রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের (নিটোর) সাত নার্সকে বদলি করা হয়েছে। নিটোর পঙ্গু হাসপাতাল নামে পরিচিত।

সম্প্রতি নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের এক আদেশে তাদের ঢাকার বাইরে বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বদলি করা হয়। এই সাত নার্সের বদলি নিয়ে হাসপাতালে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে হাসপাতালে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন নার্সরা। 

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও এই সাত নার্সের বদলির বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

নিটোরের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আবদুল গণি মোল্যাহ সমকালকে বলেন, বর্তমানে তিনি ছুটিতে আছেন। সাতজন নার্সকে বদলির বিষয়টি তিনি শুনেছেন। বদলি করা নার্সরা হাসপাতালের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ), অস্ত্রোপচার কক্ষ, জরুরি ও বহির্বিভাগের মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জায়গার ইনচার্জ ছিলেন। গুরুত্বপূর্ণ এসব বিভাগে দায়িত্ব পালন করতে হলে দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার প্রয়োজন হয়। যে কোনো নার্স দিয়ে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব নয়। সুতরাং হাসপাতালের কাঙ্ক্ষিত সেবার জন্য এসব নার্সের প্রয়োজন রয়েছে। কী কারণে অধিদপ্তর তাদের বদলি করেছে, তা তিনি জানেন না বলে জানান। অভিজ্ঞ ও দক্ষ নার্সদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেপে বদলি করা হয়েছে। নিটোরে আইসিইউ, অস্ত্রোপচার কক্ষে যেসব কাজ করে তারা অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা অর্জন করেছিলেন, উপজেলায় সে ধরনের কোনো কাজ নেই। সুতরাং উপজেলায় এ ধরনের নার্সদের বদলি দক্ষ জনবলের অপব্যবহার ছাড়া আর কিছুই নয়। তাদের বদলির কারণে হাসপাতালের সেবা ব্যাহত হচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

গত ৭ জানুয়ারি নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সিদ্দিকা আক্তার স্বাক্ষরিত এক আদেশে নিটোর থেকে সাত নার্সকে বদলি করা হয়। তাদের মধ্যে মো. আলমগীরকে কক্সবাজারের রামু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, শাহনাজ সরকার ও আঁখি বেগমকে ফেনীর সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, শাহনাজ সুলতানাকে একই জেলার ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং সাহিদা পারভীনকে পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, শামীমা আক্তারকে নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং গাজী আমিনুল হককে নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলারেল হাসপাতালে বদলি করা হয়।

হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সদের সূত্রগুলো বলছে, এই সাত নার্সকে বদলির পেছনে কলকাঠি নেড়েছেন হাছনা বেগম নামে হাসপাতালের এক নার্সনেত্রী। তিনি হাসপাতালের দুইজন সেবা তত্ত্বাবধায়ককে ম্যানেজ করে নার্সিং অধিদপ্তরকে দিয়ে এই সাত নার্সকে ঢাকার বাইরে বদলি করেন। এ কারণে হাসপাতালের পরিচালকের অনুমতি ছাড়াই তাদের বদলি করা হয়েছে। রোগী সেবার স্বার্থে হাসপাতালের পরিচালক নার্সদের বদলির আদেশ স্থগিত রাখতে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে অনুরোধ করেছিলেন। এরপরও তা প্রত্যাহার করা হয়নি।

বিষয়টি জানতে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সিদ্দিকা আক্তারকে কয়েক দফা ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

নিটোরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক তড়িৎ কুমার সাহা জানান, নার্সদের বদলির আদেশ প্রত্যাহারের জন্য স্বাস্থ্য সচিব বরাবর আবেদন করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ রোগীর সেবা অব্যাহত রাখতে দ্রুত এই সাত নার্সের বদলির আদেশ প্রত্যাহার করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।