এএসপি আনিসুল করিম হত্যা

মাইন্ড এইড প্রতিষ্ঠায়ও সরকারি চিকিৎসকরা

ডা. মামুন রিমান্ডে, আরও দু'জনের স্বীকারোক্তি

প্রকাশ: ১৮ নভেম্বর ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

বিশেষ প্রতিনিধি

গ্রেপ্তার চিকিৎসক আব্দুল্লাহ আল মামুনকে মঙ্গলবার আদালতে হাজির করা হয়	- সমকাল

গ্রেপ্তার চিকিৎসক আব্দুল্লাহ আল মামুনকে মঙ্গলবার আদালতে হাজির করা হয় - সমকাল

চিকিৎসালয়ের নামে কসাইখানা হিসেবে পরিচিত রাজধানীর আদাবরের মাইন্ড এইড হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু হয়েছিল ২০১৯ সালের জুলাইয়ে। অনুমোদনহীন এই প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলতে নেপথ্যে থেকে সরকারি হাসপাতালের বেশ কয়েকজন অসাধু চিকিৎসক উদ্যোক্তাদের উৎসাহ-উদ্দীপনা দিয়েছিলেন। দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, মাইন্ড এইডের অন্যতম পরিচালক মুহাম্মদ নিয়াজ মোর্শেদের সঙ্গে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের রেজিস্ট্রার ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুনের সখ্য ছিল। মাইন্ড এইডে সবচেয়ে বেশি শেয়ারের মালিক নিয়াজ। মামুনসহ আরও কয়েকজন চিকিৎসকের আগ্রহের কারণে নিয়াজ ছাড়াও অন্য উদ্যোক্তারা হাসপাতালটির কার্যক্রম শুরু করেন। সরকারি হাসপাতালের এই চিকিৎসকরা মাইন্ড এইড কর্তৃপক্ষকে কথা দেন, রোগী তারা পাঠাবেন। ওই হাসপাতাল কখনও রোগী সংকটে ভুগবে না। মোটামুটি টাকা-পয়সা রয়েছে এমন রোগী পেলেই তারা মাইন্ড এইডে পাঠিয়ে দিতেন। এর বিনিময়ে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকরা কমিশন পেতেন।
এদিকে জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) আনিসুল করিম শিপনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের রেজিস্ট্রার ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গতকাল তাকে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। এদিকে এই মামলায় গতকাল তানিফ মোল্লা ও তানভীর হাসান নামে আরও দু'জন আদালতে দোষ স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। এ নিয়ে এই ঘটনায় মোট ছয়জন আদালতে জবানবন্দি দিলেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ জানান, মঙ্গলবার সকালে শেরেবাংলা নগর সরকারি স্টাফ কোয়ার্টারের বাসা থেকে মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ডিসি বলেন, এর আগে আনিসুলের ঘটনায় করা মামলায় আদালতে যারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার পরামর্শেই দালালের মাধ্যমে পুলিশ কর্মকর্তা আনিসুলকে মাইন্ড এইড হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল।
উপকমিশনার হারুন বলেন, আনিসুল করিমকে তার স্বজনরা প্রথমে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে নিয়ে যান। ডা. মামুনের পরামর্শে আদাবরের ওই বেসরকারি হাসপাতালে তাকে স্থানান্তর করা হয়েছিল। মামুন মাইন্ড এইড হাসপাতাল ছাড়াও টাঙ্গাইলের একটি এবং ঢাকার আরেকটি বেসরকারি হাসপাতালে রোগী দেখেন। মাইন্ড এইডে কোনো রোগী পাঠালে ৩০ শতাংশ কমিশন বাবদ নিতেন মামুন।
ডিসি আরও বলেন, করোনার টেস্ট নিয়ে জেকেজির জালিয়াতি আমরা সামনে এনেছিলাম। ওই ঘটনায় জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হয়নি। শ্যামলী ও আশপাশ এলাকায় যারা চিকিৎসার নামে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করছে, তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।
তদন্ত সংশ্নিষ্ট সূত্র জানায়, গত এক বছরে শুধু মাইন্ড এইড হাসপাতালে অন্তত ২৫ রোগীকে পাঠিয়েছেন ডা. মামুন। এ ছাড়া ওই হাসপাতালে তিনি প্রায় নিয়মিত রোগী দেখতে যেতেন। প্রতিবার পরিদর্শনে দেড় হাজার টাকা নিতেন।
গত ৯ নভেম্বর আদাবরের মাইন্ড এইড হাসপাতালে মানসিক রোগের চিকিৎসা নিতে গিয়ে মারধরের শিকার হয়ে মারা যান এএসপি আনিসুল। তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অনুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের ৩৩ ব্যাচের ছাত্র ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি গাজীপুরে। আনিসুল সর্বশেষ বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের সহকারী কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।