দূর থেকে মনে হয় ঝুলন্ত নৌকা। কাছে গেলে ভুল ভাঙে। নৌকা নয়, পথচারী পারাপারের ফুট ওভারব্রিজ। ঢাকা-মাওয়া-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের প্রবেশমুখ রাজধানীর জুরাইনে নৌকার আদলে নির্মাণ চলছে এই ফুট ওভারব্রিজের। ছয় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এই ফুট ওভারব্রিজের কাজ শেষ হতে পারে আগামী মাসের মাঝামাঝি।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ঢাকা জোন) সবুজ উদ্দিন খান সমকালকে জানিয়েছেন, এক্সপ্রেসওয়ে হেঁটে পারাপারের সুযোগ নেই। তাই ৫৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পথে ১২টি ফুট ওভারব্রিজ নির্মাণ করা হচ্ছে ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে। বাকি ১১টি সাধারণ ফুট ওভারব্রিজ। জুরাইনের নৌকা আকৃতির ফুট ওভারব্রিজটি হবে 'আইকনিক'।

এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের সওজ অংশের পরিচালক সবুজ উদ্দিন খান জানিয়েছেন, নৌকার আদলে নির্মাণাধীন ফুট ওভারব্রিজের আগে থাকবে নান্দনিক গোলচত্বর। এর মাঝখানে স্থাপন করা হবে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য। চীনে নির্মাণ করা হচ্ছে ভাস্কর্যটি। তিনি আশা করছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী মাসে এর উদ্বোধন করবেন।

গত শনিবার নির্মাণ এলাকা ঘুরে দেখা যায়, এক্সপ্রেসওয়ের প্রবেশমুখে নৌকার আদলে ফুট ওভারব্রিজটির নির্মাণকাজ চলছে। প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে রাজবাড়ীর ইন্টারসেকশন থেকে মাওয়ায় পদ্মা সেতু হয়ে ফরিদপুরের ভাঙ্গা পর্যন্ত ৫৫ কিলোমিটার এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে গত মার্চে। পুরান ঢাকার বাবুবাজার সেতু থেকে আরেকটি সংযোগ সড়ক এক্সপ্রেসওয়েকে যুক্ত করবে রাজধানীর সঙ্গে। পদ্মা সেতুর নির্মাণ শেষে এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে দ্রুত সময়ে দক্ষিণবঙ্গে যাতায়াত করা যাবে। এটি চালুর পর ঢাকা থেকে মাওয়া পর্যন্ত ৩৪ কিলোমিটার পথ আধা ঘণ্টায় পাড়ি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে সেনাবাহিনী। প্রবেশ নিয়ন্ত্রিত এই চার লেনের এক্সপ্রেসওয়ের দু'পাশে রয়েছে সার্ভিস লেন, যা সাড়ে পাঁচ থেকে সাড়ে সাত মিটার পর্যন্ত প্রশস্ত। এতে শুধু দ্রুতগতির যানবাহন চলবে। সার্ভিস লেনে চলবে ধীরগতির যানবাহন। ফুট ওভারব্রিজ ছাড়াও সড়ক পারাপারে রয়েছে ছয়টি আন্ডারপাস, যাতে গাড়ির দিক পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে। গত ৩১ আগস্ট পর্যন্ত এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পের শেষ হয়েছে প্রায় ৯৫ শতাংশ। এখন চলছে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ।