মসজিদে বিস্ফোরণ: তিতাসের চার প্রকৌশলীসহ ৮ জনের জামিন

প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০   

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

নারায়ণগঞ্জের পশ্চিম তল্লায় মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার তিতাসের চার প্রকৌশলীসহ আটজনকে জামিন দিয়েছেন আদালত। দুই দিনের রিমান্ড শেষে সোমবার মামলার তদন্ত সংস্থা সিআইডি তাদের আদালতে হাজির করে। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আফতাব উজ জামান আটজনের প্রত্যেককে পাঁচশ' টাকা বন্ডে জামিন দেন। গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নতুন করে রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়নি বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ের পরিদর্শক বাবুল হোসেন।

জামিন পাওয়া আট কর্মকর্তা-কর্মচারী হলেন তিতাসের নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা জোনের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম, উপব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদুর রহমান রাব্বী, সহকারী প্রকৌশলী এসএম হাসান শাহরিয়ার, সহকারী প্রকৌশলী মানিক মিয়া, সিনিয়র সুপারভাইজার মনিবুর রহমান চৌধুরী, সিনিয়র উন্নয়নকারী আইউব আলী, সাহায্যকারী হানিফ মিয়া ও ওয়েল্ডার ইসমাইল প্রধান। বিস্টেম্ফারণের ঘটনায় ৭ সেপ্টেম্বর তাদের সাসপেন্ড করেছিল তিতাস কর্তৃপক্ষ। এরপর শনিবার ভোরে তাদের গ্রেপ্তার করে সিআইডি।

এর আগে রোববার এই আটজনের মুক্তির দাবি জানিয়ে তিতাসের সিবিএ সভাপতি কাজিম উদ্দিন তিন দিনের সময় বেঁধে দেন। সিবিএ নেতাদের বেঁধে দেওয়া সময়ের এক দিনের মধ্যেই সবার জামিন হয়ে যাওয়ায় নগরবাসী ঘটনাটিকে ভিন্ন চোখে দেখছেন।

তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সুলতান মাহমুদ বলেন, মামলার ধারা অনুযায়ী আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সুষ্পষ্টভাবে প্রমাণ না হওয়ায় আদালত বিষয়টি বিবেচনা করে প্রত্যেককে পাঁচশ' টাকা করে মুচলেকার শর্তে স্থায়ী জামিন দিয়েছেন।

সিআইডির পরিদর্শক বাবুল হোসেন বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা রিমান্ডে ৪ সেপ্টেম্বর রাতের বিস্ম্ফোরণের ঘটনায় নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন। তাই নতুনভাবে তাদের আর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়নি।

৬ দফা দাবিতে নিহতদের স্বজনের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি :এদিকে মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনায় হতাহতদের পরিবারকে আর্থিক সহযোগিতা, দোষীদের শাস্তি প্রদানসহ ছয় দফা দাবি জানিয়ে সোমবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। হতাহতদের পরিবারদের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক মো. জসিম উদ্দিনের মাধ্যমে এই স্মারকলিপি দেওয়া হয়। হতাহতদের সবার পরিবারের পক্ষ থেকে এই স্মারকলিপি দেন ওই ঘটনায় নিহত মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুল মালেক নেছারির দুই ছেলে নাইমুল ইসলাম ও ফাহিমুল ইসলাম। এ সময় হতাহত অন্যদের পরিবারের স্বজনরাও উপস্থিত ছিলেন।

ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে- ওই ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিদের চাকরির ব্যবস্থা করা, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে এককালীন আর্থিক সহায়তা দেওয়া, ওই ঘটনায় স্বামীহারা নারীদের বিধবা ভাতার আওতায় আনা, দ্রুত সংস্কার করে মসজিদটিতে দ্রুত নামাজের ব্যবস্থা, মসজিদের সামনের রাস্তা দ্রুত মেরামত এবং নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা।

নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. জসীম উদ্দিন বলেন, আর্থিক সহায়তা চেয়ে হতাহতের তালিকা এর আগে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এখন হতাহতের পরিবারের পক্ষ থেকে যে আবেদনটি করা হয়েছে, তাও প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।