মান বজায় রাখা হয়।’ তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ সারাবিশ্বে নাম করেছে ওষুধনীতির কারণে। ঠিক একইভাবে বাংলাদেশ পৃথিবীতে আরেকবার নাম করত, যদি অ্যান্টিবডি টেস্টের অনুমতি দিত। এ সময় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে ব্যবসায়ীসহ সমাজের বিত্তবানদের প্রতিও আহ্বান জানান তিনি।

অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেন, কভিড-১৯ চিকিৎসাসেবা যারা দিচ্ছেন, যারা নমুনা সংগ্রহের কাজ করছেন তারা যেন সংক্রমিত না হন, সেদিকে বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে হবে। কভিড নিয়ে আমাদের গবেষণার সুযোগ আছে। ল্যাবরেটরিতে শুধু রুটিন টেস্ট হবে না, গবেষণাও করতে হবে।

ডা. বিজন কুমার শীল বলেন, গত জানুয়ারিতেই এ ল্যাবরেটরি স্থাপনের পরিকল্পনা ছিল। এখন ল্যাবরেটরি প্রতিষ্ঠা হয়ে গেছে। সব মেশিনারিজ চলে আসছে। তিনি আরও বলেন, ২০০৩ সালে করোনাভাইরাসের পিসিআর টেকনিকটি সিঙ্গাপুরে তারাই তৈরি করেছিলেন। এরপর করোনাভাইরাস হারিয়ে গেলে আর কোনো কিছু হয়নি। পিসিআরই একমাত্র টেস্ট হলো করোনাভাইরাস আক্রান্তদের শনাক্ত করার জন্য।

গণস্বাস্থ্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের সহযোগী সংগঠন গণস্বাস্থ্য আরএনএ বায়োটেক লিমিটেডের সার্বিক সহায়তায় একটি অত্যাধুনিক মলিকিউলার ডায়াগনস্টিক ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হয়েছে। এখানে দ্রুত করোনাভাইরাস পরীক্ষা করতে বাইরের একজন রোগীকে দিতে হবে তিন হাজার টাকা। আর যাদের গণস্বাস্থ্য হাসপাতালের স্বাস্থ্যবীমা আছে, তাদের দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা দিতে হবে।