পুরান ঢাকার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ (মিটফোর্ড) হাসপাতাল থেকে কৌশলে পালিয়েছিলেন হাজতি মিন্টু মিয়া। এরপর হাতকড়া পরা অবস্থাতেই তিনি যান শ্বশুরবাড়ি গাজীপুরে। সেখানে স্বজনদের সঙ্গে দেখা করে আবার ফিরেও আসেন ঢাকায়। শেষ পর্যন্ত পালানোর ১০ ঘণ্টা পর মিটফোর্ড হাসপাতালের অদূরে বাবুবাজার এলাকা থেকে আটক করা হয় তাকে।

শনিবার ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত ঘটে এসব ঘটনা। পরে চিকিৎসা দিয়ে তাকে কেরানীগঞ্জের ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। তিনি মানসিকভাবে কিছুটা অসুস্থ বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় দায়িত্ব পালনে অবহেলার অভিযোগে তিন কারারক্ষীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে কারা কর্তৃপক্ষ।

ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাহবুবুল ইসলাম জানান, মিন্টু টাঙ্গাইলের গোপালপুর থানার একটি মাদক সংক্রান্ত মামলার আসামি। তিনি টাঙ্গাইল কারাগারে ছিলেন। সেখানে বুকে ব্যথা নিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ায় চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। শুক্রবার স্থানান্তর করা হয় মিটফোর্ড হাসপাতালে।

কারা কর্মকর্তারা জানান, তিন কারারক্ষীর তত্ত্বাবধানে মিন্টুর চিকিৎসা চলছিল। এর মধ্যে শনিবার ভোর পৌনে ৪টার দিকে বাথরুমে যাওয়ার কথা বলে তিনি পালিয়ে যান। তাকে খুঁজে না পেয়ে তখনই কারারক্ষীরা বিষয়টি কর্মকর্তাদের জানান। পলাতক আসামিকে আটক করতে শুরু হয় নানারকম তৎপরতা। এর মধ্যে গাজীপুরে তার শ্বশুরবাড়িতে যোগাযোগ করে জানা যায়, সেখানে গিয়েছিলেন মিন্টু। তিনি গ্রামের বাড়ি টাঙ্গাইলে যাওয়ার কথা বলে চলে এসেছেন। তবে দুপুর ২টার দিকে মিটফোর্ড এলাকা থেকেই হাতকড়া পরা অবস্থায় তাকে আটক করা সম্ভব হয়।

মিটফোর্ড সূত্র জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে মিন্টুকে হাসপাতালে নেওয়ার পর দুই নম্বর ভবনের ষষ্ঠ তলার বারান্দায় মেঝেতে বিছানা দেওয়া হয়। তিনি গত ১৩ আগস্ট মাদকের মামলায় টাঙ্গাইল কারাগারে যান বলে নথিপত্র থেকে জানা গেছে। চিকিৎসার জন্য ১৮ আগস্ট তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। সেদিন হৃদরোগ হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে তাকে আবারও কারাগারে নেওয়া হয়। শুক্রবার আবারও বেশি অসুস্থ বোধ করায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। শনিবার ভোরে তার পালিয়ে যাওয়ার সময় কারারক্ষী কামরুল ইসলাম ও আবদুল আলীম দায়িত্ব পালন করছিলেন। এ ঘটনায় পরে তাদের দু'জনসহ মোট তিন কারারক্ষীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এদিকে আসামি পালানোর ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করে কারা কর্তৃপক্ষ।

এর আগে ৬ আগস্ট গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ থেকে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত কয়েদি আবু বক্কর ছিদ্দিক পালিয়ে যান। তিনি নিজের তৈরি করা মই বেয়ে কারাগারের দেওয়াল টপকান। সেই ঘটনায় কারাগারের ২০-২৫ জনকে দোষী সাব্যস্ত করেছে তদন্ত কমিটি।

মন্তব্য করুন