ফরিদপুর

বরকত-রুবেলের ২৫ প্যাকেজের কাজ বাতিল করল এলজিইডি

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০   

ফরিদপুর অফিস

সাজ্জাদ হোসেন বরকত (বাঁয়ে) ও ইমতিয়াজ হাসান রুবেল

সাজ্জাদ হোসেন বরকত (বাঁয়ে) ও ইমতিয়াজ হাসান রুবেল

ফরিদপুরের আলোচিত দুই ভাই সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও ইমতিয়াজ হাসান রুবেলের ২৫টি প্যাকেজের কাজ বাতিল করেছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ (এলজিইডি)। গত ১০ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তিন দফায় এ কাজগুলো বাতিল করা হয়।

বাতিল হওয়া কাজগুলোর চুক্তিমূল্য ৮৮ কোটি ২১ লাখ ৯৯ হাজার ৭৮৯ টাকা। দুই ভাইয়ের নিয়ন্ত্রিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে ১৮ কোটি ৭৩ লাখ ১০ হাজার টাকা তুলে নিয়েছে।

জানা যায়, বাতিল হওয়া কাজের মধ্যে বরকতের নিজের প্রতিষ্ঠান 'সাজ্জাদ বরকত কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লি.-এর ২১টি কাজ রয়েছে। বরকতের আরেক প্রতিষ্ঠান মেসার্স প্রত্যাশা এন্টারপ্রাইজের নামে রয়েছে তিনটি কাজ। বাকিটি রাফিয়া কনস্ট্রাকশন লিমিটেডের নামে, যার মালিক বরকতের ভাই রুবেল।

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানগুলোর নামে মোট ৩৮ প্যাকেজে কাজ চলমান ছিল। এর মধ্যে ২৫টি বাতিল করা হয়েছে। বাকি ১৩টি বাতিলের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। ওই ১৩টি কাজের মধ্যে ফরিদপুর সদরের ভাজনডাঙ্গা এলাকায় পদ্মা নদীর ওপর নির্মিত একটি সেতু রয়েছে।

আলোচিত দুই ভাইয়ের যে ২৫টি কাজ বাতিল করা হয়েছে তার মধ্যে ৭০ থেকে ৯০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে মোট চারটির। একেবারে কাজ শুরু হয়নি ১৪টি প্যাকেজের। যে ২৫টি কাজ বাতিল করা হয়েছে, তাতে মোট কাজ হয়েছে ২৮ ভাগ। এর বিপরীতে তোলা হয়েছে ১৮ কোটি ৭৩ লাখ ১০ হাজার টাকা।

এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী কেএম ফারুক হোসেন জানান, পিপিআরের (পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুল) চুক্তির নিয়ম অনুযায়ী চলমান কোনো কাজ টানা ২৮ দিন বন্ধ থাকলে এলজিইডি তা বাতিল করার ক্ষমতা সংরক্ষণ করে। সে নীতিমালার ভিত্তিতে ওই ২৫টি কাজ বাতিল করা হয়েছে। তিনি বলেন, তাদের আরও ১৩টি কাজ একই অভিযোগে বাতিলের জন্য সুপারিশ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৭ জুন রাতে ফরিদপুরে পুলিশের বিশেষ অভিযানে নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে ফরিদপুরের আলোচিত দুই ভাই শহর আওয়ামী লীগের বহিস্কৃত সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বরকত ও ফরিদপুর প্রেস ক্লাবের বহিস্কৃত সভাপতি ইমতিয়াজ হাসান রুবেলও রয়েছেন।