সুস্থ হয়ে ওঠা পুলিশরা থাকবেন ফ্রন্ট লাইনে

করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবিলায় ডিএমপির প্রস্তুতি

প্রকাশ: ১৯ নভেম্বর ২০২০       প্রিন্ট সংস্করণ

বকুল আহমেদ

করোনা মহামারিতে যখন এ রোগে সংক্রমিত ব্যক্তি থেকে আতঙ্কিত স্বজনরা দূরে থেকেছেন, তখন সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন পুলিশ সদস্যরা। করোনায় মৃত অনেক নারী-পুরুষের মৃতদেহের ধারেকাছেই আসেননি স্বজনরা। এসব লাশের দাফন কিংবা সৎকারে এগিয়ে এসেছেন পুলিশ সদস্যরা। লাশ বহন থেকে শুরু করে জানাজা, দাফন সবই করতে হয়েছে তাদের। এ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তাদের অনেকেও করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন। প্রাণও হারিয়েছেন অনেকে।
করোনাভাইরাসের এই প্রথম ঢেউ কাটিয়ে ওঠার পর শীত ঋতুতে দ্বিতীয় ঢেউয়ের ধাক্কা সামলানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বাংলাদেশে। দ্বিতীয় ঢেউয়ে সংক্রমণরোধে আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছে ঢাকা মহানগর পুলিশও (ডিএমপি)। করোনায় আক্রান্ত পুলিশ সদস্যদের সহায়তার জন্য গঠন করা হয়েছে একাধিক টিম।
এ প্রসঙ্গে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মীর রেজাউল আলম সমকালকে বলেন, 'করোনা সংক্রমণ রোধে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। করোনায় আক্রান্ত হওয়ার পর যে পুলিশ সদস্যরা সুস্থ হয়েছেন, তাদের ফ্রন্ট লাইনে রাখা হবে, কারণ তাদের অ্যান্টিবডি তৈরি হয়ে আছে।' মার্চ মাসের শুরুতে মহামারি করোনাভাইরাস হানা দেয় বাংলাদেশে। গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা সংক্রমিত তিন রোগীর তথ্য সামনে আসে। ক্রমেই করোনাক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। বড় হতে থাকে মৃতের তালিকাও। তবে আগস্টের শুরু থেকে আক্রান্ত এবং মৃত্যুহার কমতে থাকলেও নভেম্বরের শুরুতে আবার এ হার বাড়ছে। শীতে তা আরও বাড়বে- এমনটিই আশঙ্কা করা হচ্ছে। বিশ্বের অনেক দেশেও করোনা দ্বিতীয়বারের মতো হানা দিয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং জানমালের নিরাপত্তায় করোনাকালেও পুলিশ দায়িত্ব পালন করেছে মাঠপর্যায়ে। করোনাক্রান্ত রোগীদের সেবায়ও নিয়োজিত ছিলেন এ প্রতিষ্ঠানের সদস্যরা। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এ পর্যন্ত ডিএমপির তিন সহস্রাধিক সদস্য করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে অন্তত ২৪ জনের।
করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে সংক্রমণরোধেও ডিএমপির সদস্যরা রাজধানীতে মাঠে থাকবেন। এ প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা নিয়োগ ও তাদের দায়িত্ববণ্টন, আবাসন, অ্যাম্বুলেন্স, খাবার ব্যবস্থাপনাসহ নানান বিষয়ে সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তাদের দিকনির্দেশনা দিয়েছে ডিএমপি।
সম্প্রতি ডিএমপি সদরদপ্তরে করোনাভাইরাসের অধিকতর সংক্রমণ রোধকল্পে ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা সভায় বিভিন্ন নির্দেশনা দেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার মীর রেজাউল আলম। তিনি বলেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউকে কোনোভাবেই খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। মাস্ক পরা ও হাত ধোয়ার মতো অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি সবাইকে কঠোরভাবে মানতে হবে।
করোনা সংক্রমণ মোকাবিলায় গঠিত ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তাদের কার্যপরিধিও ঠিক করে দিয়েছে ডিএমপি। পুলিশের কোনো সদস্যের মধ্যে করোনার উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত পরীক্ষা করানোর ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় সভায়। করোনা পজিটিভ হলে দেরি না করে চিকিৎসার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া ছুটি থেকে আসা প্রত্যেক পুলিশ সদস্যকে কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করতে হবে। এ সময় কোয়ারেন্টাইনে থাকা পুলিশ সদস্যদের নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করা হয়। বলা হয়েছে, করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংস্পর্শে আসা সব পুলিশ সদস্যের নামের তালিকা প্রস্তুতের পাশাপাশি তাদের কোয়ারেন্টাইনেও পাঠাতে হবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা প্রতিনিধিরা নিরাপদ দূরত্বে থেকে মাস্ক, গ্লাভস ও পিপিই ব্যবহার করে সতর্কতার সঙ্গে কোয়ারেন্টাইনে থাকা সদস্যদের খোঁজখবর নেবেন।
করোনা মোকাবিলার কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে ডিএমপির বিভিন্ন বিভাগ ও ইউনিটকে উত্তর ও দক্ষিণ- এই দুই অংশে বিভক্ত করা হয়েছে। উত্তর অংশে রয়েছে- পিওএম পুলিশ লাইন্সের ব্যারাক, ট্রাফিক উত্তরা, গুলশান, মিরপুর ও তেজগাঁও বিভাগ। অপরাধ বিভাগের মধ্যে গুলশান, মিরপুর, তেজগাঁও, ডিপ্লোম্যাটিক সিকিউরিটি বিভাগ। দক্ষিণ অংশে রয়েছে- রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স ব্যারাক, ট্রাফিক রমনা, মতিঝিল, ওয়ারী ও লালবাগ বিভাগ; এবং অপরাধ বিভাগের মধ্যে রমনা, মতিঝিল, ওয়ারী, লালবাগ, প্রটেকশন, ডিএমপি সদরদপ্তর, ডিবি ও সিটিটিসি।