নৌযান ধর্মঘট অব্যাহত, নদীবন্দরে অচলাবস্থা

প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২০   

সমকাল প্রতিবেদক

নৌযান শ্রমিকদের কর্মবিরতিতে চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীতে অলস বসে আছে লাইটার জাহাজগুলো- সংগৃহীত

নৌযান শ্রমিকদের কর্মবিরতিতে চট্টগ্রামে কর্ণফুলী নদীতে অলস বসে আছে লাইটার জাহাজগুলো- সংগৃহীত

বেতন-ভাতা বৃদ্ধিসহ ১১ দফা দাবিতে বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন এবং নৌযান শ্রমিকদের নিয়োগপত্র ও মাসিক খাদ্যভাতা প্রদানসহ ১৫ দফা দাবিতে নৌ-শ্রমিক অধিকার সংরক্ষণ ঐক্য পরিষদের ডাকে সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের পণ্যবাহী নৌযান ধর্মঘট অব্যাহত রয়েছে।

দ্বিতীয় দিনের মতো ধর্মঘটে বুধবার পণ্যবাহী ছোট-বড় সব ধরনের নৌযান চলাচল বন্ধ ছিল। অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে দেশের সব নদীবন্দরেও। তবে দুর্গাপূজার কারণে ধর্মঘটের আওতামুক্ত থাকা যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।

সোমবার রাত ১২টা থেকে সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের এই ধর্মঘটের ডাক দেয় আটটি সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন। অন্যদিকে, সেদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকেই সারাদেশে আলাদাভাবে অনির্দিষ্টকালের নৌযান ধর্মঘটের ডাক দেয় নৌ-শ্রমিক অধিকার সংরক্ষণ ঐক্য পরিষদ। এ নিয়ে শ্রমিক-মালিক ও সরকারের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে সমাধান না মেলায় সোমবার থেকে সারাদেশের সব নৌবন্দর ও নৌপথে পণ্যবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

সারাদেশ থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী, নৌযান শ্রমিকদের ধর্মঘটে আটকা পড়ে দেশের ৩৮টি ঘাটে দু'দিন ধরে ভাসছে ৮৭৪টি জাহাজ। এসব জাহাজে চাল, ডাল, গমসহ বিভিন্ন ধরনের প্রায় ১২ লাখ টন পণ্য রয়েছে। চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরের বহির্নোঙরেও পণ্য নিয়ে আটকা পড়েছে ৪৩টি বড় বিদেশি জাহাজ। শিল্পের কাঁচামালসহ এসব জাহাজে আছে প্রায় ১০ লাখ টন পণ্য। টানা দু'দিনের ধর্মঘট নৌ বাণিজ্যে স্থবিরতা তৈরি করেছে। অচলাবস্থা তৈরি করছে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরের বহির্নোঙরেও। খুলনা ও মোংলা নৌবন্দরেও পণ্যবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ থাকায় পণ্য পরিবহনে অচলাবস্থা দেখা দিয়েছে।

বরিশাল ব্যুরো থেকে সুমন চৌধুরী জানান, অভিন্ন দাবি নিয়ে আলাদা দুটি প্ল্যাটফর্মে অবস্থান নিয়ে আন্দোলনে নেমেছেন নৌযান শ্রমিকরা। দাবি এক হলেও আন্দোলনের ক্ষেত্রে তারা একে অপরকে স্বীকৃতি দিতে নারাজ। নিজেদের এই অন্তর্দ্বন্দ্বের কারণেই ২০১৮ সাল থেকে শুরু হওয়া ১১ দফা দাবির আন্দোলন এ পর্যন্ত সফল হয়নি বলে জানা গেছে। ফলে নৌ সেক্টরের অস্থিরতারও স্থায়ী নিরসন হচ্ছে না।

এ নিয়ে গত এক বছরে চতুর্থবারের মতো ধর্মঘটে গেলেন নৌযান শ্রমিকরা। আপাতত পণ্যবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ হলেও আন্দোলনকারীরা হুমকি দিচ্ছেন- দাবি আদায় না হলে দুর্গাপূজার পর যাত্রীবাহী নৌযান চলাচলও বন্ধ করে দেবেন তারা। অচলাবস্থা নিরসনে বুধবার পর্যন্ত নৌযান মালিক কিংবা নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে আলোচনার প্রস্তাব আসেনি বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারী সংগঠনগুলোর নেতারা।

খুলনা ব্যুরো জানায়, নৌযান ধর্মঘট অব্যাহত থাকায় খুলনা থেকে দেশের সব রুটে পণ্যবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে। নদীপথে সব ধরনের পণ্য পরিবহনও বন্ধ রয়েছে। খুলনা নদীবন্দরে জাহাজগুলোতে পণ্যবোঝাই কিংবা খালাস হচ্ছে না। ধর্মঘটের সমর্থনে গতকাল নগরীর ৪ নম্বর ঘাট এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করেছেন নৌযান শ্রমিকরা।

মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি জানান, নৌযান শ্রমিকদের কর্মবিরতি তথা ধর্মঘটের ফলে মোংলা বন্দর কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। পশুর চ্যানেলে অবস্থানরত জাহাজগুলো থেকে কোনো পণ্য বোঝাই-খালাস কাজ হচ্ছে না। তবে বন্দর জেটি ও গ্যাস ফ্যাক্টরিতে সামান্য কাজ হচ্ছে। অন্যদিকে, মোংলা বন্দরে অবস্থানরত জাহাজে পণ্য ওঠানামার কাজ ব্যাহত হওয়ায় মালামাল বোঝাই ও খালাস কাজে জড়িত শ্রমিকরা অনেকটা বেকার হয়ে পড়েছেন। তারা অবিলম্বে এ কর্মবিরতি প্রত্যাহার করার ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দাবি জানিয়েছেন।

মোংলা বন্দরের পশুর চ্যানেল ও মোংলা খাড়িতে তিন-চারশ লাইটারেজ জাহাজ অবস্থান করে কর্মবিরতি পালন করছে। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এম শাহজাহান জানান, বন্দরে অবস্থানরত কয়লা, সার, পাথর, ক্লিঙ্কারসহ কয়েকটি জাহাজে কর্মবিরতির ফলে পণ্য ওঠানামার কাজে সমস্যা হচ্ছে।