টানা তিনদিন পণ্যবাহী নৌযান চলাচলে অচলাবস্থার পর মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা শেষে ধর্মঘট প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনরত নৌযান শ্রমিক সংগঠনগুলো। বৃহস্পতিবার সরকারের মধ্যস্ততায় শ্রম মন্ত্রণালয়ে মালিক-শ্রমিকদের মধ্যে বৈঠকের পর ধর্মঘট প্রত্যাহারের এ ঘোষণা আসে।

বৈঠক শেষে বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় দেশব্যাপী নৌযান ধর্মঘট আহ্বানকারী বাংলাদেশ নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শাহ আলম ভূইয়া সমকালকে জানান, বৈঠকে মালিকপক্ষ নৌযান শ্রমিকদের অন্যতম দাবি খোরাকি ভাতা (খাদ্যভাতা) দিতে রাজি হওয়ায় ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছেন তারা। 

আলাদাভাবে ধর্মঘট আহ্বানকারী নৌযান শ্রমিকদের অপর জোট নৌ-শ্রমিক অধিকার সংরক্ষণ ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক সৈয়দ শাহাদাত হোসেন বলেন, মালিকপক্ষ খাদ্যভাতা প্রদানের দাবিটি মেনে নিয়ে বাকি দাবিগুলো পর্যায়ক্রমে পূরণের আশ্বাস দিয়েছেন। এরপর তারা ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

নৌযান শ্রমিকদের নিয়োগপত্র ও মাসিক খাদ্যভাতা প্রদানসহ ১৫ দফা দাবি পূরণে সোমবার রাত ১২টা ১ মিনিট থেকে সারাদেশে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি তথা ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল আটটি সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত নৌযান শ্রমিক ফেডারেশন। অন্যদিকে বেতন ও খাদ্যভাতাসহ ১৫ দফা দাবিতে সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে সারাদেশে আলাদাভাবে অনির্দিষ্টকালের নৌযান ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিল ছয়টি সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত নৌ-শ্রমিক অধিকার সংরক্ষণ ঐক্য পরিষদ। এ নিয়ে শ্রমিক-মালিক ও সরকারের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে সমাধান না মেলায় সোমবার মধ্যরাত থেকে সারাদেশের সব নৌবন্দর ও নৌপথে পণ্যবাহী নৌযান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। তবে দুর্গাপূজার কারণে যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচলকে ধর্মঘটের আওতামুক্ত রাখা হয়েছিল।

এ অবস্থায় বৃহস্পতিবার দুপুরে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, নৌযান শ্রমিকদের খাদ্যভাতার দাবি ন্যায্য এবং বৃহস্পতিবারের মধ্যেই নৌযান ধর্মঘটের সমাধান করা হবে।

এরপর সন্ধ্যা পৌনে ছয়টায় সচিবালয়ের শ্রম মন্ত্রণালয়ে সরকারের সঙ্গে মালিক-শ্রমিকদের ত্রিপক্ষীয় বৈঠক শুরু হয়। শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ানের সভাপতিত্বে দুই ঘণ্টার এই বৈঠকে সরকারের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব কে এম আবদুস সালাম, শ্রম অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এ কে এম মিজানুর রহমান, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর আবু জাফর মো. জালাল উদ্দিন এবং বিআইডব্লিউটিএ'র চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

ধর্মঘট আহ্বানকারী শ্রমিক সংগঠনের পক্ষে নৌ-শ্রমিক অধিকার সংরক্ষণ ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক সৈয়দ শাহাদাত হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক ওমর ফারুক এবং নৌযান শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি শাহ আলম ভূইয়া ও সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী আশিকুল আলমসহ দুই সংগঠনের নেতারা বৈঠকে যোগ দেন। অন্যদিকে মালিকদের পক্ষে যাত্রী পরিবহন (যাপ) মালিক সমিতির সভাপতি মাহবুব উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম, কার্গো ভ্যাসেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইকবাল হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক নুরুল হকসহ অন্যান্য নেতারা বৈঠকে ছিলেন।

বৈঠক সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকে মালিকপক্ষ পণ্যবাহী নৌযান শ্রমিকদের বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে মাসিক খাদ্যভাতা প্রদানে সম্মত হন। এক্ষেত্রে ১ হাজার টনের নিচের জাহাজের শ্রমিকরা মাসিক ১ হাজার, দেড় হাজার টনের নিচের জাহাজের শ্রমিকরা মাসিক ১ হাজার ২০০ এবং দেড় হাজার টনের ওপরের জাহাজের শ্রমিকরা মাসিক দেড় হাজার টাকা করে খাদ্যভাতা পাবেন। যাত্রীবাহী নৌযানের শ্রমিকদের খাদ্যভাতার বিষয়টিও এক মাসের মধ্যে সমাধানের আশ্বাস দেন মালিকরা।