রায়হানের মৃত্যুতে দায়ীদের বিচারের সম্মুখীন হতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২০     আপডেট: ১৪ অক্টোবর ২০২০   

সমকাল প্রতিবেদক

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে রায়হান উদ্দিনের (৩৫) মৃত্যুর ঘটনাটি তদন্ত চলছে। তদন্তে নির্যাতনের প্রমাণ পাওয়া গেলে দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের সম্মুখীন হতে হবে। সেখানে যে ঘটনাটি ঘটেছে তা মিডিয়ায় প্রচার হয়েছে। আমরাও দেখেছি। বুধবার সচিবালয়ে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'রায়হানের মৃত্যু ঘটনায় ময়নাতদন্ত হচ্ছে। তার স্ত্রীর করা মামলা আমলে নেওয়া হয়েছে। সবগুলো সুষ্ঠু তদন্ত হবে। তদন্ত অনুযায়ী অবশ্যই দায়ীদের বিচারের সম্মুখীন হতে হবে। ইতিমধ্যে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করতে পিবিআইকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।'

সম্প্রতি ঢাকার নবাবগঞ্জ থানা হাজতের টয়লেট থেকে হত্যা মামলার আসামি মামুন হোসেনের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের দাবি- তাকে হত্যা করা হয়েছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'আসামি বাথরুমে গিয়ে নিজের লুঙ্গি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। হাজতখানার মধ্যে সে কীভাবে মারা গেল বা কারোর প্ররোচনায় আত্মহত্যা করেছে কি না, সে ব্যাপারে ভালোভাবে তদন্ত করা হবে। কাজেই তদন্ত শেষ না হওয়া এ ব্যাপারে কিছু বলা যাবে না।'

অপর এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, 'আইন সংশোধনের মাধ্যমে ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড করা হয়েছে। অনেকেই বলেছেন- ধর্ষণ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। কয়েকটি ঘটনা এমনভাবে ঘটেছে যেটা সবার চোখে পড়েছে। সেজন্যই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করা হয়েছে ।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিচারের ব্যবস্থাটা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে নয়। বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন। বিচার সুষ্ঠু হওয়ার ক্ষেত্রে সঠিক তদন্তের বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেখবে। সেই ব্যাপারে নিবিড়ভাবে দেখা হবে।'

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'পুলিশ তদন্তের পরও কোনো কোনো ক্ষেত্রে সঠিকভাবে তদন্ত করার জন্য পিবিআইকে দেওয়া হচ্ছে। তদন্ত যতখানি নিরপেক্ষভাবে করা যায়, সেটি করা হবে। তবে দ্রুত বিচার হওয়ার বিষয়টি বিষয়টি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হাতে নয়। এটি আদালত সিদ্ধান্ত নেবেন।'

তিনি বলেন, 'এসিড নিক্ষেপ একটা নিয়মিত হয়েছিল। এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড আইন করা হয়। এরপর একটি দুটি রায়ও যখন ঘোষিত হলো-তারপর এসিড নিক্ষেপের ঘটনা কমে গেছে। সেটাই মনে করে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান মৃত্যুদণ্ড করা হয়েছে। নারীরা যাতে মুক্ত হয় সেজন্য এ ব্যবস্থা করা হয়েছে।'