দুর্গাপূজা হবে সীমিত পরিসরে, ঢাকায় হচ্ছে না কুমারীপূজা

প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২০   

 সমকাল প্রতিবেদক

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে এবারের শারদীয় দুর্গাপূজায় কোনো উৎসব হবে না। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সাত্ত্বিক আচারের মাধ্যমে পূজার আয়োজন হবে সীমিত পরিসরে। ঢাকায় এবার কুমারীপূজাও হবে না। মন্দির বন্ধ হয়ে যাবে রাত ৯টার মধ্যে। হবে না বিজয়ার শোভাযাত্রা। কভিড পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণ লাভে সব পূজামণ্ডপে বিশেষ প্রার্থনা করা হবে। অন্যদিকে, করোনার কারণে এবার দেশে গতবারের তুলনায় এক হাজার ১৮৫টি পূজামণ্ডপ কমেছে।

শনিবার ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনে আসন্ন দুর্গাপূজা উপলক্ষে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ আয়োজিত সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব তথ্য জানানো হয়। এতে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার চ্যাটার্জী। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি মিলন কান্তি দত্ত। উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি শৈলেন্দ্রনাথ মজুমদার, সাধারণ সম্পাদক কিশোর রঞ্জন মণ্ডল, অধ্যাপক চন্দ্রনাথ পোদ্দার, জে এল ভৌমিক, পূরবী মজুমদার, সুভাষ বিশ্বাস প্রমুখ।

লিখিত বক্তব্যে নির্মল কুমার চ্যাটার্জী আরও জানান, করোনার কারণে এবার দুর্গাপূজায় উৎসব-সংশ্নিষ্ট বিষয়গুলো পরিহার করে সাত্ত্বিক পূজায় সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। তাই এবারের দুর্গোৎসবকে কেবল দুর্গাপূজা হিসেবে অভিহিত করা হচ্ছে। এবার সারাদেশে ৩০ হাজার ২৩১টি পূজামণ্ডপে দুর্গাপূজা হবে। গত বছর পূজা হয়েছিল ৩১ হাজার ৩৯১টি মণ্ডপে। অর্থাৎ করোনার কারণে এবার এক হাজার ১৮৫টি পূজা কম হচ্ছে।

তিনি বলেন, গত ১৭ সেপ্টেম্বর মহালয়ায় দেবীপক্ষের সূচনা হলেও এ বছর আশ্বিন মাস 'মল মাস' হওয়ায় বরাবরের মতো মহালয়ার সাত দিন পর দুর্গাপূজা শুরু হয়নি। মহালয়ার ১ মাস ৫ দিন পর হেমন্ত ঋতুর কার্তিকে অর্থাৎ আগামী ২২ অক্টোবর ষষ্ঠী তিথিতে দেবীর আমন্ত্রণের মধ্য দিয়ে পাঁচ দিনের দুর্গাপূজা শুরু হবে। শেষ হবে ২৬ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে।

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, দুর্গাপূজায় মণ্ডপগুলোতে আলোকসজ্জা, বিশেষ সাজসজ্জা, মেলা, আরতি প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিহার করা হবে। ভক্তিমূলক বাদে অন্য কোনো গান বাজানো যাবে না। আতশবাজি বা পটকার ব্যবহারও করা যাবে না। সন্ধ্যার মধ্যে আরতি শেষ করে দর্শনার্থীদের মন্দিরে আসতে নিরুৎসাহিত করা হবে। রাত ৯টার পর মন্দির বন্ধ করে দিয়ে আর কোনো দর্শনার্থীকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।

দুর্গাপূজা চলাকালে সরকার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সচেষ্ট থাকবে- এমন আশা ব্যক্ত করে মিলন কান্তি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পূজা উদযাপন পরিষদ কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল গঠন ছাড়াও শাখা কমিটিগুলোকে মনিটরিং সেল গঠনের নির্দেশ দিয়েছে। সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে পূজা উদযাপন বিষয়ে গত ২৬ আগস্ট পূজা উদযাপন পরিষদ ২৬ দফা নির্দেশনা সারাদেশে পাঠিয়েছে। এর পরও ৪ অক্টোবর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকের সিদ্ধান্তের আলোকে পূর্বোক্ত ২৬ দফা বলবৎ রেখে ৮ অক্টোবর অতিরিক্ত ৭ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

সভায় দুর্গাপূজায় তিন দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণাসহ ৯ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। এসব দাবিতে আরও রয়েছে, অন্যান্য জাতীয় উৎসবের মতো দুর্গাপূজাও জাতীয় মর্যাদায় পালন ও কারাগার, হাসপাতাল ও অনাথ আশ্রমে উন্নতমানের খাবার পরিবেশন; দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি অনুদান পূজা উদযাপন পরিষদের স্থানীয় কমিটির তালিকা অনুযায়ী বণ্টন; হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের পরিবর্তে হিন্দু ফাউন্ডেশন গঠন; দেবোত্তর সম্পত্তি পুনরুদ্ধার ও সংরক্ষণ আইন প্রণয়ন; সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠন; সংখ্যালঘু অধিকার সুরক্ষা আইন প্রণয়ন ও অর্পিত সম্পত্তি ফেরত প্রদানে জটিলতা নিরসন; প্রত্যেক উপজেলায় একটি করে মডেল মন্দির প্রতিষ্ঠা ও সারাদেশে বিভিন্ন মন্দির উন্নয়ন/পুনর্নির্মাণ বাবদ সরকার প্রদত্ত ২৫২ কোটি টাকার কাজের দ্রুত বাস্তবায়ন এবং আরও বেশিসংখ্যক মন্দির সংস্কারে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দ প্রদান।