কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগ

দীর্ঘ হবে আমের মৌসুম

প্রকাশ: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২০     আপডেট: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

মোকারম হোসেন

তাপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে সংরক্ষণ করা হয়েছে আম- লেখক

তাপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে সংরক্ষণ করা হয়েছে আম- লেখক

ধরা যাক, আপনার প্রিয় কোনো আমের মৌসুম শেষ হয়েছে। প্রিয় সেই আমটির জন্য একটু আক্ষেপ, যদি আর কয়েকটি দিন বাজারে পাওয়া যেত! এতদিন তা সম্ভব ছিল না। দ্রুত পচনশীল আম নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই শেষ হয়ে যেত। কিন্তু আমের মৌসুম আরেকটু দীর্ঘ করার প্রত্যয়ে নিরন্তর কাজ করে চলেছে সরকারের কৃষি বিভাগ। এ স্বপ্ন বাস্তবায়নে কিছু সফলতাও এসেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের 'বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্প' প্রযুক্তি ব্যবহার করে আম সংগ্রহের পর আরও ৩০ থেকে ৪৫ দিন সতেজ রাখা সম্ভব বলে জানিয়েছে। সম্প্রতি রাজধানীর আসাদগেট হর্টিকালচার সেন্টারে সরেজমিনে দেখা যায়, নিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রার তিনটি কেবিন বসানো হয়েছে। প্রতিটি কেবিন বা বিশেষায়িত কক্ষে দেড় টন আম সংরক্ষণ করা যায়। তাতে থরে থরে সাজানো আছে বিভিন্ন জাতের আম। সংরক্ষণের ৩৩তম দিনেও আমগুলোকে বেশ সতেজ দেখা গেছে। একই পদ্ধতিতে দ্রুত পচনশীল সবজিও সংরক্ষণ করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন তারা। এ পদ্ধতিকে বাংলাদেশে দীর্ঘসময় ফল ও সবজি সংরক্ষণের ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ মনে করা হচ্ছে।

নিয়ন্ত্রিত বিশেষায়িত কক্ষটিতে বাতাসের আর্দ্রতা, তাপমাত্রা, অক্সিজেন ও কার্বনডাই অক্সাইডের মাত্রা, ইথিলিনের উপস্থিতি ইত্যাদি দরকারি বিষয়গুলো নিয়ন্ত্রণ করে ফল সংরক্ষণ করতে হয়। প্রথমেই সংরক্ষণের আগে আমগুলোকে প্রয়োজনীয় পরিপকস্ফ অবস্থায় সংগ্রহ করে খাবার উপযোগী অবস্থায় নিয়ে আসতে হবে। তারপর এগুলোকে ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়ামুক্ত (Disinfect) করে নিতে হবে। এ পদ্ধতিতে অক্সিজেনের মাত্রা কমিয়ে ও কার্বনডাই অক্সাইডের মাত্রা বাড়িয়ে তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ সে.-এ ৮০ থেকে ৯০ ভাগ আর্দ্রতায় সংরক্ষণ করে আমগুলোকে ঘুম পাড়িয়ে দিয়ে সংরক্ষণকাল (Shelf life) বাড়ানো যায়। সংরক্ষিত আমের স্বাদ, গন্ধ, বর্ণ এবং অন্যান্য গুণাগুণ অপরিবর্তিত থাকে এবং বাজারজাত করার ক্ষেত্রেও কোনো অসুবিধা থাকে না। এ প্রকল্পের উপপ্রকল্প পরিচালক মো. নূরুল ইসলাম জানিয়েছেন, নিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রার এই বিশেষ প্রযুক্তি যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে আমসহ অন্যান্য ফল ও সবজি পচনের হাত থেকে রক্ষা করা যাবে এবং কৃষকরা তার উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার ক্ষেত্রেও এক ধাপ এগিয়ে যাবে। উক্ত প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক কৃষিবিদ মেহেদি মাসুদ জানিয়েছেন, সরকারের এ উদ্যোগ ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে কাজে লাগানো গেলে দেশে উৎপাদিত বিভিন্ন মৌসুমি ফল ও সবজির বাজার আরও দীর্ঘ হয়ে অসময়ে তার জোগান যেমন সচল থাকবে, অন্যদিকে বাজারও স্থিতিশীল থাকবে। তাতে ফল ও সবজির অপচয় বহুলাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। এমনকি বাজারে কিছু নির্দিষ্ট ফল এবং সবজির ওপরও চাপ কমবে।

দেড় টন ফল বা সবজি ধারণক্ষমতাসম্পন্ন এমন একটি তাপ নিয়ন্ত্রিত বিশেষায়িত কক্ষ বা চেম্বার তৈরি করতে ১২ লাখ টাকা খরচ হবে। যার সুবিধা কাজে লাগিয়ে একজন উদ্যোক্তা সারাবছর লাভবান হতে পারেন। আসাদগেট হর্টিকালচার সেন্টারের জ্যেষ্ঠ উদ্যানতত্ত্ববিদ মো. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জানিয়েছেন, নতুন এই প্রযুক্তি ও সংরক্ষিত আম পরিদর্শনের জন্য সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত অন্যান্য দিন সবার জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।