ভারতের প্রবীণ রাষ্ট্রনায়ক প্রণব মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছেন নড়াইলে বসবাসকারী তার শ্যালক কানাইলাল ঘোষ। স্মৃতিচারণ করে তিনি বললেন, 'এ পর্যন্ত  চারবার দিল্লি গিয়েছি। প্রত্যেকবারই তিনি বাংলাদেশের মানুষের কথা, এলাকার কথা, বাড়ির কথা শুনতেন। বলতেন তোরা কেমন আছিস? কোনো সমস্যা নেই তো? বাংলাদেশের রাজনীতি কেমন চলছে? জামাইবাবু বাংলাদেশকে এবং এদেশের লোকদের খুব বেশী ভালোবাসতেন। কেউ গেলে তাকে খুব যত্ন করতেন। না খাইয়ে আসতে দিতেন না।'

নড়াইল সদর উপজেলার ভদ্রবিলা গ্রামের বাসিন্দা কানাইলাল প্রণব মুখোপাধ্যায়ের সহধর্মিনী শুভ্রা মুখোপাধ্যায়ের ছোট ভাই। শুভ্রা ও কানাইলালরা ৪ ভাই ৪ বোন। ১৯৫৫ সালে শুভ্রা পশ্চিমবঙ্গে চলে যান। ১৯৫৭ সালের জুলাইয়ে শুভ্রা ঘোষের সঙ্গে প্রণব মুখোপাধ্যায়ের বিয়ে হয়। শুভ্রার ভাইবোনেরা কালক্রমে ভারতে চলে গেলেও কানাইলাল ঘোষ বাংলাদেশেই থেকে যান। সমকালকে কানাইলাল ঘোষ বলেন, 'জামাইবাবুর (প্রণব মুখোপাধ্যায়) অসুস্থতার খবর শুনে বহু ইচ্ছা ছিল তাকে দেখতে দিল্লি যাওয়ার। কিন্তু করোনা সংক্রমনের কারণে তা আর হলো না। সোমবার সন্ধ্যায় জামাইবাবুর চিরবিদায়ের খবর পাই। আমি যেন শেষ সম্বলটুকুও হারালাম।' আক্ষেপ করে তিনি বলেন, পাঁচ বছর আগে দিদি চলে গিয়েছেন এই আগস্ট মাসেই। আর জামাইবাবুও চলে গেলেন আগস্টে। জামাইবাবু খুব আদর যত্ন করতেন। মাথায় হাত দিয়ে আশীর্বাদ করতেন। দেড় বছর আগে সর্বশেষ দিল্লি গিয়েছিলাম।

কানাইলাল বলেন, 'বড় একা হয়ে গেলাম। বাংলাদেশ একজন অকৃত্রিম বন্ধুকে হারালো। ভারতও একজন রত্নকে হারালো। জামাইবাবু যেন স্বর্গবাসী হতে পারেন।' তিনি জানান, ১৩দিন ধর্মীয় আচার শেষে শুভ্রা মুখার্জীর পৈত্রিক বাড়িতে শ্রাদ্ধের আয়োজন এবং জামাইবাবুর স্মরণে স্মরণ সভা করবেন। শুভ্রা মুখার্জী ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও শুভ্রা মুখার্জির ভাইজি জামাই অয়ন দাস জানান, বুধবার সকাল ১০টায় শুভ্রা মুখোপাধ্যায়ের মামা বাড়ি সদরের তুলারামপুর কালি মন্দির প্রাঙ্গনে প্রয়াত রাষ্ট্রপতির স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হবে।

বাংলাদেশ ছাড়ার ৪০ বছর পরে ১৯৯৫ সালে শেকড়ের সন্ধানে মেয়ে শর্মিষ্ঠা মুখার্জিকে নিয়ে শুভ্রা মুখার্জি বেড়াতে এসেছিলেন নড়াইলে। ২০১৩ সালের ৫ মার্চ প্রণব মুখোপাধ্যায় তিনদিনের সফরে বাংলাদেশে এসে স্ত্রী শুভ্রা মুখার্জিকে নিয়ে শ্মশুরাড়ি বেড়াতে আসেন। শুভ্রা মুখার্জীর নামে তার মামা বাড়ি চাঁচড়ায় একটি মন্দির ও একটি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। ভারত সরকারের অর্থায়নে নড়াইল সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজে ভারত-মৈত্রী ছাত্রী হোস্টেল নির্মিত হয়েছে। এছাড়া শহরতলি বাঁশভিটায় শুভ্রা মুখার্জি মেমোরিয়াল হাসপাতাল নির্মাণের কাজ শুরু হলেও তা বন্ধ রয়েছে।

এদিকে প্রণব মুখার্জির মৃত্যুতে নড়াইল-১ আসনের সংসদ সদস্য কবিরুল হক মুক্তি, নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মুর্তজা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।