ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আশঙ্কা করে বলেছে, জাতীয় সম্প্রচার কমিশন এবং অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তার আগেই দেশের সব অনলাইন নিউজপোর্টাল এবং জাতীয় পত্রিকা ও টেলিভিশনের অনলাইন সংস্করণগুলো পৃথকভাবে নিবন্ধন করতে তথ্য মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক নির্দেশ সংবাদমাধ্যমের ওপর সরকারের সর্বাত্মক নিয়ন্ত্রণ ও হস্তক্ষেপ নিশ্চিত করবে।

সংস্থাটি বলছে, এ নির্দেশ মূলত গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে সরকারি বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের দীর্ঘদিনের অপচেষ্টা বাস্তবায়নের পথে আরও এক আত্মঘাতী পদক্ষেপ।

মঙ্গলবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দেশের সব অনলাইন সংবাদমাধ্যম এমনকি দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশিত বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও টেলিভিশন চ্যানেলের অনলাইন পোর্টালকে নতুন করে নিবন্ধনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ নির্দেশ নিবন্ধিত সংবাদমাধ্যমগুলোকে সরকারি সুযোগ-সুবিধার আওতায় আনা এবং অপসাংবাদিকতা রোধের কৌশল বলা হলেও মূলত এটি দেশের গণমাধ্যমের ওপর সরকারি নিয়ন্ত্রণের প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ নিশ্চিত করবে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, করোনার সংকটকালে যখন গণমাধ্যমগুলো টিকে থাকার লড়াইয়ে, তখন খসড়া অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা চূড়ান্ত না করেই তাড়াহুড়ো করে নিবন্ধনের এ নির্দেশ রাষ্ট্রের কর্তৃত্ববাদী শাসন প্রচেষ্টার নিদর্শন। প্রচলিত নিবন্ধনের আওতায় দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশিত জাতীয় দৈনিক ও টেলিভিশনগুলোর অনলাইন পোর্টাল চালু থাকা উচিত- যুগোপযোগী গণমাধ্যম সংশ্নিষ্টদের এমন মতের তোয়াক্কাই করা হলো না।

তিনি বলেন, বিশেষ করে অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা অনুযায়ী নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ বা কমিশন গঠন চূড়ান্ত না করেই নতুন নিবন্ধনের এই নির্দেশ মুক্ত সাংবাদিকতার জন্য কার্যকর হুমকি হয়ে ওঠার আশঙ্কা অমূলক নয়। আবার নীতিমালায় কমিশন গঠনের কথা বলা হলেও সেই কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করার কোনো ক্ষমতা না থাকায় কার্যত কমিশনও সরকার বিশেষ করে তথ্য মন্ত্রণালয়ের আজ্ঞাবহ কর্তৃপক্ষে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিও থেকে যাবে। তাই তাড়াহুড়ো না করে সংশ্নিষ্ট সব মহলের সঙ্গে উন্মুক্ত আলাপ-আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতেই এ ধরনের স্পর্শকাতর ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে টিআইবি আশা করে।