নির্ধারিত সময়ের এক বছর পর শেষ হবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঞ্চালন লাইনের নির্মাণকাজ। 

২০২২ সালের মধ্যে এ লাইন চালুর কথা থাকলেও এখন তা পিছিয়ে ২০২৩ সালের মধ্যে শেষ করার অঙ্গীকার করেছে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি)। রূপপুর প্রকল্প নিয়ে গঠিত জাতীয় কারিগরি কমিটির সপ্তম সভা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু নভোথিয়েটারের কনফারেন্স কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান এতে সভাপতিত্ব করেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব ড. আহমদ কায়কাউস, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আনোয়ার হোসেনসহ সংশ্নিষ্ট মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা এ বৈঠকে অংশ নেন।

সভায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান বলেন, রূপপুর প্রকল্প বাস্তবায়ন এখন দৃশ্যমান। যথাসময়ে এই প্রকল্পের কাজ শেষ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. শৌকত আকবর বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক অনেক নিয়মকানুন মানতে হয়। সেসব মানার নির্দেশনা তৈরিতেই জাতীয় কারিগরি কমিটি সিদ্ধান্ত দিয়ে থাকে। তিনি জানান, সঞ্চালন লাইন নির্মাণেও পিজিসিবি তাদের অবস্থান জানিয়েছে এবং তা বাস্তবায়নে জাতীয় কমিটির কাছে অঙ্গীকার করেছে।

সভার কার্যপত্র থেকে দেখা যায়, ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ চুল্লিতে জ্বালানি তথা ইউরেনিয়াম লোড করা হবে। এ জন্য রূপপুর থেকে বিদ্যুৎ সঞ্চালনের জন্য লাইন প্রস্তুত থাকার কথা ২০২২ সালের শুরুতেই। পিজিসিবি জনিয়েছে, সঞ্চালন লাইন নির্মাণ শেষ করতে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় লাগবে।

জাতীয় কমিটির সভায় রাশিয়ান ঠিকাদার এটমস্ট্রয় এপপোর্টের প্রতিনিধি জানান, নির্ধারিত সময়সূচি মেনে তারা রূপপুরে যেমন ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ করছে, তেমনি রাশিয়ার কয়েকটি শহরে চুল্লির যন্ত্রাংশও প্রস্তুত করছে। ইতোমধ্যে রূপপুরের প্রথম ইউনিটের মূল যন্ত্র রিঅ্যাক্টর প্রেসার ভেসেল ১৪ হাজার কিলোমিটার আন্তর্জাতিক নৌপথ পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে এসেছে। এর সঙ্গে এসে পৌঁছেছে স্টিম জেনারেটরও। যন্ত্র দুটি এখন নৌপথে মোংলা হয়ে প্রকল্প এলাকায় নির্মিত নৌবন্দরের দিকে যাত্রা শুরু করেছে।

জাতীয় কারিগরি কমিটির সভায় প্রকল্পের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিশ্নেষণ এবং নির্দেশনা দেওয়া হয়। সভায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সহায়ক কর্মচারীদের জন্য আবাসন প্রকল্প নির্মাণ নিয়েও আলোচনা হয়। এ জন্য রেলওয়ের কাছ থেকে প্রায় ৪৩ একর জমি অধিগ্রহণের বিষয়টি জানান সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তা। এখানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মসজিদ, হাসপাতাল, বাজারসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে।