ঢাকা বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

উচ্চশিক্ষায় ভর্তির মূল লড়াই প্রকৌশল ও মেডিকেলে

উচ্চশিক্ষায় ভর্তির মূল লড়াই প্রকৌশল ও মেডিকেলে

.

 সাব্বির নেওয়াজ

প্রকাশ: ২৮ নভেম্বর ২০২৩ | ০০:১৯

সারাদেশে ১০ লাখ ৬৭ হাজার ৮৫২ শিক্ষার্থী এ বছর উচ্চ মাধ্যমিকের চৌকাঠ পেরিয়েছেন। তাদের সামনে এখন বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের হাতছানি, নতুন স্বপ্ন। শুরু হয়ে গেছে প্রস্তুতি। উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এবার আসন সংকট নেই। প্রায় ৭৯ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করার পরও খালি থাকবে ২ লাখ ৬২ হাজার ১৪৮ আসন। তবে সবচেয়ে বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হতে হবে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের। সে ক্ষেত্রে মেডিকেল কলেজ বা প্রকৌশল (ইঞ্জিনিয়ারিং) বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তিতেই হবে মূল লড়াই।

জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীরাই এবার প্রতিযোগিতার অগ্রভাগে থাকবেন। গত রোববার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল ঘোষণা করা হয়। ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৭৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তথ্যমতে, দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, অধিভুক্ত কলেজসহ উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বর্তমানে আসন রয়েছে ১৩ লাখ ২০ হাজার। এর মধ্যে ৩৯টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬০ হাজার, ৯৫টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ লাখ ৩ হাজার ৬৭৫, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮ লাখ ৭২ হাজার ৮১৫, ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধিভুক্ত মাদ্রাসাগুলোতে ৬০ হাজার, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭৭ হাজার ৭৫৬, দুটি আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ৪৪০, মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজে ১০ হাজার ৫০০, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সাত কলেজে ২৩ হাজার ৩৩০, চারটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে ৭২০, ছয়টি টেক্সটাইল কলেজে ৭২০, সরকারি ও বেসরকারি নার্সিং ও মিডওয়াইফারিতে ৫ হাজার ৬০০, ১৪টি মেরিন অ্যান্ড অ্যারোনটিক্যাল কলেজে ৬৫৪, ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ৩ হাজার ৫০০ এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানে ২৯০টি আসন রয়েছে।

শিক্ষাবিদদের মতে, অন্তত ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থী নানা কারণে উচ্চশিক্ষায় ভর্তি হয় না। তারা সরাসরি কর্মজীবনে প্রবেশ করে। ইউজিসির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আলমগীর সমকালকে বলেন, সব শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাবে। তবে পছন্দের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বিষয়ে ভর্তিতে তীব্র প্রতিযোগিতা হবে।

তিনি বলেন, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে দেশের ২০টি সাধারণ ও বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ৬টি কৃষি প্রধান বিশ্ববিদ্যালয়ে গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা হবে। এর বাইরে প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও একই পদ্ধতির ভর্তি পরীক্ষা হবে।

এদিকে এ বছর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একক ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে কিনা, তা এখনও নিশ্চিত নয়।  ইউজিসি একক ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের জন্য সব ধরনের তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে খসড়া গাইডলাইন পাঠানোর পর তা থমকে আছে। তাই চলতি বছর একক ভর্তি পরীক্ষার নেওয়ার চেষ্টা থাকলেও তা শেষ পর্যন্ত সম্ভব নাও হতে পারে।

জানা গেছে, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ভোগান্তি কমাতে একক ভর্তি পদ্ধতি চালু করার অভিপ্রায় জানান সাবেক রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ। এর পর সেটি এ নিয়ে কাজ শুরু হয়। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে ইউজিসি একক ভর্তি পরীক্ষার গাইডলাইনের খসড়া প্রস্তুতের কাজ শুরু করে।

ইউজিসি সচিব ড. ফেরদৌস জামান বলেন, ‘একক ভর্তি পরীক্ষার জন্য আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছি। একটা অর্ডিন্যান্সের জন্য খসড়া মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। তা পাস হলেই বাকি প্রক্রিয়ার দিকে আগাতে পারব।’

এইচএসসির ফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে এক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেছিলেন, একক ভর্তি পরীক্ষা আয়োজন নিয়ে আলাপ-আলোচনা চলছে। চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। শেষ পর্যন্ত এ বছর সম্ভব না হলে আগের নিয়মেই গুচ্ছ পদ্ধতিতেই ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে।

আরও পড়ুন

×