সমকাল-ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল অনলাইন গোলটেবিল

মাস্কেই সুরক্ষা, শিথিলতা ডেকে আনবে বিপদ

করোনা মোকাবিলা

প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০     আপডেট: ০১ অক্টোবর ২০২০   

সমকাল প্রতিবেদক

 ইউএসএআইডি ও ইউকেএইডের যৌথ অর্থায়নে সমকাল-ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল আয়োজিত অনলাইন গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা করোনাভাইরাস মোকাবিলায় মাস্ক ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন। তাদের অভিমত, করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষিত থাকতে মাস্কের বিকল্প নেই। মাস্ক ব্যবহারে শিথিলতা বিপদ ডেকে আনতে পারে। এমনকি করোনায় আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যুও হতে পারে। সুতরাং সঠিক নিয়ম মেনে মাস্ক ব্যবহার করতেই হবে। আর এতেই মিলবে সুরক্ষা। গতকাল বুধবার অনলাইন গোলটেবিল আলোচনায় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, সরকারি কর্মকর্তা, খেলোয়াড়, পরিবহন নেতা, ব্যবসায়ীসহ নানা শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা এসব কথা বলেন।

অনলাইন গোলটেবিল বৈঠক সঞ্চালনা করেন সমকালের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি। মাস্ক ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব আরোপ করে তিনি বলেন, করোনা মোকাবিলার পাশাপাশি জীবন-জীবিকা সমন্বয় করে চলতে হবে। এ ক্ষেত্রে সুরক্ষিত থাকাই বেশি জরুরি। নিজে সুরক্ষিত থাকতে হবে। অন্যকেও সুরক্ষিত রাখতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বিশেষজ্ঞদের মতে, করোনা থেকে সুরক্ষিত থাকার জন্য মাস্ক ব্যবহারই সবচেয়ে জরুরি। মাস্ক ব্যবহারে শিথিলতা বিপদ ডেকে আনতে পারে। 

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সাবেক মন্ত্রী লে. কর্নেল (অব.) ফারুক খান এমপি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, জাতীয় পার্টির যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী এমপি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সাবেক আঞ্চলিক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. মোজাহেরুল হক, বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক হাবিবুল বাশার সুমন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ এইচ এম সফিকুজ্জামান, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) কৃষ্ণপদ রায়, ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি শামস মাহমুদ, বাংলাদেশ পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ, ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনালের চিফ অব পার্টি ড্যানা ওল্ডস ও সিনিয়র ডিরেক্টর আমিনুল এহসান বক্তৃতা করেন।

ফারুক খান বলেন, জনগণের সুরক্ষার জন্য সরকার কাজ করে যাচ্ছে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর সব অনুষ্ঠান ভার্চুয়াল হচ্ছে। গ্রামে লোকজনের মধ্যে সচেতনতা কম। তাদের ধারণা, করোনা ধনীদের অসুখ। মাস্কের ব্যবহার বাড়াতে এর দাম কমাতে হবে। দেশজুড়ে বিতরণ করতে হবে। অনেক গার্মেন্ট মালিক বিদেশে মাস্ক রপ্তানি করছেন। তারা এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে পারেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর হতে হবে, জনগণকে মাস্ক পরাতে বাধ্য করতে হবে। সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি মাস্ক সহজলভ্য করে এবং আইন প্রয়োগের মাধ্যমে করোনার বিরুদ্ধে লড়াই জোরদার করতে হবে।

ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ বলেন, জনসাধারণের মধ্যে মাস্কের ব্যবহার নিয়ে শিথিলতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শুরুতে অধিকাংশ মানুষ মাস্ক ব্যবহার করলেও এখন তা করছে না। বর্তমান পরিস্থিতিতে ধারণা করছি, ২০ শতাংশ মানুষও হয়তো মাস্ক ব্যবহার করছে না। এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক। সম্প্রতি একটি হাসপাতালের আউটডোরে ব্যক্তিগত কাজে গিয়ে দেখলাম, মানুষ একজন আরেকজনের ঘাড়ের ওপর হুমড়ি খেয়ে পড়ছে। অধিকাংশেরই মাস্ক নেই। মনে হয়, তারা মাস্কের বিষয়টি পরোয়া করছে না। কিন্তু করোনা থেকে সুরক্ষিত থাকতে হলে মাস্ক ব্যবহার করতেই হবে। শুধু মাস্ক পরলেই হবে না, এটি যথাযথভাবে পরতে হবে। একই সঙ্গে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত রাখতে হবে। এটি ন্যুনতম তিন ফুট হতে হবে। অন্যথায় নিজের পাশাপাশি পরিবারের অন্য সদস্যদের জন্য জন্য ঝুঁকির সৃষ্টি হতে পারে। এভাবে প্রতিবেশী থেকে শুরু করে সবার মধ্যে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়বে। সুতরাং সতর্ক হতেই হবে। এজন্য আরও জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। 

ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, মাস্ক ব্যবহার, হাত ধোয়াসহ যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার প্রবণতা কমে আসছে। আগে বাসের মধ্যে একটি সিট খালি থাকত। কিন্তু এখন পাশাপাশি দুই সিটে যাত্রী বসছেন। একইসঙ্গে অধিকাংশ মাস্ক ব্যবহার করছেন না। এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। মানুষকে সচেতন করতে হলে রাজনৈতিক, সামাজিক, ধর্মীয়সহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিদের নিয়ে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। করোনা সম্পর্কিত একটি সংবাদ বুলেটিন প্রচার হতো। সেটি এখন সংবাদ বিজ্ঞপ্তি আকারে আসছে। বুলেটিনের জন্য আগে মানুষ টেলিভিশনের সামনে অপেক্ষা করতেন। সেটি বন্ধ হওয়ায় মানুষ মনে করছে, করোনা হয়ত চলে গেছে। এতে করে সাহসী হয়ে তারা রাস্তাঘাটে নেমে পড়ছে। এই গুরুত্বটি কিন্তু রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে নিতে হবে। 

শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, কভিডের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে রাজনৈতিক দলগুলো অংশ নিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বড় ধরনের কর্মসূচি হাতে নিতে হবে। রাষ্ট্রকে এগিয়ে আসতে হবে। ছোট ছোট স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, এনজিও, মিডিয়ার সঙ্গে পার্টনারশিপে কাজ করতে হবে। তাদের আর্থিক সহায়তা দিতে হবে। দেশের ৪০ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে গেছে। সরকার মাস্ক বানিয়ে তা বিতরণ করতে পারে। 

ডা. মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তর থেকে আমরা অনুভব করছি, এ বিষয়টি নিয়ে আরও বেশি করে আলোচনা হওয়া প্রয়োজন। মাস্ক নিয়ে অনেক ধরনের ক্যাম্পেইন হচ্ছে। এটিকে সমন্বয় করে কীভাবে আরও বড় পরিসরে ক্যাম্পেইন করা যায় তা নিয়ে ভাবতে হবে। করোনা প্রতিরোধী ভ্যাকসিন সময়সাপেক্ষ ব্যাপার। কারণ, আমরা এখনও জানি না ভ্যাকসিন কবে নাগাদ মানুষের কাছে পৌঁছাবে। এ অবস্থায় করোনা প্রতিরোধের যে কয়টি উপায় আছে সেগুলোর মধ্যে মাস্ক অন্যতম। এর পাশাপাশি সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করা এবং যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। কিন্তু সমস্যাটি হলো, এ বিষয়গুলো কেউ কেউ মানলেও অনেকে মানছেন না। জীবন ও জীবিকার স্বার্থে যেহেতু সবকিছু খুলে দেওয়া হয়েছে, তাই অন্তত স্বাস্থ্যবিধির বিষয়টি কঠোরভাবে মানা জরুরি। 

ডা. ফ্লোরা আরও বলেন, গত সপ্তাহের একটি জরিপে দেখা যায়, আগে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ মানুষ মাস্ক ব্যবহার করতেন। সেটি এখন ৩০ শতাংশে নেমেছে। কিছু মানুষ মাস্ক ব্যবহার করবে, আবার কিছু মানুষ করবে না, এটি হবে না। কারণ যতক্ষণ সবাই সুরক্ষিত থাকবে না, ততক্ষণ কেউই নিরাপদ নই। মাস্ক ব্যবহারে কীভাবে মানুষকে বাধ্য করানো যায়, তা নিয়ে ভাবতে হবে। অনেকে বলেছেন, ইতোমধ্যে অনেক দোকানে লেখা আছে, নো মাস্ক, নো সেল। আবার ব্যাংক কিংবা কোনো প্রতিষ্ঠানে যদি লেখা থাকে নো মাস্ক, নো সার্ভিস। তাহলে হয়তো মাস্কের ব্যবহার আরও বাড়বে।

