আলুর বাজার নিয়ন্ত্রণে চলছে অভিযান

ব্যবসায়ীদের জরিমানা

প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

সমকাল ডেস্ক

বেঁধে দেওয়া দামে আলু বিক্রি না করায় দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে ব্যবসায়ীদের জরিমানা করেছে প্রশাসন ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। গাইবান্ধার সাদুল্যাপুরে প্রয়াত বিএনপি নেতা রহিম উদ্দিন ভরসার কোল্ডস্টোরেজে ৫৮ হাজার বস্তা আলুর মজুদ পাওয়া গেছে। গতকাল শুক্রবার এখান থেকে পাইকারদের কাছে আলু বিক্রি হচ্ছিল ৩০ থেকে ৩২ টাকা কেজি দরে। যদিও কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মূল্য তালিকা অনুযায়ী কোল্ডস্টোরেজ থেকে ২৩ টাকা কেজি দরে আলু বিক্রি করার কথা। এদিকে ব্যবসায়ীদের জরিমানা করায় মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ার হাটবাজারে আলুশূন্য হয়ে পড়ে। সমকাল প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর :
ঢাকা :বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর রাজধানীসহ সারাদেশে অভিযান পরিচালনা করেছে। পুরান ঢাকার শ্যামবাজার, নয়াবাজার ও বাবুবাজারে অভিযান পরিচালনা করেন প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মাসুম আরেফিন, বিকাশ চন্দ্র দাস ও ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক রোজিনা সুলতানা। এ ছাড়া ঢাকার বাইরে বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক ও জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালকের নেতৃত্বে বিভিন্ন বাজারে তদারকি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে।
তদারকিকালে আলু ছাড়াও চাল, পেঁয়াজ, সয়াবিন তেল, আদাসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য যৌক্তিক মূল্যে বিক্রি হচ্ছে কিনা তা মনিটর করা হয়। এ সময় ১৬টি প্রতিষ্ঠানকে ৭০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। তদারকিকালে মূল্য নিয়ে কারসাজি না করা এবং বাধ্যতামূলকভাবে পণ্যের ক্রয় রসিদ সংরক্ষণের বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়। এ প্রসঙ্গে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বাবলু কুমার সাহা বলেন, অসাধু ও অনৈতিক ব্যবসার ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স প্রদর্শন করা হবে।
সাদুল্যাপুর (গাইবান্ধা) :সরকারি ঘোষণার পরও গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর উপজেলায় কমেনি আলুর মূল্য। খোলাবাজারে এখনও প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ৪৫ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে। উপজেলার ধাপেরহাট আরভি কোল্ডস্টোরেজে ৫৮ হাজার বস্তা আলু পাওয়া গেছে। এই কোল্ডস্টোরেজের মালিক বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য ও রংপুর জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি রহিম উদ্দিন ভরসা। বর্তমানে তার সন্তানরা এর দেখভাল করেন। গতকাল বিশ্ব খাদ্য দিবসে এই কোল্ডস্টোরেজে ঝটিকা পরিদর্শনে যান ইউএনও নবী নেওয়াজ। তিনি এই কোল্ডস্টোরেজে আলু মজুদ রাখা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় ব্যবসায়ী আব্দুর রশিদ সরকার বলেন, আমি বর্তমানে কোল্ডস্টোরেজ থেকেই আলু বিক্রি করছি ৩০ থেকে ৩২ টাকা কেজি দরে। অপর ব্যবসায়ী খোরশেদ আলম বলেন, আলু মজুদ রাখার সময় কিনতেই বস্তাপ্রতি দাম বেশি পড়েছে। তাই এখন দাম কমালে মজুদদারদের নিশ্চিত লোকসান গুনতে হবে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খাজানুর রহমান বলেন, সাদুল্যাপুর উপজেলায় যে পরিমাণ আলুর চাহিদা আছে, তার বিপরীতে আরভি কোল্ডস্টোরেজে মজুদ আলুতে সেই চাহিদা পূরণ করা সম্ভব। তাই আরভি কোল্ডস্টোরেজে মজুদ আলু বাজারে ছাড়লে খুচরা বাজারের মূল্য অনেক কমে আসবে।
মৌলভীবাজার :মৌলভীবাজারে আলুসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধে নিত্যনৈমিত্তিক জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা ও জেলা ভোক্তা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক বাজার মনিটরিং কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। এ সময় মেয়াদোত্তীর্ণ ভোগ্যপণ্য ও লাইসেন্সবিহীনভাবে শিশুখাদ্য বিক্রির অপরাধে তিন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে ১১ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়।
এদিকে মৌলভীবাজার ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আল আমিন খুচরা ব্যবসায়ীদের লিখিতভাবে নির্দেশ দিয়েছেন পাইকারি ২৫ টাকায় ও খুচরা ৩০ টাকা কেজিতে আলু বিক্রি করার জন্য। কিন্তু খুচরা বাজারে আলু ৪৫-৫০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।
মৌলভীবাজার চৌমোহনা এলাকার নওশাদ সুপার স্টোরের স্বত্বাধিকারী রাজন আহমদ জানান, আলু পাইকারি বাজার থেকে ৪৩ টাকা ৮৫ পয়সা কেজি দরে কিনে খুচরায় ৩০ টাকা দরে বিক্রি করা সম্ভব না। ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর মৌলভীবাজার জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক আল আমিন জানান, নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে পাইকারি বা খুচরা যিনি বিক্রি করবেন, তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বড়লেখা (মৌলভীবাজার) : সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে আলু বিক্রি করায় আলুর পাইকারি আড়তসহ সাতটি প্রতিষ্ঠানকে ২২ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। শুক্রবার দুপুরে বড়লেখা পৌর শহরের হাজীগঞ্জ বাজারে এই অভিযান চালানো হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন ইউএনও ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শামীম আল ইমরান।
সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ) :সাটুরিয়ার হাটবাজারগুলো হঠাৎ আলুশূন্য হয়ে পড়েছে। ক্রেতারা আলুর জন্য দোকানে দোকানে ভিড় করলেও আলু মিলছে না। বৃহস্পতিবার সাটুরিয়া হাটে কয়েকজন ব্যবসায়ীকে ভ্রাম্যমাণ আদালত জরিমানা করায় এ সংকট দেখা দিয়েছে। এদিকে ইউএনওর ফেসবুকে আলু নিয়ে স্ট্যাটাস ও ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে জরিমানা করার কারণেই আলুর সংকট দেখা দিয়েছে বলে হাটবাজারে আসা ক্রেতারা জানিয়েছেন। শুক্রবার কয়েকটি বাজারে সরেজমিন দেখা গেছে, কোনো দোকানে আলু নেই।
সাটুরিয়ার ইউএনও আশরাফুল আলম বলেন, ব্যবসায়ীরা যদি হাটবাজারগুলোতে আলু বিক্রি না করেন, তাহলে অন্য পন্থায় আলু আনার ব্যবস্থা করা হবে। টিসিবির সঙ্গে যোগাযোগ করে আলু আনা যায় কিনা সে ব্যবস্থা করা হবে।