ঢাকা বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

ভুয়া খবর ছড়িয়ে শতাধিক সাম্প্রদায়িক সহিংসতা

ভুয়া খবর ছড়িয়ে শতাধিক সাম্প্রদায়িক সহিংসতা

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৩ | ১৮:০০

দেশে গত ১৪ বছরে ভুয়া খবরকে কেন্দ্র করে শতাধিক সাম্প্রদায়িক সহিংসতা হয়েছে। এর মধ্যে ২০১২ সালে কক্সবাজারের রামুতে বৌদ্ধবিহারে হামলা, যুদ্ধাপরাধী দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা উল্লেখযোগ্য। এসব ঘটনার উৎস ছিল ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউবে ছড়ানো নানা রকম ভুয়া খবর। অনেক ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণের আগেই হত্যা, অগ্নিসংযোগসহ সহিংসতার ঘটনা ঘটে। বিভিন্ন মহল স্বার্থসিদ্ধির জন্য এ ধরনের ভুয়া খবর পরিকল্পিতভাবে ছড়িয়ে দেয়।

গতকাল শনিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারের একটি হোটেলে ‘ফেক নিউজ যা মহামারির চেয়েও দ্রুত ছড়ায় : এক নতুন চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উপস্থাপন করা হয়। এমপাওয়ারমেন্ট থ্রো ল অব দ্য কমন পিপল (এলকপ) এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে। এলকপ চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন গবেষক অরূপ রতন সাহা। প্রতিবেদনে বলা হয়, ভুয়া খবর গণতান্ত্রিক পদ্ধতি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থা কমিয়ে দেশের গণতন্ত্রের জন্য হুমকি হয়ে উঠেছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ভারতের অ্যাটর্নি জেনারেল আর ভেঙ্কটরমানি। বক্তব্য দেন আরমা দত্ত এমপি, বিটিভির সাবেক মহাপরিচালক ম. হামিদ, ইন্ডিয়ান ল ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ অধ্যাপক এস সিভাকুমার। সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ব্যারিস্টার তাপস কান্তি বলের সঞ্চালনায় মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন ইঞ্জিনিয়ার আবদুর রাজ্জাক, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক এস এম মাসুম বিল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক ডিন ড. রহমতউল্লাহ, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ বড়ুয়া, সিনিয়র সহকারী জজ কনক বড়ুয়া, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সেলিম সামাদ প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তৃতায় আর ভেঙ্কটরমানি বলেন, ‘প্রযুক্তির এই যুগে যেভাবে বাকস্বাধীনতার নামে গুজব ছড়ানো হয়, তা প্রতিরোধে আমাদের চিন্তাকে ব্যবহার করে সমাজে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। ভুয়া খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যুগের জটিল সমস্যা। প্রতিটি দেশই এখন এই বিষয়টি মোকাবিলা করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে।’

আরমা দত্ত বলেন, ‘ভুয়া খবর বৈশ্বিক

শান্তি-সম্প্রীতি বিনষ্টের প্রধান হাতিয়ার। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মকে ভুয়া খবর বা গুজব সম্পর্কে সচেতন করতে হবে।’

ম. হামিদ বলেন, ‘বিশ্ব প্রেক্ষাপটে ভুয়া খবরের কারণে নানাভাবে আমরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। দেশেও গণমাধ্যমগুলো নিজস্ব স্বার্থে ভুয়া খবর তৈরি করে। এমন কিছু ঘটনায় অনেক গণমাধ্যম সৃষ্টি হয়েছে।’ অধ্যাপক সিভাকুমার ভুয়া খবর বা গুজব ছড়িয়ে পড়ার কয়েকটি কারণ উল্লেখ করেন, যার মধ্যে হলুদ সাংবাদিকতা অন্যতম। তিনি বলেন, ভুয়া খবর বা গুজবের বিষয়ে শুধু আইন করলে হবে না, বরং সবাইকে এ বিষয়ে আরও সচেতন হতে হবে।

আরও পড়ুন

×