অনশনরত সেই ঢাবি ছাত্রী হাসপাতালে

প্রকাশ: ১১ অক্টোবর ২০২০   

বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

ধর্ষণের মামলায় ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর, হাসান আল মামুনসহ অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে অনশনরত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

শনিবার সন্ধ্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে একটু সুস্থ হলে আবারো রাজুতে ফিরে অনশনের ঘোষণা দেন ওই ছাত্রী।

ডাকসুর সাবেক সদস্য ও ছাত্রলীগ নেত্রী তিলোত্তমা শিকদার সমকালকে বলেন, টানা তিন দিন অনশনের কারণে গত শক্রবার রাত থেকেই অসুস্থ ছিলেন তিনি। শনিবার সন্ধ্যায় কিছু না খাওয়ার ফলে ডিহাইড্রেশনে ভুগতে থাকলে তারা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি করেন। সেখান থেকে কিছু টেস্ট দেওয়া হলে পপুলার হাসপাতালে টেস্ট করিয়ে রাত সাড়ে আটটার দিকে আবারো ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আনা হয়। তার রিপোর্টের ফল দেখে ডাক্তার তাকে ২৪ ঘণ্টা অবজারভেশনে রাখতে চান। তবে হাসপাতালে থাকতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন ওই ছাত্রী। 

তিনি বলেন, এ অবস্থায় হাসপাতাল থেকে রিলিজ পেতে হলে তাকে বন্ডে সই করে বের হতে হবে।

এ বিষয়ে ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বললে তিনি রাজুতে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে বলেন, অপরাধীদের গ্রেপ্তার না হওয়া পর্যন্ত তিনি অনশন চালিয়ে যাবেন।  

এর আগে টানা ২৭ ঘণ্টা অনশনের পর গত শুক্রবার রাত ১১টার দিকে তিনি শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েন। এ সময় ঢাকা মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ডা. শেখ মো. আল আমিনের নেতৃত্বে একটি চিকিৎসক টিম এসে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা, হাতে স্যালাইন লাগিয়ে রাজু ভাস্কর্যে শুয়ে ছিলেন ওই ছাত্রী। ছাত্রলীগের বিভিন্ন শাখার নেত্রীরা তাকে সঙ্গ দিচ্ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, আমাদের প্রক্টরিয়াল টিম ওই ছাত্রীর সার্বিক নিরাপত্তার দ্বায়িত্বে কাজ করছেন। রাতে আামদের সহকারী প্রক্টর তাকে দেখে এসেছেন। ওই শিক্ষার্থীর পাশে আমরা আছি। তার জন্য বিশ্ববিদ্যালযের পক্ষ থেকে যা যা করা দরকার, তা করা হচ্ছে।

গত ২০ সেপ্টেম্বর রাতে ধর্ষণ ও ধর্ষণে সহযোগিতার অভিযোগ এনে লালবাগ থানায় মামলা করেন ওই ছাত্রী। এতে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুনকে প্রধান আসামি এবং ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরসহ ছয়জনকে আসামি করা হয়। পরদিন একই বাদী কোতোয়ালি থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন। তবে ১৭ দিন পার হলেও এসব মামলায় কেউ গ্রেফতার না হওয়ায় গত বৃহস্পতিবার রাতে অনশনে বসেন তিনি। তার সঙ্গে সংহতি জানিয়ে ছাত্রলীগের বিভিন্ন ইউনিটের ২২ নেত্রীও সেখানে অবস্থান নেন। ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে রাতেই ওই ছাত্রীর জন্য রাজু ভাস্কর্যে প্যান্ডেল তৈরি করে দেওয়া হয়েছে।