উপহার হিসেবে ভারত সরকার বৃহস্পতিবার করোনার ২০ লাখ ডোজ টিকা পাঠিয়েছে বাংলাদেশকে। অথচ বেশ কিছু সংবাদ মাধ্যম ও বিশিষ্টজনেরা এই টিকা আসার বিষয়ে ছিলেন দারুণ সন্দিহান।

অ্যাসোসিয়েটড প্রেসে (এপি) প্রকাশিত সেরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়ার প্রধান নির্বাহী আদর পূনাওয়ালার এক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে শুরু হয় সেই আলোচনা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কয়েক মাসের জন্য টিকা রপ্তানির অনুমতি দেবে না ভারত সরকার। দেশটির জনগণ যাতে যথাযথভাবে টিকা পায় সে জন্য এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও জানানো হয়। কিন্তু পরবর্তীতে নিজের টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে এ বিষয়ে স্পষ্ট করে তিনি লেখেন, আমাদের যে কোনো দেশে টিকা রপ্তানির অনুমোদন রয়েছে।

টিকা নিয়ে তারপরও চলে আলোচনা, পর্যালোচনা ও সমালোচনা। আলোচনায় বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় কলাম লেখক ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ডা. আসিফ নজরুল তার ফেসবুকে প্রায় ৭ লাখ ২৬ হাজার অনুসারীকে লেখেন, 'বিবিসির আজকের রিপোর্ট  অনুসারে ভারতের বায়োটেকের উৎপাদিত টিকা অনুমোদিত হয়েছে পিয়ার রিভিউ  (ফেজ ১ ও ২ ) ছাড়া এবং অসম্পূর্ণ ফেস থ্রি ট্রায়ালের ভিত্তিতে। এটা তো উদ্বেগজনক! মনে হচ্ছে অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন না দিয়ে শেষে বায়োটেকের ভ্যাকসিন ভারত আমাদেরকে গছিয়ে দেয়ার চেষ্টা করতে পারে। সরকার কি তখন শক্ত থাকবে?'

যদিও তার এমন বক্তব্যের সঠিক কোন ভিত্তি ছিলো না এবং তা মিথ্যা প্রমাণ করে শেষ পর্যন্ত বায়োটেকের টিকা নয়, বরং অক্সফোর্ডের টিকাই পৌঁছালো বাংলাদেশে।

জাতীয় দৈনিক দ্য নিউ এজ-এর সম্পাদক নূরুল কবীর তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ভারত থেকে টিকা সময়মত নাও আসতে পারে এমন ইঙ্গিত দিয়ে লেখেন, 'ভারত আমাদের এত ভালো বন্ধু যে যখন আমাদের নদী বন্যায় প্লাবিত হয় তখন পানি পাঠায়, আর যখন আমাদের কৃষকরা পেয়াজ উৎপাদন করে তখন পেঁয়াজ পাঠায়। আর তারা আমাদের তখন করোনার ভ্যাকসিন সরবরাহে অস্বীকৃতি জানায় যখন আমরা অন্য কোন ব্যবস্থাই রাখিনি। আমাদের এমন অসাধারণ বন্ধুত্ব অচিরেই ত্যাগ করা উচিত।‘

বিশ্ব গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের কিছু অংশকে পুঁজি করে খুব দ্রুততম সময়ে ধারণা প্রসূত এমন ফেসবুক পোস্ট  দিলেও ভারত থেকে অক্সফোর্ডের ভ্যাকসিন দেশে পৌঁছানোর পরও বিষয়টি নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি এই বর্ষীয়ান সাংবাদিক ও লেখক।

এদিকে করোনার টিকা নিয়ে কম টিপ্পনী খেতে হয়নি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে। গত কয়েক মাসে অনেকেই দাবি করেছেন বাংলাদেশে টিকা আনার জন্য কোনও কাজ করছেন না স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

এ বিষয়ে সাংবাদিক ও লেখক সৈয়দ বোরহান কবীর 'টিকা এবং টিপ্পনী' শিরোনামের এক কলামে লেখেন, ‘টিকা নিয়ে আসলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী কী করেছেন যাতে তিনি নিশ্চিত যে ফেব্রুয়ারির শুরুতে আমরা টিকা পাব? এ মুহূর্তে সারা বিশ্বের ১০৭টি দেশে করোনার টিকা প্রদানের কার্যক্রম চলছে। এখানে একটি কথা বলে রাখি, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর একটি ভবিষ্যদ্বাণী সত্য হয়নি। (জ্যোতিষীদের সব ভবিষ্যদ্বাণী সত্য হবে কে বলেছে? দু-একটা সত্য হলেই তার পসার জমে যায়)। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘বিশ্বে করোনার টিকা আসার সঙ্গে সঙ্গে বাংলাদেশ পাবে।’ কিন্তু বাংলাদেশ পাবে বলে ‘আকাশের ঠিকানায় চিঠি’ লিখলে তো আর করোনার টিকা বৃষ্টির অঝোর ধারার মতো ঝরবে না।’

‘করোনার ভ্যাকসিন সঠিক সময়ে বাংলাদেশে পৌঁছাবে না’ অথবা ‘ভ্যাকসিন আনার বিষয়ে বর্তমান সরকার কোনও উদ্যোগই নিচ্ছে না’ বলে এমন ধারণা প্রসূত মন্তব্য দেশের সুশীল সমাজের কাছ থেকে অপ্রত্যাশিত বলে মনে করা হচ্ছে। এ ধরনের কথা দেশ ও জাতিকে বিভ্রান্ত করে বলে এ বিষয়ে মত প্রকাশ করেছেন অনেকেই।