অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হয়ে রাখাইন থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের বিষয়ে মিয়ানমারের সামরিক শাসক মিন অং হদ্মাইংয়ের বক্তব্যকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ। সরকার আশা করছে, মিয়ানমার সরকারের এমন মনোভাব রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে ভূমিকা রাখবে। তবে সংশ্নিষ্ট বিশেষজ্ঞরা সেনা শাসকের এ বক্তব্যে খুব বেশি উৎসাহিত না হয়ে বিষয়টিকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দিয়েছেন।
ক্ষমতা দখলের আট দিনের মাথায় গত সোমবার দেওয়া প্রথম ভাষণে মিয়ানমারের নতুন সামরিক শাসক জেনারেল মিন অং হ্লাইং দ্বিপক্ষীয় চুক্তির ভিত্তিতে বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। যদিও অতীতের অন্যান্য শাসকের মতো তিনিও 'রোহিঙ্গা' শব্দটি উচ্চারণ করেননি। ভাষণে জেনারেল মিন বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুত মানুষের কথা উল্লেখ করেছেন। বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের ফেরতের বিষয়ে একটি টুইটবার্তাও শেয়ার করেছেন তিনি। সেখানে বলেছেন, 'আইডিপি ক্যাম্প থেকে অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের পুনর্বাসনের কাজ অবিলম্বে শুরু হবে।' তিনি বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের আবাসস্থল কক্সবাজার ক্যাম্প অথবা ভাসানচরের কথা ভাষণে উল্লেখ করেননি।
মিয়ানমারের সামরিক শাসকের বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন গতকাল মঙ্গলবার সমকালকে বলেন, এটা একটা ভালো খবর। রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন নিয়ে তিনি (জেনারেল মিন) যে কথা বলেছেন আমরা সেটিকে স্বাগত জানাই। তিনি আরও বলেন, মিয়ানমারের নতুন সেনা সরকার এরই মধ্যে যে কাজ করেছে সেটাও প্রশংসার দাবিদার। তাদের প্রতিনিধিরা রাখাইনে অবস্থান করা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের আশ্বস্ত করেছেন। রোহিঙ্গারা তাদের দুঃখের কথা জানিয়েছেন। মিয়ানমার সরকারের প্রতিনিধিরা তাদের আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, পর্যায়ক্রমে সব সমস্যার সমাধান করা হবে। এটাও আমাদের জন্য ভালো খবর।
সাবেক পররাষ্ট্র সচিব মো. তৌহিদ হোসেন সমকালকে বলেন, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে মিয়ানমার সরকারের বক্তব্য অবশ্যই ইতিবাচক। তবে এতে খুব খুশি বা উৎসাহিত হওয়ার কিছু নেই। বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। পরবর্তী বৈঠকের পূর্ব পর্যন্ত মিয়ানমার সরকারের কর্মকাণ্ডের ওপর নজর রাখতে হবে। পরের বৈঠকে মিয়ানমার কী বলে সেটার ওপরই রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের বিষয়টি নির্ভর করছে। তবে নতুন সামরিক সরকার শুরুতে যে মনোভাব দেখাচ্ছে সেটাকে স্বাগত জানানো যেতে পারে।



বিষয় : মিয়ানমারের সেনা শাসকের বক্তব্য ইতিবাচক

মন্তব্য করুন