কুষ্টিয়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙচুরের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। সংগঠনের সভাপতি শেখ ফজলে ফাহিম বলেছেন, বঙ্গবন্ধু মানে বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধু মানে স্বাধীনতা। স্বাধীনতার ৫০ বছরপূর্তির আগমুহূর্তে জাতির পিতার অবমাননা ব্যবসায়ীরা মানবেন না। আলেম সমাজের আড়ালে স্বাধীনতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা হবে- এটা সহ্য করা হবে না বলে হুশিয়ারি দেন তিনি।

শনিবার রাজধানীর মতিঝিলে শাপলা চত্বরে মানববন্ধনে এ কথা বলেন তিনি। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর অবমাননার প্রতিবাদে এফবিসিসিআইয়ের আহ্বানে সারাদেশে একযোগে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন ব্যবসায়ীরা। সকাল সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত মতিঝিলের কর্মসূচির সময়ে দেশের সব মহানগর ও জেলা শহরের ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে এবং ভিডিও কনফারেন্সর মাধ্যমে শাপলা চত্বরের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে সমস্বরে প্রতিবাদ জানায়।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বঙ্গবন্ধুকে অসম্মান করা মানে বাংলাদেশকেই অসম্মান করা। স্বাধীনতা বিরোধীরা ছাড়া এই কাজ কেউ করতে পারে না। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের ওপর আঘাত মানে বাঙালি জাতিসত্ত্বার ওপর আঘাত করা। এই হামলা রাষ্ট্র ও সংবিধানবিরোধী। যারাই এই কাজের সঙ্গে জড়িত থাকবে, তাদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।

শেখ ফজলে ফাহিম বলেন, বাংলাদেশের ব্যবসায়ী খাতের সব সংগঠন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবমাননার প্রতিবাদ জানাতে সমাবেত হয়েছে। জাতির পিতার প্রতি অবমাননা দেশের বেসরকারি খাত কখনও মেনে নেবে না।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর প্রাক্কালে একটি শ্রেণি বাংলাদেশের যুবসমাজকে ভুল পথে পরিচালিত করার জন্য, ভুল শিক্ষা দেওয়ার জন্য অপপ্রয়াস চালাচ্ছে। তাদের সেই দুরাভিসন্ধি কখনও সফল হবে না। দেশের অগ্রগতির পথে যারা বাধা হয়ে দাঁড়াবে, স্বাধীনতার বিপক্ষে অবস্থান নেবে, তাদের সবার জন্য এই মানববন্ধন একটি সতর্কবার্তা।

তিনি আরও বলেন, ব্যবসায়ীরা সম্মানিত আলেমদের শ্রদ্ধা করেন। কিন্তু তাদের লেবাস পরে কোনো স্বার্থান্বেষী মহলকে বঙ্গবন্ধুকে অবমানননা, ধর্মকে ব্যবহার করে তাদের ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত স্বার্থ হাসিল করতে দেওয়া হবে না।

যারা বঙ্গবন্ধুকে অবমাননা করে তাদের সতর্ক করে এমসিসিআই সভাপতি নিহাদ কবির বলেন, এ ধরনের ধৃষ্টতা দেখাবেন না। ব্যবসায়ীরা তা মেনে নেবেন না। ঢাকা চেম্বারের সভাপতি শামস মাহমুদও বঙ্গবন্ধুকে অবমাননার তীব্র নিন্দা জানান।

রিহ্যাবের সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন বলেন, বঙ্গবন্ধুতে আঘাত করা মানে স্বাধীনতাকে আঘাত করা, দেশকে আঘাত করা। যারা এ ধরনের কর্মকাণ্ড করে, অবশ্যই তাদের খুঁজে বের করা হবে।

বায়রার প্রেসিডেন্ট বেনজীর আহমেদ বলেন, পাকিস্তানি দোসরদের বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুকন্যার নেতৃত্বে ব্যবসায়ীরা লড়ে যাবেন।

বিজিএমইএর সহ-সভাপতি এসএম মান্নান কচি বলেন, যারা একদিন স্বাধীনতা চায়নি, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে, তারাই ষড়যন্ত্র করে ১৯৭৫ সালে বাঙালি জাতির মহানায়ককে হত্যা করেছিল। স্বাধীন বাংলাদেশে দাঁড়িয়ে তারা আজও ধর্মের নামে ষড়যন্ত্র করছে। আমরা যারা স্বাধীনতার চেতনায় বিশ্বাসী, তারা কখনও এটা সহ্য করবে না।

বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারারস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মনোয়ার হোসেন বঙ্গবন্ধুকে অবমাননার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, যাদের সন্তানরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের বলতে চাই, আপনার যে সন্তান জাতির পিতাকে সম্মান দিতে জানে না, সে সন্তান আপনাকেও সম্মান দেবে না।

প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান আহসান খান চৌধুরী বলেন, এখন একমাত্র কর্মসূচি হওয়া উচিত বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশে অবমাননার কোনো স্থান হবে না।

এফবিসিসিআইয়ের সহ-সভাপতি রেজাউল করিম রেজনুর সঞ্চালনায় মানববন্ধনে চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মাহবুবুল আলম ও রাজশাহী চেম্বারের সভাপতি মনিরুজ্জামন মনি ভিডিও কনফারেন্সে সংযুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন। 

এছাড়া মানববন্ধনে এফবিসিসিআইয়ের সিনিয়র সহ-সভাপতি মুনতাকিম আশরাফ, সহ-সভাপতি নিজামুদ্দিন রাজেশ ও সংগঠনের পরিচালকরাসহ খাত ভিত্তিক বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা অংশ নেন।