ঢাকা সোমবার, ০৪ মার্চ ২০২৪

ভোটের আগে আসতে পারে দিকনির্দেশনা

ভোটের আগে আসতে পারে দিকনির্দেশনা

সাব্বির নেওয়াজ

প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৩ | ১৮:০০

রাজধানীর পূর্বাচলে বাণিজ্য মেলা মাঠে লাখো ইমামের সম্মেলন ঘটাতে যাচ্ছে সরকার। সংসদ নির্বাচনের আগে এ সম্মেলনকে বিশেষভাবে দেখছেন অনেকে। তারা বলছেন, সম্মেলনে ভোটের বিষয়ে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের দিকনির্দেশনা দেওয়া হতে পারে।

আগামীকাল সোমবারের এ সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই সঙ্গে সেখানে ষষ্ঠ দফায় সারাদেশে আরও ৫০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র উদ্বোধন করবেন তিনি।

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, জাতীয় ইমাম সম্মেলনে সারাদেশ থেকে প্রায় ১ লাখ ইমামকে আনা হচ্ছে। সম্মেলনে বিশেষ অতিথি থাকবেন সৌদি আরবের মদিনার মসজিদে নববির ইমাম শায়খ ড. আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আল বুয়াইজান। সম্মেলনে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ইমামদের পুরস্কৃত করা হবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে জানা গেছে, দেশে ফাউন্ডেশনের মসজিদভিত্তিক গণশিক্ষা কেন্দ্রে শিক্ষকতার সঙ্গে জড়িত আছেন প্রায় ৮০ হাজার আলেম-ওলামা। তাদের প্রতি মাসে সাড়ে ৫ হাজার থেকে ১১ হাজার টাকা পর্যন্ত সম্মানী ভাতা দিয়ে থাকে সরকার। এই শিক্ষকরা ফাউন্ডেশনের ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমির প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। এর বাইরেও কয়েক হাজার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ইমাম আছেন। তাদেরও এই সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মু. আ. হামিদ জমাদ্দার সমকালকে বলেন, সোমবার রাজধানীতে জাতীয় ইমাম সম্মেলন হবে। সেখান মসজিদে নববির ইমাম আসবেন। আশা করছি, ১ লাখের মতো ইমাম এই সম্মেলনে আসবেন। ওই অনুষ্ঠানে ষষ্ঠ দফায় আরও ৫০টি মডেল মসজিদ উদ্বোধন করা হবে জানিয়ে সচিব বলেন, পূর্বাচল ভেন্যু থেকে আমরা দুটি মডেল মসজিদে ভার্চুয়ালি যুক্ত হবো। একটি মডেল মসজিদ পাবনায় ও আরেকটি কুড়িগ্রামে।

ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে, ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও মডেল মসজিদ দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় স্থাপন করতে ২০১৭ সালে ৯ হাজার ৪৩৫ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করে সরকার। ইতোমধ্যে ২০২১ সালের ৭ ডিসেম্বর প্রথম পর্যায়ে, ২০২৩ সালের ১৬ জানুয়ারি দ্বিতীয় পর্যায়ে, ২০২৩ সালের ১৬ মার্চ তৃতীয় পর্যায়ে, গত ১৭ এপ্রিল চতুর্থ পর্যায়ে এবং গত ৩০ জুলাই পঞ্চম পর্যায়ে ৫০টি করে মোট ২৫০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ নিয়ে মোট ৩০০টি মডেল মসজিদ চালু হবে।

ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে জানা যায়, প্রতিটি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ৪৩ শতাংশ জমির ওপর তিন ক্যাটেগরিতে নির্মিত হচ্ছে। এর মধ্যে জেলা ও সিটি করপোরেশন পর্যায়ে চারতলা, উপজেলা পর্যায়ে তিনতলা এবং উপকূলীয় এলাকায় চারতলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। ‘এ’ ক্যাটেগরিতে ৬৪টি জেলা শহর ও তিন সিটি করপোরেশনে পাঁচটিসহ মোট ৬৯টি চারতলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মিত হচ্ছে। ‘বি’ ক্যাটেগরিতে উপজেলা পর্যায়ে ৪৭৯টি এবং ‘সি’ ক্যাটেগরিতে উপকূলীয় এলাকায় চারতলাবিশিষ্ট (নিচতলা ফাঁকা) ১৬টি মডেল মসজিদ নির্মাণ করা হচ্ছে। চারতলাবিশিষ্ট প্রতিটি মসজিদে একসঙ্গে ১ হাজার ২০০ মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন। অন্যদিকে, তিনতলাবিশিষ্ট মডেল মসজিদে একত্রে ৯০০ মুসল্লির নামাজের ব্যবস্থা রয়েছে।

মসজিদগুলোতে নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক অজু ও নামাজ কক্ষ, ইমাম প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, হেফজখানা, গণশিক্ষা কেন্দ্র, গবেষণাকেন্দ্র, পাঠাগার, মৃতদেহ গোসলের ব্যবস্থা, জানাজার ব্যবস্থা, হজযাত্রীদের নিবন্ধন, লাইব্রেরি, অটিজম কর্নার, ই-কর্নার, বিদেশি পর্যটকদের আবাসনের ব্যবস্থা থাকবে। এ ছাড়া ইমাম-মুয়াজ্জিনের থাকার ব্যবস্থাসহ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য অফিসের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

আরও পড়ুন

×