করোনা মহামারীতেও থেমে থাকেনি তরুণ উদ্যোক্তা সম্মেলনের আয়োজন। ইয়াং এন্ট্রেপ্রেনিওরশিপ এন্ড স্কিলস ডেভেলপমেন্ট  প্রজেক্ট (ইএসডিপি) এবং বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ডেভেলপমেন্ট অথরিটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ৪র্থ জাতীয় তরুণ উদ্যোক্তা সম্মেলন- ২০২০। 

এ বছরের সম্মেলনে একটি বিশেষ আয়োজন ছিল অনলাইনভিত্তিক প্যানেল আলোচনা। এর মূল ভাবনা ছিল উদ্যোক্তা উন্নয়নের বিভিন্ন প্রসঙ্গ। রোববারের এ প্যানেল আলোচনার মূল বিষয় ছিল- চলমান শিক্ষা ব্যবস্থা কী একজন শিক্ষার্থীর উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতা তৈরিতে যথেষ্ট? আলোচক ছিলেন হিসেবে ছিলেন টেন মিনিট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা আয়মান সাদিক, ভার্টিকাল হরিজনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাওসিফ আলম ও স্মার্টিফায়ার একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহান হায়দার। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ডেইলি স্টারের হেড অব মার্কেটিং তাজদীন হাসান।

বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীদের সাথে কাজ করার অভিজ্ঞতা নিয়ে আলোচকরা আলোচনা করেছেন। আলোচনার সারমর্ম হিসেবে তারা যে বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলেছেন তার মূল প্রতিপাদ্য-উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং শিক্ষা ব্যবস্থার পরিবর্তন। 

টেন মিনিট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা আয়মান সাদিক বলেন, উদ্যোক্তা বিষয়ক বিভিন্ন কোর্সগুলো গণিত, ইংরেজির মতই বাধ্যতামূলক করতে হবে স্কুল-কলেজ থেকেই। জীবন এবং কর্মমূখী শিক্ষাব্যবস্থার সূচনা করতে হবে।

ভার্টিকাল হরিজনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাওসিফ আলম, পরিবারের ভূমিকা একজন শিক্ষার্থীর উদ্যোক্তায়ন প্রক্রিয়ায় অনেক বড় ভূমিকা পালন করে। একজন শিশুর যোগ্যতা এবং ভূমিকা কীরকম হবে বা সন্তান কিসে  ভালো, কোন কাজটা ভালো পারে, এই জায়গায় বাবা-মাকে অনেক কাজ করতে হবে। 

স্মার্টিফায়ার একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহান হায়দার বলেন, আমাদের সামাজিক ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন আনাটাই জরুরি। গ্রোথ মাইন্ডসেটের দিকে আমাদের অগ্রসর হতে হবে।

এই উদ্যোক্তায়ন ইকোসিস্টেম ডেভেলপমেন্টের ক্ষেত্রে মানবিক মূল্যবোধের ওপর গুরুত্বারোপ করেন অনুষ্ঠানের সঞ্চালক তাজদীন হাসান। 

আলোচকদের প্রত্যেকেই একমত ছিলেন যে শিক্ষার্থীদের উদ্যোক্তা মনোভাব জাগাতে এবং তাদেরকে সাহায্য করতে বিদ্যালয়ের ভূমিকা রয়েছে। হতে পারে তারা আরও বাস্তবিকভাবে শিক্ষা প্রদানের ব্যবাস্থা করতে পারে। বিভিন্ন ইন্ডাস্ট্রিতে ফিল্ড ভিজিটে নিয়ে যেতে হবে শিক্ষার্থীদের, তাদের বিভিন্ন কোম্পানিদের কারখানা ভিজিটে নিয়ে যাওয়া উচিত, যাতে তারা উদ্যোক্তাদের সংস্পর্শে আসে। প্রচলিত মুভি এবং সেই গেমস খেলেই এখনো বাচ্চারা বড় হচ্ছে, কিন্তু এখন আমাদের উচিত উদ্যোক্তাদের জীবনী, বিভিন্ন স্টার্টআপের ঘটনাকে গেমিফিকশনের মাধ্যমে সবার সামনে তুলে ধরা। বিজ্ঞপ্তি।