দেশ ও সমাজের নানা ক্ষেত্রের উন্নয়নে অবদান রাখা তরুণদের অনুপ্রেরণা প্রদানে প্রবর্তিত 'জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড'-এর এবারের আসরে পুরস্কৃত হয়েছে 'মিশন সেভ বাংলাদেশ'।

প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা এবং সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের (সিআরআই) সভাপতি সজীব ওয়াজেদ জয় মঙ্গলবার রাতে এক ভার্চুয়াল অনুষ্ঠানে 'জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড-২০২০' বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করেন। 'মিশন সেভ বাংলাদেশ'সহ ১২ ক্যাটাগরিতে পুরস্কার পাওয়া ৩০টি সংগঠনের নাম ঘোষণা করেন তিনি।

করোনা মহামারির মধ্যেও দেশের অর্থনৈতিক ধারা উন্নতির দিকে রয়েছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, 'ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়ন হয়েছে বলেই করোনা পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতি মুখ থুবরে পড়েনি। অথচ উন্নত অনেক দেশ বড় অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়েছে।'  নেতৃত্বগুণে আমরা উন্নতি করছি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে পুরস্কারপ্রাপ্তদের ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান  সজীব ওয়াজেদ জয়।

দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর গত মার্চে সুবিধাবঞ্চিত, অসহায়, দরিদ্র ও কর্মহীন মানুষের মধ্যে নিত্যপণ্য বিতরণ শুরু করে দৈনিক সমকাল, সেবা এক্সওয়াইজেড ও দ্য ডেইলি স্টারের উদ্যোগ ‘মিশন সেভ বাংলাদেশ’। সহায়তা কার্যক্রম বাস্তবায়নের পাশাপাশি তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগ নেয় সংগঠনটি। সারাদেশে শুরু হয় সচেতনতামূলক নানা কার্যক্রম।

মিশন সেভ বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা জীবাণুমুক্ত করা হয়। দরিদ্র মানুষের মধ্যে হ্যান্ড স্যানিটাইজার বিতরণ ও চিকিৎসকদের পারসোনাল প্রটেকশন ইকুইপমেন্ট (পিপিই) দেওয়া হয়। মিশন সেভের সহায়তা পেয়ে হাসি ফোটে অসংখ্য ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর মুখে।

'মিশন সেভ বাংলাদেশ'-এর নির্বাহী সদস্য সোনিয়া বশির কবীর বলেন, 'সুবিধাবঞ্চিত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে মিশন সেভের দল কঠোর পরিশ্রম করেছে। দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই যাত্রা ছিল অনেক অনুপ্রেরণামূলক।' সংগঠনের ভবিষ্যত কার্যক্রম নিয়েও আশাবাদী তিনি।

'মিশন সেভ বাংলাদেশ'-এর সভাপতি তাজদীন হাসান বলেন, 'শুরুর দিনগুলোতে করোনা মহামারির অবস্থা দেখে আমরা ঘাবড়ে গিয়েছিলাম। দেশি ও বিদেশি ব্র্যান্ডগুলোর সহায়তায় আমরা সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে পেরেছি। আগামীতেও মিশন সেভ বাংলাদেশ তরুণ প্রজন্মকে সঙ্গে নিয়ে সমাজকে এগিয়ে নিতে কাজ করে যাবে।'

'মিশন সেভ বাংলাদেশ'-এর সাধারণ সম্পাদক ইমরান কাদির বলেন, 'নিশ্চিতভাবেই মিশন সেভ বাংলাদেশ আগামীতে আরও মানুষের পাশে দাঁড়াবে, দরিদ্র মানুষের মুখে হাসি ফোটাবে। এক্ষেত্রে জয় বাংলা ইয়ুথ অ্যাওয়ার্ড কাজ করবে অনুপ্রেরণা হিসেবে।' মিশন সেভের কার্যক্রমে যারা যুক্ত রয়েছেন তারা সবাই এই স্বীকৃতির অংশীদার বলেন উল্লেখ করেন তিনি। 

প্রতিষ্ঠার পর 'মিশন সেভ বাংলাদেশ' দুই লাখ ডলার তহবিল সংগ্রহ করে। এর মাধ্যমে এক লাখ মানুষকে সাহায্য করে সংগঠনটি। ওয়াশিংটন পোস্ট, ইয়াহু নিউজ, এপিসহ বেশকিছু আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয় 'মিশন সেভ বাংলাদেশ'-এর কার্যক্রমের কথা।

মন্তব্য করুন