ডা. মোজাহেরুল হক বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ শুরু থেকে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, যোগাযোগ এবং জনসম্পৃক্ততার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। যোগাযোগের ক্ষেত্রে আমাদের ব্যর্থতার কিছু নেই। সারাদেশের মানুষ সম্পূর্ণ সচেতন। জনগণকে সম্পৃক্ত করার দায়িত্ব ছিল সামাজিক সংগঠনগুলোর এবং রাষ্ট্রের। সেটি সঠিকভাবে হয়নি। রাষ্ট্রের উচিত সামাজিক সংগঠনগুলোকে সম্পৃক্ত করে কীভাবে প্রতিটি এলাকায় মানুষকে মাস্ক ব্যবহার ও স্বাস্থ্যবিধি মানতে উদ্বুদ্ধ করা যায়, সেই চেষ্টা করা। অনেকে মাস্ক ব্যবহার করছেন না। 

হাবিবুল বাশার সুমন বলেন, অন্য ক্ষেত্রে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও ক্রিকেটে এখনও স্বাভাবিক হয়নি। কবে মাঠে ক্রিকেটাররা নামতে পারবে তা জানি না। যদিও অনেক দেশ স্টেডিয়াম ফাঁকা রেখে খেলা শুরু করেছে। এই পরিস্থিতি কবে দূর হবে কেউ জানে না। তরুণদের মধ্যে মাস্ক পরার প্রবণতা কম। মাস্ক না পরাই তাদের জন্য এখন একটা ক্রেডিটের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বয়সের কারণে হয়তো তরুণদের ঝুঁকি কম। কিন্তু তাদের কারণে পরিবারের অন্য সদস্যরা ঝুঁকিতে পড়তে পারে- এই বিষয়টি মাথায় রাখতে হবে।

এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, মাস্ক পরার বিকল্প নেই। ভ্যাকসিন না আসা পর্যন্ত মাস্কই কভিড-১৯-এর ভ্যাকসিন। জীবন যেমন বাঁচাতে হবে, তেমনি জীবিকার দিকে তাকাতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, জীবনের সঙ্গে জীবিকার সংযোগের কথা। বিধিনিষেধ শিথিল করায় রপ্তানি বেড়েছে। লকডাউনের সময় অনেকেই সচেতন ছিল। কিন্তু এখন ঢিলেঢালা ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এজন্য সামাজিক সচেতনতা জরুরি।

কৃষ্ণপদ রায় বলেন, জোর করে কোনো কিছু মানাতে গেলে তা স্থায়ী হয় না। সচেতন করে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। পুলিশ একা এই কাজ করতে গেলে নানা ধরনের সমালোচনা হয়। তাই সবাইকে সঙ্গে নিয়েই পুলিশ মাঠে কাজ করবে। সাধারণ ছুটি চলাকালে পুলিশ বুঝিয়ে মানুষকে মাস্ক পরতে উৎসাহ দিয়েছে। নিজেদের সুরক্ষার জন্যই মাস্ক পরতে হবে। কারণ মাস্ক না পরলে সবার জন্যই ঝুঁকি তৈরি হয়। এ ক্ষেত্রে পুলিশের ঝুঁকি আরও বেশি। করোনাকালে শুধু ডিএমপির প্রায় তিন হাজার সদস্য আক্রান্ত হয়েছে। তবে ইতোমধ্যে অধিকাংশ সুস্থও হয়েছে। এখন মাত্র ৭০ জন চিকিৎসাধীন রয়েছে। ২৩ জন মারা গেছেন। 

