ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের জন্মস্থান পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমের নানুর থানার কীর্ণাহারের মিরিটি গ্রামে। করোনায় আক্রান্ত  নয়াদিল্লির সেনা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার বিকেলে মারা যান প্রবীণ এ রাজনীতিবিদ।

প্রণবের মৃত্যুতে গভীর শোকে মুহ্যমান মিরিটি গ্রাম। এই মিরিটিতেই জন্মেছিলেন তিনি। তার শৈশবের পাঠ এখানেই। পরে পড়াশোনা করেছেন কীর্ণাহারের শিবচন্দ্র বিদ্যালয়ে।

প্রণব মুখোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বা রাষ্ট্রপতি থাকাকালে প্রতিবছরই দুর্গাপূজার সময় গ্রামের বাড়িতে হাজির হতেন। বাড়ির মণ্ডপে নিজেই পূজা দিতেন। চণ্ডীপাঠ করতেন। তার চণ্ডীপাঠ শোনার জন্য দূরদূরান্তের মানুষ ছুটে আসত এই মণ্ডপে। তার আর আসা হবে না মণ্ডপে। বিষয়টি মেনে নিতে পারছেন না এলাকার মানুষ। এলাকাবাসী সোমবার বিকেলে প্রণব মুখার্জির বাড়ির সামনে তার প্রতিকৃতি রেখে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।

শৈশবে প্রণব

প্রণব মুখোপাধ্যায়ের শৈশব ও কৈশোর কেটেছে মিরিটি গ্রামে। ছোটবেলা থেকেই পরিশ্রমী ও লক্ষ্যে অবিচল ছিলেন তিনি। প্রণবের প্রথম স্কুল ছিল বাড়ি থেকে পাঁচ কিলোমিটার দূরে। সেই স্কুলে যাওয়ার তেমন কোনো রাস্তা ছিল না। জমির আইল দিয়ে প্রতিদিন সাড়ে ৩ কিলোমিটার যেতে হতো। বাকি দেড় কিলোমিটার রাস্তা ছিল। বর্ষাকালে স্কুলে যেতেন গামছা পরে। কারণ সাড়ে তিন কিলোমিটার জল ভেঙে ঝুঁকি নিয়ে স্কুল যেতে হতো তাকে। স্কুলে গিয়ে তারপর হাত-পা ধুয়ে স্কুলের পোশাক পড়তে হতো। ছাত্রজীবনের অনেকটা সময় এই ১০ কিলোমিটার রাস্তা এইভাবেই যাতায়াত করেছেন ভারতের সাবেক এই রাষ্ট্রপতি।

স্কুল জীবনের স্মৃতিচারণা করে এক সাক্ষাৎকারে প্রণব মুখোপাধ্যায় বলেছিলেন, তিনি খুব দুষ্টু স্বভাবের ছিলেন। প্রায়ই স্কুলে যাওয়ার নাম করে খেলতে চলে যেতেন। এই খবর একদিন তার মা জানতে পারেন। কিন্তু বকাবকি না করে প্রণবকে মা বুঝিয়ে ছিলেন, 'খেলতে অবশ্যই যাবি, তাই বলে পড়াশুনা করবি না কেন? প্রকৃত মানুষ হতে গেলে দুটোই করতে হবে।' তারপর নিজেকে শুধরে নিয়েছিলেন তিনি।

পয়সার গাছের গল্প

তখন খুব ছোট প্রণব। তার গ্রামের একজন ব্যক্তি তাকে বেশকিছু পয়সা দিয়ে বলেছিলেন পয়সার গাছ হলে আর কোনো অভাব থাকবে না। তার ভাষ্য, পয়সার গাছ পুঁতে ছিলেন ছোট্ট প্রণব। ওই ব্যক্তির দেওয়া পয়সাগুলো মাটিতে পুঁতে নিয়ম করে প্রতিদিন পানি দিতেন। আর দেখতেন গাছ হচ্ছে কি-না। ততদিনে ওই ব্যক্তি মাটি খুঁড়ে পয়সা তুলে নেন। পরে তিনি এর আসল সত্যটা জানতে পারেন। ভাগ্যিস সে দিন বোকা বনে গিয়েছিলেন! সে দিনের সেই শিক্ষাই তাকে দেশের হেঁসেল চালাতে সাহায্য করেছিল।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সংসদের দুটো কক্ষেই ছিল তার অবাধ বিচরণ। ৩০ বছর রাজ্যসভার এবং ৮ বছর লোকসভার সংসদ সদস্য হয়ে সামলেছেন দেশের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়। তবে রাজ্যসভার সাংসদ হিসেবেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর দায়িত্ব বেশি সামলেছেন। লোকসভা নির্বাচনে লড়ার নেপথ্যেও রয়েছে এক অন্য কাহিনি।