ঢাকা শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

ফুটেজ দেখে শতাধিক শনাক্ত

ফুটেজ দেখে শতাধিক শনাক্ত

.

 সমকাল প্রতিবেদক 

প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৩ | ১৯:১৭ | আপডেট: ০৩ নভেম্বর ২০২৩ | ০১:৩৭

বিএনপির সমাবেশের দিন পুলিশকে কুপিয়ে হত্যা, প্রধান বিচারপতির বাসভবনে হামলা এবং একাধিক পুলিশ বক্সে আগুন দেওয়ার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করা হচ্ছে। সিসি ক্যামেরা ও ড্রোন দিয়ে তোলা ফুটেজ দেখে এরই মধ্যে হামলায় অংশ নেওয়া শতাধিক ব্যক্তিকে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। জড়িতদের গ্রেপ্তারে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চলছে। তারা যাতে দেশ ছেড়ে পালাতে না পারে এজন্য স্থল ও বিমানবন্দরগুলোয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে হামলাকারীদের ছবি শনাক্ত করতে সারাদেশের পুলিশের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। সব থানায় ফুটেজ পাঠানো হয়েছে। নাশকতার সঙ্গে যুক্তদের ধরিয়ে দিতে সাধারণ মানুষের সহায়তাও চাচ্ছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ২০-২৫টি দল নয়াপল্টন, কাকরাইল ও বিজয়নগর এলাকায় সিসি ক্যামেরা ও ড্রোনের ফুটেজ যাচাই-বাছাই করছে। হামলাকারীদের মধ্যে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসাধারণ সম্পাদক বাছিরুল ইসলাম খান রানা ও বনানী থানা ছাত্রদলের সহসভাপতি লুৎফর রহমান বাবরকে শনাক্ত করেছে পুলিশ। সমকালের হাতে আসা দুটি ফুটেজে দেখা যায়, রানা ঘটনার দিন সাদা শার্ট আর জিন্স প্যান্ট পরে হাতে লাঠি নিয়ে সমাবেশস্থলে তাণ্ডব চালায়। আরেকটি ফুটেজে দেখা যায়, বাবর সাদা টি-শার্ট আর জিন্স প্যান্ট পরে কাকরাইল মোড়ে পুলিশ বক্সে তাণ্ডব চালায়। এ ছাড়া ২৮ অক্টোবর তিন পুলিশের বেশ কয়েকটি অস্ত্র কেড়ে নেওয়া হয়েছে। কাদের হেফাজতে এসব অস্ত্র রয়েছে, তা নিশ্চিত হতে তদন্ত চলছে। সমকালের হাতে আসা একটি ফুটেজে দেখা যায়– পুলিশের ওপর আক্রমণ করে অস্ত্র কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। 

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা বলছেন, যারা নৈরাজ্য সৃষ্টি করছে তাদের অধিকাংশ বিএনপির নেতাকর্মী। প্রধান বিচারপতির বাসার ফটক ভাঙচুরের ঘটনায় ফুটেজ দেখে শনাক্ত করা হয়েছে তুহিন মিয়া নামে একজনকে। মিরপুর ১২ নম্বর এলাকার বিএনপি নেতা তিনি। এ ছাড়া ঢাকা জেলা পুলিশ কেরানীগঞ্জের কালন্দি ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আপন আহমেদকে পটুয়াখালীর গলাচিপা থেকে গ্রেপ্তার করেছে। কাকরাইল মোড়ে পুলিশের ওপর হামলায় তিনি জড়িত ছিলেন। ঘটনার দিন তিনি শার্ট ও ছাই রঙের প্যান্ট পরিহিত ছিলেন। গণমাধ্যমে প্রচারিত ও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া ফুটেজ দেখে তাঁকে শনাক্ত করা হয়।

ঢাকার পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সমাবেশের আগমুহূর্তে কাকরাইল মোড়ে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যদের ওপর বিএনপির নেতাকর্মী আক্রমণ চালায়। হামলায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন আপন। পরে তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী ঘটনার দিন পরিহিত লাল শার্ট এবং ছাই রঙের প্যান্ট জব্দ করা হয়। চুল-দাড়ি কেটে তিনি আত্মগোপনে ছিলেন। ঘটনার সময় আপনের হাতে লাঠি ছিল। 
এদিকে বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর তিন দিনের অবরোধ কর্মসূচি চলার সময় নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে তিন পুলিশ সদস্যকে কুপিয়ে জখম করা হয়। এতে জড়িত থাকার অভিযোগে গুলশানের একটি পাঁচতারকা হোটেল থেকে ১০ জন বিএনপি নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। তারা সেখানে বৈঠক করে নতুন নকশা করছিল।

গতকাল ভোরে রাজধানী থেকে ১০ জনকে র‍্যাব এবং পটুয়াখালীর গলাচিপা থেকে পুলিশের ওপর হামলাকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ছাড়া গুলশান এলাকা থেকে বিএনপির আরও তিন নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি পুলিশ। 

র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন– নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার থানা বিএনপির সভাপতি ইউসুফ আলী ভুঁইয়া, সাধারণ সম্পাদক জুয়েল আহম্মেদ, যুগ্ম সম্পাদক শফিউদ্দিন ভুইয়া, সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান, সহসভাপতি শাকিল মিয়া, যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান সেলিম, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আরমান মোল্লা, নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুকুল ইসলাম রাজীব ও আড়াই হাজারের মাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুম শিকারী। 

গত মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাঁচরুখী বাজার এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান বিএনপির নেতাকর্মীরা। একপর্যায়ে তিন পুলিশ সদস্যকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করেন তারা। এ ঘটনায় কমপক্ষে ২০ জন আহত হন। এর মধ্যে আহত তিন পুলিশ সদস্য হলেন– পরিদর্শক হুমায়ুন কবির, এএসআই মো. মতিন ও কনস্টেবল মো. নুরুল। 
র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার সহকারী পরিচালক ইমরান খান জানান, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা পুলিশ সদস্যকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় সম্পৃক্ততার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন। তিনি জানান, হামলা ও নাশকতার পর জড়িতরা রাজধানীর গুলশান ও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন পাঁচতারকা হোটেলসহ নামিদামি হোটেলে নিরাপদে আত্মগোপনের জন্য অবস্থান করছেন। এসব স্থান থেকে তারা নাশকতা ও সহিংসতার পরিকল্পনা করছিলেন। এ ছাড়া নাশকতায় সরাসরি অংশগ্রহণ করছিলেন। 

পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, অবরোধে যারা গাড়িতে আগুন ও ভাঙচুর করছে, তাদের শনাক্তও একাধিক দল কাজ করছে। ককটেল তৈরির সঙ্গে জড়িতদের নাম-পরিচয় বের করার চেষ্টা চলছে।  

 

আরও পড়ুন

×