শামস মাহমুদ বলেন, করোনার কারণে অর্থনৈতিক সংকট সৃষ্টি হয়েছিল। এরই মধ্যে ঘূর্ণিঝড় আম্পান মোকাবিলা করতে হলো। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া প্রণোদনা প্যাকেজের কারণে অর্থনৈতিক ক্ষতি মোকাবিলা করা সম্ভব হয়েছে। বর্তমানে অর্থনীতি একটি স্থিতিশীল পর্যায়ে আছে। কিন্তু মানুষ যেভাবে স্বাস্থ্যবিধি না মেনে চলাফেরা করছে, তাতে আতঙ্ক বাড়ছে। বিশ্বের অনেক দেশে সেকেন্ড ওয়েভ দেখা দিয়েছে। ইউরোপ, আমেরিকার দেশগুলোতে অর্থনীতি শক্তিশালী হওয়ার কারণে তারা হয়তো ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সক্ষম হবে। কিন্তু বাংলাদেশের মতো একটি দেশে ওই পরিস্থিতি তৈরি হলে সেই ক্ষতি পূরণ করা সম্ভব হবে না। সুতরাং খারাপ পরিস্থিতি যাতে সৃষ্টি না হয় সেজন্য আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতে হবে। সুরক্ষিত থাকতে হবে।

খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, শুরুতে যাত্রীরা মাস্ক ব্যবহার করতেন। দিন দিন তা অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছে। নো মাস্ক, নো সিট- এই স্লোগান নিয়ে পরিবহন মালিক সমিতি, বিআরটিএ, ডিএমপি এবং হাইওয়ে পুলিশের সমন্বয়ে মনিটরিং টিম গঠন করেছি। কিন্তু সম্প্রতি যাত্রীদের মধ্যে মাস্ক ব্যবহারে অনীহা লক্ষ্য করছি। আগে যাত্রীরা মনে করতেন মাস্ক না থাকলে সিট পাওয়া যাবে না। কিন্তু এখন অনেক যাত্রী মাস্ক ছাড়াই গাড়িতে ভ্রমণ করছেন। মাস্ক ব্যবহার করতে বললে অনেকে খারাপ ব্যবহার করেন। এজন্য বিআরটিএ, ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশের সমন্বিত দল তদারকি করলে হয়তো সুফল মিলতে পারে।

ড্যানা ওল্ডস বলেন, করোনা মহামারির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সবাই এগিয়ে এসেছেন। রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, সরকারি কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, এনজিওকর্মী সবাই যার যার স্থান থেকে ভূমিকা রাখছেন। নিজেদের অভিজ্ঞতার আলোকে তারা জনসাধারণকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের এসব পরামর্শ বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে মাস্কের সঠিক ব্যবহারের পাশাপাশি যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে বড় পরিসরে প্রচারণা চালাতে হবে।

আমিনুল এহসান বলেন, করোনায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তিন মাস ধরে সিটিজেন এডভোকেসি ফোরাম ক্যাম্পেইন করছে। এ সময় আমরা নানা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছি। বিভিন্ন ধরনের পরামর্শও এসেছে। সুপারিশমালার মধ্যে রয়েছে- মাস্ক না পরলে পণ্য বিক্রি করবে না- এই বিষয়ে দোকান মালিক সমিতিসমূহের সঙ্গে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আলোচনা হতে পারে, মন্ত্রণালয় থেকে সমিতিগুলোর কাছে নির্দেশনা যেতে পারে। পরিবহনে মাস্ক পরা উৎসাহিত করতে যোগাযোগ মন্ত্রণালয়কে পরিবহন মালিক এবং শ্রমিক সমিতিগুলোকে সঙ্গে নিয়ে সচেতনতা তৈরি করতে হবে। পথে চলাচলের সময় জনগণের মাস্ক ব্যবহার মনিটরিংয়ে পুলিশ বাহিনীকে জোরাল ভূমিকায় ফিরতে হবে। যেহেতু বাংলাদেশ সরকারের করোনা মোকাবলা কার্যক্রম স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে, সেহেতু এসব উদ্যোগের জন্যও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দিক নির্দেশনা ও সমন্বয় প্রয়োজন। রাজনৈতিক দলগুলোর সকল কার্যক্রমে স্বাস্থ্যবিধি মানাতে রাজনৈতিক নেতাদের ভূমিকা জরুরি। এই বিষয়ে কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে তৃণমূলে নির্দেশনা যাওয়া প্রয়োজন এবং তার বাস্তবায়নের তদারকিও প্রয়োজন। রাজনৈতিক নেতাদের সঠিক চর্চার মাধ্যমেই দলগুলোর দেশজুড়ে বিশাল সমর্থক গোষ্ঠী স্বাস্থ্যবিধি মানতে উৎসাহিত হবেন এবং এর ফলে দেশের ব্যাপক জনগোষ্ঠীকে স্বাস্থ্যবিধি মানতে প্রভাবিত করা সম্ভব।