জাতীয় সংসদে ৬০টি সংরক্ষিত আসন ও পৃথক নির্বাচন ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং সংখ্যালঘুবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও একটি স্বাধীন সংখ্যালঘু কমিশন প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু মহাজোট। সংগঠনটি বলেছে, হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতা ও নির্যাতন রোধ এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্ব সুনিশ্চিত করতে এসব পদক্ষেপ নিতে হবে। হিন্দু সম্প্রদায় আশা করে, সরকার আগামী অধিবেশনে বিল পাস করে এসব দাবি-দাওয়া বাস্তবায়ন করবে।

বুধবার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে জাতীয় হিন্দু মহাজোটের এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন সংগঠনের মহাসচিব অ্যাডভোকেট গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক। উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি অ্যাডভোকেট বিধান বিহারী গোস্বামী, নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট দীনবন্ধু রায়, কেন্দ্রীয় নেতা প্রদীপ কুমার পাল, অ্যাডভোকেট প্রদীপ সরকার, অ্যাডভোকেট লাকি বাছার, অ্যাডভোকেট সুজয় ভট্টাচার্য, প্রদীপ চন্দ্র, সরল কুমার রায়, কল্যাণ মণ্ডল, চয়ন বাড়ৈ, সাগরিকা মণ্ডল, সাজেন কৃষ্ণ বল, সজীব কুণ্ডু, মৌসুমি রায় প্রমুখ।

লিখিত বক্তব্যে বিদায়ী ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত এক বছরে দেশের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরা হয়। এতে জানানো হয়, এ সময়কালে হিন্দু সম্প্রদায়ের ১৪৯ জনকে হত্যা, হত্যার হুমকি ২০১ জন, হত্যাচেষ্টা ১৪৬ জন, জখম ও আহত করা হয়েছে সাত হাজার ৩৭ জনকে এবং নিখোঁজ হয়েছেন ৬১ জন। সেইসঙ্গে চাঁদাবাজি হয়েছে ৪৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা, পরিবার ও মন্দির লুট হয়েছে ২৪৪টি, ক্ষতি হয়েছে এক হাজার ৩২২ কোটি ২১ লাখ ৯৩ হাজার টাকার। বসতবাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে ৪৫৪টি। অগ্নিসংযোগ ১১৬টি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ১০১টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। ভূমি দখল হয়েছে ১০ হাজার একর, যার মধ্যে চাক, ম্রো ও ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের আট হাজার ২০০ একর এবং এবং হিন্দুদের দুই হাজার ২৩৬ দশমিক ৭৩ শতাংশ। 

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, পরিসংখ্যান বলে দিচ্ছে, দেশে প্রতিনিয়তই হিন্দু নির্যাতন বাড়ছে। ২০১৫ সালের তুলনায় গত পাঁচ বছরে হিন্দু নির্যাতন বেড়েছে কয়েক গুণ। বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও এ দেশের হিন্দু সম্প্রদায় কখনোই স্বাধীনতার স্বাদ লাভ করেনি। বর্তমান সরকারের আমলেও সংখ্যালঘু নির্যাতনকারী অপরাধীদের একজনও শাস্তি পায়নি। এ অবস্থায় হিন্দু সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরে সংখ্যালঘু নির্যাতন ও নিপীড়ন বন্ধের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি করলেও সরকার দাবির প্রতি কর্ণপাত করেনি। যে কারণে দিন দিন হিন্দু নির্যাতন বেড়েই চলেছে।