হালকা বাতাস শুরু হওয়ায় কুয়াশা সরে সূর্যের দেখা মিলবে, এমন আশায় বুক বেঁধেছিলেন আবহাওয়াবিদরা। ভূমধ্যসাগর থেকে আসা এই কুয়াশা সরে গিয়ে হিমালয়ের পাদদেশে বৃষ্টি ঝরে বিদায় নেবে। সেই ভরসায় থাকতে না থাকতে আরব সাগর থেকে আসা বাতাসের সঙ্গে একরাশ জলীয়বাষ্পও হাজির হয়েছে। ফলে চার দিন ধরে জমে থাকা কুয়াশা আরও ঘন হয়ে উঠেছে। তবে দিনের তাপমাত্রা খুব বেশি না কমলেও শীতের অনুভূতি বেড়েই চলেছে।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, চলতি কুয়াশাচ্ছন্ন প্রকৃতি আরও দু'দিন স্থায়ী হতে পারে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ওপর দিয়ে আগামী ১৭ ও ১৮ ডিসেম্বর চলতি শীত মৌসুমের প্রথম শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। শৈত্যপ্রবাহের আগে দেশের কোথাও কোথাও হালকা বৃষ্টি হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ বজলুর রশীদ বলেন, আরব সাগর থেকে আসা জলীয়বাষ্পপূর্ণ বায়ুর কারণে কুয়াশা আরও দু-একদিন থাকতে পারে। সোম-মঙ্গলবার থেকে কুয়াশা কেটে গিয়ে সূর্যের দেখা পাওয়া যেতে পারে।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, সোমবার সূর্যের দেখা পাওয়ার পর তাপমাত্রা কিছুটা বাড়লেও ধীরে ধীরে তাপমাত্রা আবারও কমতে থাকবে। বিশেষ করে পশ্চিমা লঘুচাপ ছড়িয়ে পড়ায় সারাদেশেই শীতের অনুভূতি বাড়তে পারে। তাপমাত্রা দ্রুত কমে উত্তরাঞ্চলে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ শুরু হতে পারে।

শুক্রবার দেশের সবচেয়ে কম তাপমাত্রা ছিল সীতাকুণ্ডে ১৪ দশমিক ৩ এবং রাজধানীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৭ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়াবিদ ওমর ফারুক বলেন, আগামী ১৭ থেকে ১৮ ডিসেম্বর নাগাদ দেশে প্রথম শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে। প্রথম দিকে দেশের উত্তরাঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহ অনুভূত হবে। পরে দেশজুড়েও শৈত্যপ্রবাহ অনুভূত হবে। উত্তরাঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহ হলেও এর প্রভাবে দেশজুড়ে তাপমাত্রা নেমে আসবে। শৈত্যপ্রবাহের সময় উত্তরাঞ্চলে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নেমে আসতে পারে।

এদিকে, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি জানান, এক সপ্তাহ ধরে ঘন কুয়াশা, গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি, হিমেল হাওয়ায় কনকনে শীতে কাহিল হয়ে পড়েছে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার জনজীবন। গরম কাপড়ের অভাবে মানবেতর দিন কাটাচ্ছে ছিন্নমূল মানুষ। সরকারিভাবে সাত হাজার শীতবস্ত্র বিতরণ করা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। বিশেষ করে তিস্তার চরাঞ্চলের অসহায় পরিবারগুলো কাবু হয়ে গেছে। গত বুধবার থেকে সূর্যের আলো দেখা যায়নি সুন্দরগঞ্জে।

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি জানিয়েছেন, ঈশ্বরদীতে জেঁকে বসেছে শীত। গত তিন দিনেও দেখা মেলেনি সূর্যের। চার দিন ধরে তাপমাত্র ১১ থেকে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ওঠানামা করছে। শুক্রবার ঈশ্বরদীতে তাপমাত্রা ছিল ১৫ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিকে ঈশ্বরদী শহরের ফুটপাত ও রেলওয়ে হকার্স মার্কেটে গরম কাপড় বিক্রির ধুম পড়েছে। নিম্ন আয়ের মানুষ ও মধ্যবিত্তরা কম দামে গরম কাপড় কিনতে ছুটছেন এসব দোকানে।

কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি জানান, তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় মেঘনা উপকূলীয় লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। কনকনে শীতের সঙ্গে হিমেল হাওয়ায় কাবু হয়ে পড়েছেন উপজেলার মেঘনা তীরবর্তী এলাকার মানুষ। কর্মজীবীরা কাজে যেতে না পেরে অতি কষ্টে দিনাতিপাত করছেন। শীতবস্ত্রের অভাবে বিভিন্ন বেড়িবাঁধের ওপর আশ্রিত ছিন্নমূল মানুষ মানবেতর দিন কাটাচ্ছে। চরাঞ্চলের মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে সর্দি, জ্বর ও নিউমোনিয়াসহ ঠান্ডাজনিত নানা রোগের প্রকোপ। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেপ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।