রাজধানীর ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের (ইউল্যাব) শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় প্রধান আসামি মুর্তজা রায়হান চৌধুরী অপরাধের দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। অপরদিকে আসামি নুহাত আলম তাফসীরকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

শনিবার মোহাম্মদপুর থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার সহকারী কর্মকর্তা বিষয়টি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

জানা যায়, শুক্রবার রিমান্ড চলাকালে আসামি মুর্তজা রায়হান চৌধুরীকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এসময় তিনি স্বেচ্ছায় দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিতে রাজি হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। এরপর ঢাকা মহানগর হাকিম সত্যব্রত শিকদার তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

শনিবার নুহাত আলম তাফসীরকে রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করা হয়। এরপর ঢাকা মহানগর হাকিম তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

শুক্রবার অপর আসামি ফারজানা জামান নেহাকেও আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য সাতদিনের রিমান্ডে নিতে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম পাঁচদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর আজিমপুর থেকে ফারজানা জামান নেহাকে গ্রেপ্তার করা হয়। নিহত শিক্ষার্থীর বাবার করা মামলায় তিনি এজাহারভুক্ত আসামি। এ নিয়ে মামলাটিতে মোট তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হলো।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, গত ২৮ জানুয়ারি বিকেলে মর্তুজা রায়হান ওই তরুণীকে নিয়ে মিরপুর থেকে আরাফাতের বাসায় যান। সেখানে স্কুটার রেখে আরাফাত, ওই তরুণী এবং রায়হান একসঙ্গে উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টরের ব্যাম্বুসুট রেস্টুরেন্টে যান। সেখানে আগে থেকেই আরেক আসামি নেহা এবং একজন সহপাঠী উপস্থিত ছিলেন। সেখানে আসামিরা ওই তরুণীকে জোর করে ‘অধিক মাত্রায়’ মদপান করান। মদপানের একপর্যায়ে ভুক্তভোগী তরুণী অসুস্থ বোধ করলে রায়হান তাকে মোহাম্মদপুরে তার এক বান্ধবীর বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে নুহাতের বাসায় নিয়ে তাকে ধর্ষণ করেন। এসময় রায়হানের বন্ধুরাও উপস্থিত ছিলেন।

ধর্ষণের পর রাতে ওই তরুণী অসুস্থ হয়ে বমি করলে রায়হান তার আরেক বন্ধু অসিম খানকে ফোন দেন। সেই বন্ধু পরদিন এসে তরুণীকে প্রথমে ইবনে সিনা এবং পরে আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। দু’দিন লাইফসাপোর্টে থাকার পর তার মৃত্যু হয়।

৩১ জানুয়ারি ওইদিনই চারজনকে আসামি করে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেন নিহত তরুণীর বাবা। মামলায় অজ্ঞাতপরিচয়ের আরও একজনকে আসামি করা হয়েছে।