ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন, আইনের শাসনের চাইতে আমি জবাবদিহিতাকে বড় মনে করি। কারণ জবাবদিহিতা থাকলে আইনও বদল হবে। আসল কথাটি হচ্ছে জনমত। ভরসা কিন্তু এই সংসদে নয়, ভরসা সরকারও নয়, ভরসা হচ্ছে সেই জনমত, যে জনমত সংসদ ও সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারবে। যেখানে থাকতে হবে জবাবদিহিতা। গণতন্ত্রের মূল কথাটিই হলো জবাবদিহিতা।

তিনি বলেন, গণতন্ত্র কেবল ভোটে প্রতিষ্ঠিত হয় না। জনমত তৈরি হবে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। সে ক্ষেত্রে মিডিয়া অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। আজ মিডিয়া যত শক্তিশালী, অতীতে কখনও এমনটি ছিল না। মিডিয়া যদি এই খবরগুলো তুলে ধরে, জনমত গঠনে সহায়তা করে, তাহলে মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার হবে।

রোববার রাজধানীর জাতীয় চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (এফডিসি) 'ধর্ষণ প্রতিরোধে রাজনৈতিক সদিচ্ছা' শীর্ষক ইউসিবি পাবলিক পার্লামেন্ট ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠানে বরেণ্য এ শিক্ষাবিদ এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।

সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, শুধু আইনের শাসন দিয়ে ধর্ষণ প্রতিরোধ সম্ভব নয়। মৃত্যুদণ্ডের ভয়ে যে ধর্ষক সংযত হবে সেটাও ঠিক নয়। এর জন্য প্রয়োজন সমাজ পরিবর্তনের আন্দোলন। এ বিষয়ে সন্দেহ নেই, ধর্ষণ আজ মহামারি আকার ধারণ করেছে। শিশু ধর্ষণ চলছে, ধর্ষণের পর হত্যা করা হচ্ছে। আজ মানুষ হতাশ হচ্ছে, মানুষ আত্মহত্যা করছে। এর প্রতিরোধ দরকার। এই প্রতিরোধের মূল দায়িত্ব রাষ্ট্রের।

তিনি আরও বলেন, এটা অত্যন্ত দুঃখজনক, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এখন কোনো ছাত্র সংসদ নেই। সংস্কৃতি চর্চা নেই, কোনো বিতর্ক নেই, খেলাধুলা নেই।

সভাপতির বক্তব্যে হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, রাজনৈতিক প্রভাব-প্রতিপত্তি, বিচারের দীর্ঘসূত্রতা, মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণে আমাদের ধর্ষণ নামক মহামারি প্রতিরোধ করতে বেগ পেতে হচ্ছে। সর্বস্তরে ক্ষমতার অপব্যবহার, অর্থনৈতিক বৈষম্য, তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার, যৌতুক, নারীর ক্ষমতার অপর্যাপ্ততা, ধর্মের ভুল ব্যাখ্যা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কিছু সদস্যের দায়িত্ব বোধের অভাব- সর্বোপরি সমাজের সর্বস্তরে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত না হওয়া ধর্ষণ বৃদ্ধির জন্য দায়ী।

প্রতিযোগিতায় তেজগাঁও কলেজকে পরাজিত করে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ এশিয়া বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, সাংবাদিক আরিফুর রহমান, নাদিয়া শারমিন, আঙ্গুর নাহার মন্টি ও সাজেদা পারভিন। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মধ্যে ক্রেস্ট ও সনদপত্র প্রদান করা হয়।