দেশে প্রথম করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছিল ৮ মার্চ। প্রথম রোগী শনাক্তের ১০ দিন পর ১৮ মার্চ প্রথম মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এরপর করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়তে থাকে। জুন ও জুলাইয়ে সর্বোচ্চ সংখ্যক রোগী শনাক্ত হয়। এরপর ধীরে ধীরে কমলেও ১৫ দিন ধরে সংক্রমণ ও মৃত্যু বাড়ছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও করোনার দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে। তা প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি মানা ও মাস্ক ব্যবহারেও জোর দিয়েছেন তারা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও এ বিষয়ে সংশ্নিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন।\হসরকারি নির্দেশনার অংশ হিসেবেই সম্প্রতি প্রতিদিনই বিভিন্ন স্থানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। এর পরও জনসাধারণের মধ্যে মাস্ক ব্যবহারের আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। মাস্ক না পরার বিষয়ে অনেকে নানা অজুহাত দেখাচ্ছেন। অনেকে মাস্ক পকেটেই রেখে দিচ্ছেন, কেউ আবার থুতনিতে রাখছেন। আবার এমন লোকও আছেন যারা বাইরে কাজে বের হলেও সঙ্গে মাস্কই রাখছেন না। এতে ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যাচ্ছে সবাই। গতকাল মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দেশে এক দিনে করোনায় আরও ৩১ জনের মৃত্যু\হহয়েছে, শনাক্ত হয়েছে দুই হাজার ২৯৩ জন। সকাল ৮টা পর্যন্ত শনাক্ত দুই হাজার\হ২৯৩ জনকে নিয়ে মোট শনাক্তের সংখ্যা চার লাখ ৬৭ হাজার ২২৫ জনে পৌঁছেছে। আর গত এক দিনে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের নিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা ছয় হাজার ৬৭৫ জনে পৌঁছাল। এ ছাড়া গত এক দিনে আরও দুই হাজার ৫১৩ জন সুস্থ হয়ে উঠেছেন। এ নিয়ে মোট তিন লাখ ৮৩ হাজার ২২৮ জন সুস্থ হয়ে উঠলেন।\হবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে ১১৮টি ল্যাবে ১৫ হাজার ৯৬৯টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। মোট পরীক্ষা করা হয়েছে ১৫ হাজার ৫০১টি। এ পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ২৭ লাখ ৮৮ হাজার ২০২টি। গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৪ দশমিক ৭৯ শতাংশ। এ পর্যন্ত মোট শনাক্তের হার ১৬ দশমিক ৭৬ শতাংশ। মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৪৩ শতাংশ। সুস্থতার হার ৮২ দশমিক ০২ শতাংশ।\হগত ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে পুরুষ ১৭ জন এবং নারী ১৪ জন। তাদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের ২৩, চট্টগ্রামের পাঁচ, রাজশাহীতে এক, সিলেটে এক এবং ময়মনসিংহ বিভাগে একজন। গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনা, বরিশাল ও রংপুর বিভাগে করোনায় কারও মৃত্যু হয়নি। মৃতদের সবাই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।\হমৃতদের মধ্যে ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সী দুই, ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সী দুই, ৪১ থেকে ৫০ বছর বয়সী এক, ৫১ থেকে ৬০ বছর বয়সী সাত এবং ৬০ বছর বয়সের ওপরে ১৯ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় আইসোলেশনে নেওয়া হয়েছে ২৬১ জনকে। একই সময়ে আইসোলেশন থেকে ১৯৮ জন ছাড় পেয়েছেন। এ পর্যন্ত মোট আইসোলেশনে গেছেন ৯১ হাজার ৫০৬ জন। আইসোলেশন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৭৮ হাজার ৫৭৭ জন। বর্তমানে আইসোলেশনে আছেন ১২ হাজার ৯২৯ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় এক হাজার ১৬২ জনকে কোয়ারেন্টাইন করা হয়েছে। একই সময়ে কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড় পেয়েছেন ৯০১ জন। এ পর্যন্ত কোয়ারেন্টাইনে নেওয়া হয়েছে পাঁচ লাখ ৮০ হাজার ৭৯১ জনকে। কোয়ারেন্টাইন থেকে ছাড় পেয়েছেন পাঁচ লাখ ৪০ হাজার আটজন। বর্তমানে কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৪০ হাজার ৭৮৩ জন।

বিষয় : মাস্কে অনীহা

মন্তব্য করুন