'একজন বাবা সন্তানের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ আশ্রয়স্থল। অথচ কোনো বাবার কাছেই যদি সন্তান অনিরাপদ হয়, তাহলে সে কোথায় যাবে?' মঙ্গলবার মেয়েকে ধর্ষণের দায়ে এক বাবার বিরুদ্ধে করা মামলার রায় ঘোষণার সময় আদালতের পর্যবেক্ষণে এসব কথা বলা হয়।

ঢাকার সাত নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক কামরুন্নাহার দোষী প্রমাণিত বাবাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। এ ছাড়া ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের জেল দেন।

রাজধানীর বাড্ডা এলাকার কামাল হোসেন তার মেয়েকে ধর্ষণ করে। দণ্ডিত এই আসামির স্থায়ী ঠিকানা খাগড়াছড়ির ভুইপাড়া এলাকার জালিয়াপাড়া গ্রামে।

মামলা সম্পর্কে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও বিশেষ পিপি আফরোজা ফারহানা অরেঞ্জ বলেন, আসামি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। তাই রায়ে তাকে পুরোনো আইনে সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

আসামিপক্ষের আইনজীবী মাহিনুর আক্তার লাইজু বলেন, বিচার চলাকালে বাদী আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছে। এক পর্যায়ে সে তার বাবার সাজা চায় না বলে আদালতে জানিয়েছিল। এ বিষয়ে আদালত বলেছেন, এটি কন্যার মহানুভবতা হতে পারে। তবে রাষ্ট্র এমন ন্যক্কারজনক অপরাধীর ব্যাপারে এত মহানুভব নয়।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ঘটনার আট-নয় বছর আগে ভুক্তভোগীর বাবা-মায়ের মধ্যে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। এর পর থেকে ভুক্তভোগী তার দাদির কাছে থাকত। ডিভোর্সের পর ভুক্তভোগীর বাবা ফের বিয়ে করেন। ২০১৯ সালের এপ্রিল মাসে মেয়েকে নিয়ে তার বাবা রূপনগর আবাসিক এলাকার বস্তিতে যান। এ নিয়ে সৎমায়ের সঙ্গে তার বাবার ঝগড়া হয়। পরে একই বছরের ২ মে মেয়েকেসহ আসামি বাড্ডার আব্দুল্লাহবাগ এলাকায় বাসা ভাড়া নেন। সেই বাসাতেই তার বাবার মাথায় জঘন্য বিকৃতি চেপে বসে।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে বাড্ডা থানায় মামলা করে। মামলাটি তদন্ত করে বাড্ডা থানার এসআই আল-ইমরান আহম্মেদ কামাল হোসেনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০২০ সালের ১২ অক্টোবর আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে আট সাক্ষীর মধ্যে ছয়জন সাক্ষ্য দেন।