সুন্দরবন ও পার্বত্য চট্টগ্রাম ছাড়া সারাদেশের মৃত্তিকা জরিপ শেষ করে ৩৪ খণ্ডে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। এসব তথ্য-উপাত্ত প্রধানত কৃষি উৎপাদন পরিকল্পনা ছাড়াও স্থানভিত্তিক ফসল নির্বাচনসহ নতুন ফসল বা জাত প্রবর্তন বা সম্প্রসারণের জন্য স্থান নির্বাচন ও সার ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, ইতোমধ্যে দেশের ১০ লাখ ৫৬ হাজার হেক্টর বা শতকরা ২৭ ভাগ জমিতে লবণাক্ততা বিস্তৃত হয়েছে।

বুধবার এসআরডিআই সভাকক্ষে ইনস্টিটিউটের চলমান গবেষণা কার্যক্রম, অর্জিত সাফল্য এবং বিশ্ব মৃত্তিকা দিবস ২০২০ সম্পর্কে অবহিতকরণ আলোচনা সভায় মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট (এসআরডিআই) মহাপরিচালক কৃষিবিদ বিধান কুমার ভান্ডার এ কথা জানান।

মহাপরিচালক বলেন, ১৯৮৫-২০০২ সালের মধ্যে আধা-বিস্তারিত জরিপের মাধ্যমে দেশের সব উপজেলার জন্য আলাদাভাবে ভূমি ও 'মৃত্তিকা সম্পদ ব্যবহার নির্দেশিকা' প্রকাশ করা হয়েছে। নির্দেশিকাগুলো স্থানভিত্তিক কৃষি উন্নয়ন পরিকল্পনা তৈরি, ফসল নির্বাচন, সুষম সার ব্যবহার, কৃষি উপকরণের চাহিদা নির্ধারণ, প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও পুনর্বাসন কর্মসূচি নির্ধারণসহ অন্যান্য কৃষি ও অবকাঠামো উন্নয়ন প্রণয়নের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। বর্তমানে ২৯৫ উপজেলা নির্দেশিকা হালনাগাদ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ফসল উৎপাদনে মৃত্তিকা বিশ্নেষণের ভিত্তিতে সুষম সার ব্যবহারবিষয়ক সেবা সম্প্রসারণের এবং কৃষকদের কাছে আরও সহজবোধ্য করতে ইউনিয়নভিত্তিক ৫৩০টি ইউনিয়নের ভূমি, মাটি, সার সুপারিশ সহায়িকা প্রকাশের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। প্রায় ৩০০টি খামারের বিস্তারিত জরিপ ও প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়েছে। প্রাথমিক মৃত্তিকা জরিপলব্ধ তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে সারাদেশকে ৩০টি কৃষি পরিবেশ অঞ্চল এবং ৮৮টি উপ-কৃষি পরিবেশ অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। কৃষি পরিবেশ অঞ্চল গঠনের চারটি উপাদানের মধ্যে তিনটি মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের সৃজিত ডাটাবেজ থেকে নেওয়া হয়েছে।

সভায় জানানো হয়, ২৩টি স্থায়ী গবেষণাগারের মাধ্যমে বছরে প্রায় ৪০ হাজার মৃত্তিকা, পানি ও উদ্ভিদ নমুনা বিশ্নেষণ করে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সুষম সার সুপারিশ দেওয়া হচ্ছে। সারের গুণগত মান নিশ্চিত করার স্বার্থে সাতটি বিভাগীয় গবেষণাগারের মাধ্যমে বছরে প্রায় তিন হাজার সারের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। ১০টি ভ্রাম্যমাণ মৃত্তিকা পরীক্ষাগারের মাধ্যমে প্রতি বছর ১১২ উপজেলার প্রায় পাঁচ হাজার ছয়শ কৃষকের জমির মাটি পরীক্ষা করে বিভিন্ন ফসলের জন্য সার সুপারিশ করা হচ্ছে। উপজেলা কৃষি ও মৃত্তিকা সম্পদ ব্যবহার নির্দেশিকা ব্যবহার করে বছরে ৩০ হাজার কৃষককে সুষম সার দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। ভূমি ও মৃত্তিকা সম্পদ ব্যবহার নির্দেশিকা বিষয়ে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের চার হাজার পাঁচশ কৃষি কর্মকর্তার মধ্যে ব্লক পর্যায়ের চার হাজার কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

বিধান কুমার ভান্ডার বলেন, মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট 'অনলাইন সার সুপারিশ' প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছে। এর ফলে যে কোনো প্রান্ত থেকে কৃষক এখন অনলাইনের মাধ্যমে জমির জন্য দরকারি সারের মাত্রা নিরূপণ করতে পারে।

প্রসঙ্গত, প্রতি বছরের মতো এবারও ৫ ডিসেম্বর বিশ্ব মৃত্তিকা দিবস পালিত হবে। থাইল্যান্ডের রাজা ভূমিবলের জন্মদিনে এ দিবস পালন করা হয়। আন্তর্জাতিক মৃত্তিকা বিজ্ঞান ইউনিয়ন ২০০২ সালে মৃত্তিকা দিবস পালনের প্রস্তাব করে। পরে আন্তর্জাতিক খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) মাটির স্বাস্থ্য রক্ষার জন্য সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে জাতিসংঘে একটি প্রস্তাব পেশ কওে, যা জাতিসংঘের ৬৮তম সভায় অনুমোদন পায়। ২০১৩ সাল থেকে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।