রাজধানীর বাড্ডায় ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে তাসলিমা বেগম রেনু হত্যা মামলায় ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার ঢাকা মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে এ চার্জশিট দাখিল করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। চার্জশিটে বলা হয়েছে, রেনুকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

অভিযুক্ত এই ১৫ জন হলেন- ইব্রাহিম ওরফে হৃদয় মোল্লা, আবুল কালাম আজাদ, রিয়া বেগম ময়না, মো. শাহিন, কামাল হোসেন, বাচ্চু মিয়া, মুরাদ মিয়া, বাপ্পি, সোহেল রানা, বেলাল মোল্লা, আসাদুল ইসলাম, মো. রাজু, ওয়াসিম, জাফর ও মহিউদ্দিন। তাদের মধ্যে মহিউদ্দিন পলাতক। তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা।

আসামি ওয়াসিম আহমেদ ও জাফর হোসেন পাটোয়ারী অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে দোষীপত্র দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া মারুফ, আলিফ, আকলিমা ও সুমনের বিরুদ্ধে অভিযোগ না পাওয়ায় তদন্ত কর্মকর্তা তাদের অব্যাহতির আবেদন করেছেন।

গত বছরের ২০ জুলাই সকালে উত্তর-পূর্ব বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ছেলেধরা সন্দেহে তাসলিমা বেগম রেনুকে গণপিটুনিতে হত্যা করা হয়। তার বাসা ছিল মহাখালী ওয়্যারলেস এলাকায়। মেয়েকে ভর্তির জন্য সেদিন তিনি স্কুলে খোঁজখবর নিতে যান। তখন বেশ কয়েকজন অভিভাবক স্কুল চত্বরে অবস্থান করছিলেন। রেনুকে দেখে এক শিক্ষার্থীর মা রিয়া বেগম ময়না তার পথ আগলে দাঁড়ান। বিভিন্ন প্রশ্ন করতে থাকেন। তার দেখাদেখি উপস্থিত অন্য অভিভাবকরাও প্রশ্নে জর্জরিত করেন রেনুকে। এক পর্যায়ে রেনু স্কুল থেকে বের হতে চাইলে অভিযুক্তরা ছেলেধরা বলে চিৎকার করেন। পরে দেয়ালে মাথা থেঁতলে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয় দুই শিশু সন্তানের জননী রেনুকে।

ওই ঘটনায় অজ্ঞাত ৪০০-৫০০ জনকে আসামি করে বাড্ডা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। পরে মামলাটি তদন্ত শুরু করে ডিবি। তদন্ত শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিবির পরিদর্শক আব্দুল হক বৃহস্পতিবার আদালতে ১৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন।